খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মাথার ওপরেই ঝুলছিল ফাঁসির দড়ি, অথচ ভাগ্য তাদের অন্য পথ দেখালো। দীর্ঘ কারাভোগ, মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি এবং বছরের পর বছর আড়ালভোগের পর বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন নেতা এবার নির্বাচনী মাঠে প্রবেশ করেছেন বিপুল ভোটের বিজয়ী হিসেবে। ২০০৪ ও ২০০৫ সালের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তারা আজ সংসদে নিজেদের আসন নিশ্চিত করেছেন।
| নাম | দল | মামলা/দণ্ড | কারাভোগের সময় | নির্বাচনী এলাকা | ভোট ব্যবধান |
|---|---|---|---|---|---|
| লুৎফুজ্জামান বাবর | বিএনপি | ২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলা | ১৮ বছর | নেত্রকোনা | +১,২০,০০০ |
| আবদুস সালাম পিন্টু | বিএনপি | ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা | ১৭ বছর | টাঙ্গাইল-গোপালপুর-ভূঞাপুর | ~২,০০,০০০ |
| এটিএম আজহারুল ইসলাম | জামায়াত | মানবতাবিরোধী অপরাধ | ১১ বছর | রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) | বিপুল ভোটে জয়ী |
লুৎফুজ্জামান বাবর ২০০৭ সালে গ্রেপ্তার হন। সেই সময় একদিনের জন্যও জামিন মেলেনি তার। ১৮ বছর ধরে কারাগারের অন্ধকারে কাটানো তার জীবন ফিরে আসে ১৬ জানুয়ারি, যখন তিনি মুক্ত হন। পরে নেত্রকোনার নিজের নির্বাচনী এলাকা থেকে ধানের শীষ প্রতীকে অংশ নেন এবং এক লাখ ২০ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হন।
আবদুস সালাম পিন্টুও একই পথ পেরেছেন। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর কারাভোগের পর ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর মুক্তি পান। জন্মস্থান টাঙ্গাইলে ফিরে নির্বাচনে অংশ নেন এবং প্রায় দুই লাখ ভোটে বিজয়ী হন।
এটিএম আজহারুল ইসলাম জামায়াতের শীর্ষ নেতা হিসেবে রংপুর-২ আসনে বিজয়ী হন। ২০০৯ সালে গ্রেপ্তার হওয়া এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তার ১১ বছরের কারাভোগ শেষ হয় ২৮ মে, যখন তিনি মুক্ত হন। এরপর ভোটের মাঠে প্রবেশ করে বিপুল ভোটে জয়ী হন।
এই ঘটনার প্রতিফলন শুধু রাজনৈতিক নয়; এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল নজির। যে নেতারা মৃত্যুর সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন, আজ তারা ভোটের শক্তিতে সংসদে প্রবেশ করেছেন। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই ফলাফল প্রমাণ করে রাজনৈতিক পুনর্গঠন এবং মানুষের মনোভাবের পরিবর্তন কতটা গভীরভাবে ঘটতে পারে।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে এই ঘটনা একটি ‘বিপ্লবী অধ্যায়’ হিসেবে চিহ্নিত হবে, যেখানে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত নেতারা আবারও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনমত ও নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে সক্ষম হয়েছেন।