খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহিম ভুট্টো (৪৫) শ্বাসরোধকারী আক্রমণের শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন। ঘটনা ঘটেছে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত প্রায় ১০টার দিকে নজরুলনগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড, কলেরহাট সড়কের মাথায়।
নিহত আব্দুর রহিম ভুট্টো একই এলাকার মৃত আখতারুজ্জামান সোহেলের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি এলাকার সামাজিক ও সাংগঠনিক কাজে সক্রিয় ছিলেন।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মাদক ব্যবসা বা স্থানীয় সংঘাতের কারণে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্বৃত্তরা রাতে আব্দুর রহিমকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। গুরুতর অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন সরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসেন, তবে চিকিৎসকরা হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চরফ্যাশন সরকারি হাসপাতালে জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, “আনতে আসার আগেই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি অত্যন্ত নির্মম এবং গভীরভাবে তদন্তের দাবি রাখে।”
শশীভূষণ থানার ওসি ফখরুল ইসলাম জানিয়েছেন, “হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। অভিযুক্তদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা স্থানীয় জনগণকে সান্ত্বনা দিচ্ছি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছি।”
পুলিশের ধারণা অনুযায়ী, আব্দুর রহিম ভুট্টোকে হত্যার পেছনে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ব্যক্তিগত মনমালিন্য ও মাদক সংক্রান্ত বিরোধিতার সম্ভাবনা রয়েছে। এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং তারা প্রশাসনের প্রতি দ্রুত বিচার দাবি জানিয়েছেন।
নিম্নে ঘটনার মূল তথ্যগুলো সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নিহতের নাম | আব্দুর রহিম ভুট্টো |
| বয়স | ৪৫ বছর |
| পেশা/পদবী | রসুলপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক |
| মৃত পিতা | আখতারুজ্জামান সোহেল |
| স্থান | নজরুলনগর ইউনিয়ন, কলেরহাট সড়ক, চরফ্যাশন, ভোলা |
| সময় | ১৪ ফেব্রুয়ারি, রাত ১০টা |
| কারণ (প্রাথমিক) | মাদক বা স্থানীয় বিরোধ |
| হাসপাতালে মৃত্যু | হাসপাতালে আনার আগেই মৃত ঘোষণা |
| তদন্তকারী থানা | শশীভূষণ থানা |
| তদন্তকারীর মন্তব্য | অভিযুক্ত শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে |
এ ঘটনায় স্থানীয় সমাজ ও রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং হত্যাকারীদের আইনের আওতায় আনার জন্য তৎপর রয়েছে।