খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় স্থানীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সহিংস সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) নগর ইউনিয়নের ধানাইদহ বাজার এলাকায় সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা হস্তক্ষেপ করেন। সংঘর্ষের পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলেও অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।
আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৪ নম্বর নগর ইউনিয়নের আমির মাওলানা মো. হাসিনুর রহমান। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, সংঘর্ষ চলাকালে ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা ব্যবহৃত হয়। আহত হাসিনুর রহমানকে প্রথমে বনপাড়া শহরের আমিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর মাথা ও শরীরের একাধিক স্থানে আঘাত রয়েছে; তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর জীবনহানি আশঙ্কা নেই।
বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সালাম ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় আগের দিনের একটি ঘটনায়। শুক্রবার বিকেলে ধানাইদহ বাজারে নির্বাচনকেন্দ্রিক বিরোধকে ঘিরে জামায়াত কর্মী সাব্বিরকে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন কর্মী মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার জেরে শনিবার সকালে জামায়াতের কিছু কর্মী বিএনপি নেতা আসাব সরকারকে মারধর করেন। পাল্টাপাল্টি হামলার পর উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা দলবদ্ধভাবে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন, যা দ্রুত বাজার এলাকার স্বাভাবিক ব্যবসা-বাণিজ্যকে ব্যাহত করে।
পুলিশ জানায়, সংঘর্ষে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু হয়েছে। এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের না করলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসন সতর্ক করেছে। স্থানীয় প্রশাসন উভয় দলের নেতাদের সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলে সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনে আইন মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে।
এ ধরনের সহিংসতা স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয় এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে বিঘ্নিত করে। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী প্রসঙ্গকে কেন্দ্র করে তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়লে ছোটখাটো ঘটনার সূত্র ধরে বড় সংঘর্ষে রূপ নেওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই দলীয় নেতৃত্বের দায়িত্বশীল ভূমিকা ও প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপই পারে এমন সহিংসতা প্রতিরোধ করতে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| স্থান | ধানাইদহ বাজার, নগর ইউনিয়ন, বড়াইগ্রাম |
| তারিখ | ১৪ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) |
| সংশ্লিষ্ট পক্ষ | বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী |
| গুরুতর আহত | মাওলানা মো. হাসিনুর রহমান |
| প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র | বনপাড়া আমিনা হাসপাতাল |
| উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্র | রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল |
| সংঘর্ষের কারণ (প্রাথমিক তথ্য) | নির্বাচনকেন্দ্রিক বিরোধ ও পাল্টা হামলা |
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়েছে এবং উসকানিমূলক বক্তব্য বা কর্মসূচি এড়াতে উভয় পক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে।