খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে অঘটনের জন্ম দেওয়া জিম্বাবুয়ের জন্য নতুন কিছু নয়। ২০০৭ সালে বিশ্বকাপের প্রথম আসরেই রিকি পন্টিংয়ের শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ক্রিকেট বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল তারা। তবে কেপটাউনের সেই হার অজিদের অগ্রযাত্রায় বাধা হতে পারেনি। কিন্তু ২০২৬ সালের এই আসরে কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের কাছে ২৩ রানের হার অস্ট্রেলিয়াকে এক চরম অস্তিত্ব সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। একের পর এক চোট আর পয়েন্ট টেবিলের জটিল সমীকরণে অজিদের সুপার এইট যাত্রা এখন ঘোর অনিশ্চয়তার আবর্তে।
‘বি’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে জিম্বাবুয়ের দেওয়া লক্ষ্য তাড়া করতে ব্যর্থ হয়ে অস্ট্রেলিয়া এখন টেবিলের তৃতীয় অবস্থানে। শীর্ষ দুইয়ে থাকা শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ে—উভয় দলই টানা দুই জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, ২ ম্যাচে মাত্র ১টি জয় নিয়ে অজিদের সংগ্রহ ২ পয়েন্ট। সুপার এইটে যেতে হলে অস্ট্রেলিয়াকে তাদের বাকি দুটি ম্যাচে (শ্রীলঙ্কা ও ওমান) অবশ্যই জিততে হবে। কিন্তু কেবল জয়ই যথেষ্ট নাও হতে পারে; কারণ গ্রুপের শীর্ষ তিন দলের পয়েন্ট সমান হয়ে গেলে রান রেটের মারপ্যাঁচে কপাল পুড়তে পারে মিচেল মার্শদের দলের।
নিচে ‘বি’ গ্রুপের বর্তমান পয়েন্ট তালিকার চিত্র তুলে ধরা হলো:
| অবস্থান | দল | ম্যাচ | জয় | হার | পয়েন্ট | নেট রান রেট |
| ১ | শ্রীলঙ্কা | ২ | ২ | ০ | ৪ | +৩.১২৫ |
| ২ | জিম্বাবুয়ে | ২ | ২ | ০ | ৪ | +১.৯৮৪ |
| ৩ | অস্ট্রেলিয়া | ২ | ১ | ১ | ২ | +১.১০০ |
| ৪ | আয়ারল্যান্ড | ২ | ০ | ২ | ০ | -২.১৭৫ |
| ৫ | ওমান | ২ | ০ | ২ | ০ | -৪.৩০৬ |
অস্ট্রেলিয়ার এই বিপর্যয়ের মূল কারণ মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়েও বেশি খেলোয়াড়দের শারীরিক অসুস্থতা বা চোট। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই দলের প্রধান দুই পেসার প্যাট কামিন্স ও জস হ্যাজলউড ছিটকে যাওয়ায় বোলিং বিভাগ দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এর ওপর মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে যোগ হয়েছে অধিনায়ক মিচেল মার্শের চোট। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে মার্শ খেলতে না পারায় নেতৃত্বের ভার সামলাতে হয় ট্রাভিস হেডকে।
সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে অলরাউন্ডার মার্কাস স্টয়নিসের চোট। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বোলিং করার সময় আঙুলে আঘাত পেয়ে তিনি মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। পরে ব্যথানাশক নিয়ে সাত নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামলেও মাত্র ৬ রানে সাজঘরে ফেরেন। স্টয়নিস যদি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলতে না পারেন, তবে সেটি হবে অস্ট্রেলিয়ার কফিনে শেষ পেরেক। ২০২১ সালের বিশ্বকাপ জয়ে এবং পরবর্তী আসরগুলোতে তাঁর বিধ্বংসী স্ট্রাইক রেট ও ফিনিশিং দক্ষতা অজিদের ব্যাটিং লাইনআপের প্রাণশক্তি ছিল।
আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি পাল্লেকেলেতে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া। এই ম্যাচটি কার্যত অজিদের জন্য ‘অঘোষিত নক-আউট’। শ্রীলঙ্কার স্পিন বান্ধব উইকেটে ইনজুরি জর্জরিত একটি দল নিয়ে জয় ছিনিয়ে আনা হিমালয় জয়ের সমান কঠিন হবে। ধারাভাষ্যকার অ্যারন ফিঞ্চের মতে, অস্ট্রেলিয়া এখন এতটাই নাজুক অবস্থায় আছে যে তারা নতুন কোনো চোট সইবার ক্ষমতা রাখে না।
২০২১ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর গত দুই আসরে সেমিফাইনালের মুখ দেখেনি অস্ট্রেলিয়া। এবার পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার শঙ্কা প্রবল। অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি এবং জিম্বাবুয়ের মতো উদীয়মান শক্তির কাছে হার প্রমাণ করে যে, বিশ্ব ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার একচ্ছত্র আধিপত্য এখন হুমকির মুখে। ১৬ ফেব্রুয়ারির অগ্নিপরীক্ষায় তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।