খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১১-এ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনের তীব্র জ্বালায় প্রাথমিকভাবে ২৫টি বসতি ও একটি এনজিও অফিস সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এই ঘটনায় কেউ হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি, তবে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মো. মোরশেদ হোসেন জানান, রাত সাড়ে ৩টার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত উখিয়া থেকে তিনটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পাশাপাশি কক্সবাজার ও রামু থেকে আরও তিনটি ইউনিট আগুন নেভাতে যোগ দেয়। মোট ছয়টি ইউনিট দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা দোলন আচার্য্য গণমাধ্যমকে বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কাজ চলছে।” তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় ক্যাম্পের বাসিন্দারা আতঙ্কিত হলেও সময়মতো আগুন নেভানোর কারণে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
প্রাথমিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:
| ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা | সংখ্যা/পরিমাণ | পরিস্থিতি ও মন্তব্য |
|---|---|---|
| রোহিঙ্গা বসতি | ২৫টি | সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে |
| এনজিও অফিস | ১টি | ছাই হয়ে গেছে |
| হতাহত ব্যক্তি | ০ | কেউ আহত হয়নি |
| আগুন নিয়ন্ত্রণে ইউনিট | ৬টি | উখিয়া, কক্সবাজার ও রামু থেকে সহায়তা |
| আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় | ≈২ ঘণ্টা | দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় ধ্বংস রোধ হয়েছে |
উখিয়া উপজেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ক্যাম্পে আগুন লাগার মূল কারণ হিসেবে বৈদ্যুতিক লাইন ও অব্যবস্থাপনা সম্ভাব্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রশাসন এখন ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ হিসাব ও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য জরুরি পরিকল্পনা প্রণয়ন করছে।
ক্যাম্পের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মধ্যরাতে অগ্নিকাণ্ডের ফলে তাদের ঘুম ভেঙে যায় এবং তারা আতঙ্কিত হয়ে ছুটে আসে। স্থানীয় এনজিওগুলো ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের জন্য খাদ্য ও সাময়িক আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে শুরু করেছে।