খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
চট্টগ্রামের চন্দনাইশে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বাগিচাহাট এলাকায় আজ শনিবার সকাল ১০:৩০-এর দিকে একটি যাত্রীবাহী বাস ও পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এ ঘটনায় বাসটির চালক এবং তাঁর সহকারী আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ঈগল পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি বাগিচাহাট এলাকায় পৌঁছানোর সময় একটি পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের প্রভাবে পিকআপ ভ্যানটি উল্টে যায় এবং বাসটির সামনের অংশ গুরুতরভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
দুর্ঘটনায় বাসের যাত্রীরা গুরুতরভাবে আহত হননি এবং সবাই নিরাপদে রক্ষা পেয়েছেন। আহত চালক ও সহকারীকে স্থানীয় একটি বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে, এবং তাদের চিকিৎসা চলমান রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার সময় বাসটি তুলনামূলকভাবে দ্রুতগতিতে চলছিল, তবে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় যাত্রীরা গুরুতর আঘাত থেকে বেঁচে গেছেন।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহ উদ্দিন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, “ঈগল পরিবহন নামে যাত্রীবাহী বাসটি এবং সংঘর্ষে ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যানটি জব্দ করা হয়েছে। আমরা দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য তদন্ত শুরু করেছি।” তিনি আরও বলেন, “চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে নিয়মিত যানজট এবং দ্রুতগতির যানবাহনের কারণে এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, চন্দনাইশের বাগিচাহাট ও আশেপাশের এলাকায় সড়কটি ঘন বস্তি এবং ব্যবসায়িক এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় যানজট এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি। এছাড়া মহাসড়কের বেশিরভাগ অংশে পর্যাপ্ত ট্রাফিক সাইনবোর্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেই। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ জনগণকে সতর্ক থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছে এবং সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চলমান প্রচেষ্টা জোরদার করেছে।
| দুর্ঘটনা স্থান | সময় | যানবাহন | আহত | অবস্থা |
|---|---|---|---|---|
| বাগিচাহাট, চন্দনাইশ | ১০:৩০ এএম | যাত্রীবাহী বাস, পিকআপ ভ্যান | ২ (চালক ও সহকারী) | গুরুতর নয়, চিকিৎসাধীন |
স্থানীয়রা আশা করছেন যে পুলিশ ও পরিবহন কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ এবং ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা পার হওয়ার সময় গাড়িচালকদের সতর্ক হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
চন্দনাইশের এই দুর্ঘটনা আবারও স্বরূপান্তরিত করে যে, মহাসড়কে সড়ক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উন্নতি না হলে, ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ এই বিষয়গুলো নিয়ে নজরদারি বাড়াতে শুরু করেছে।