খবরওয়ালা আন্তরজাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 24শে ফাল্গুন ১৪৩১ | ৮ই মার্চ ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
শান্তিতে নোবেলজয়ী মানবাধিকারকর্মী মালালা ইউসুফজাই ১৩ বছর পর প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সোয়াত উপত্যকার শাংলায়ে নিজ গ্রামে ফিরেছেন। তবে নিরাপত্তার কারণে তার এ সফর ছিল সম্পূর্ণ গোপনীয়। ২০১২ সালে ওই প্রদেশেরই সোয়াত জেলায় তালেবান গোষ্ঠীর একটি প্রাণঘাতী হামলায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর সৌভাগ্যজনকভাবে তিনি বেঁচে গিয়েছিলেন।
শুক্রবার (৭ মার্চ) যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, গত বুধবার (৫ মার্চ) একটি গোপন সফরে এবং উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত হয়ে নিজের এলাকায় যান। সেখানে তিনি আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করেন, ঘুরে বেড়ান এবং একটি কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় কাটান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি শেয়ার করে মালালা জানান, দীর্ঘ এক যুগ পর নিজ শহরে ফিরে তিনি আনন্দ অনুভব করছেন। তিনি লিখেছেন, ‘ছোটবেলায় আমি প্রতিটি ছুটি শাংলায় কাটাতাম, নদীর ধারে খেলতাম এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতাম।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘১৩ বছর পর আবার ফিরে এসে পাহাড়ঘেরা পরিবেশে আত্মীয়দের সঙ্গে হাস্য-রসে মেতে উঠতে পারাটা সত্যিই আনন্দের।এই স্থানটি আমার হৃদয়ের খুব কাছের এবং আমি বারবার এখানে ফিরে আসতে চাই।’
২০১২ সালের অক্টোবরে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মিংগোরার সোয়াত ভ্যালি থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল মালালাকে। স্কুল বাসে থাকা অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন তিনি। তারপর চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে নেওয়া হয়েছিল তাকে, সেরে ওঠার পর সেদেশেই থেকে যান।
দুই বছর পর ২০১৪ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি ভারতীয় শিশু অধিকারকর্মী কৈলাশ সত্যার্থীসহ যৌথভাবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান।
গত ১৩ বছরে পাকিস্তানে মালালা কয়েকবার গেলেও, নিজের গ্রামে এবারই প্রথম গেলেন। হেলিকপ্টারে করে তিনি গ্রামে পৌঁছান। এসময় আশেপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়। কিছু এলাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এসময় তার সঙ্গে বাবা ও স্বামী ছিলেন।
একজন সরকারি কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থা এএফপিকে জানান, মালালার সফরটি সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়েছিল, যাতে কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা না ঘটে। এমনকি স্থানীয় বাসিন্দারাও তাঁর আগমনের বিষয়ে জানতেন না।
মালালা বারকানা গ্রামে তাঁর আত্মীয়দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি কলেজ পরিদর্শন করেন। এই কলেজে মেয়েদের বিনা মূল্যে শিক্ষা দেওয়া হয়। পুলিশ কর্মকর্তা আমজাদ আলম খান জানান, মালালা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন, ক্লাস পরিদর্শন করেন এবং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য অধ্যবসায়ের আহ্বান জানান। ‘মালালা ফান্ডের’ মাধ্যমে ওই কলেজে বিনা মূল্যে উচ্চমানের শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
পাকিস্তানের বান্নু এলাকায় সামরিক ছাউনিতে দুটি আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক ও পাঁচজন নিরাপত্তা কর্মীর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান মালালা।মালালা বলেন, ‘আমাদের সুন্দর দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আমি প্রার্থনা করি। বান্নুর সাম্প্রতিক হামলাসহ এসব ঘটনা হৃদয়বিদারক। আমি নিহতদের পরিবারকে সমবেদনা জানাই এবং আমার দেশের প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তার জন্য প্রার্থনা করি।
খবরওয়ালা/এসআর