খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় রোববার রাতে একটি স্পিনিং মিলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, আগুনে প্রায় সাত কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ঘটনা ঘটে নিশিন্দা এলাকার বাশার স্পিনিং মিল-এ। স্থানীয় সময় রাত ১০:৪৫–১১টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। বাশার স্পিনিং মিলের জিএম স্বপন আহমেদ জানান, কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হলো তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি, তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে আগুন লেগেছে। কারখানায় মোট ৬৩০ জন শ্রমিক কাজ করেন।幸
অগ্নিকাণ্ডের কারণে উৎপাদিত পণ্য, মেশিনারিজ এবং বিভিন্ন সরঞ্জাম পুড়ে গেছে। কারখানার বর্তমান অবস্থা এমন যে এটি অস্থায়ীভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হয়েছে।
ভালুকা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আতিকুর রহমান জানান, রাত ১১টার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। ফায়ার সার্ভিসের ৭টি ইউনিট প্রায় আড়াই ঘণ্টা চেষ্টা চালানোর পর আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।
ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দীও কারখানা পরিদর্শন করেন এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং ভবিষ্যতের জন্য অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্ত করার নির্দেশ দেন।
অগ্নিকাণ্ডের প্রাথমিক তথ্য এবং ক্ষয়ক্ষতি সংক্রান্ত বিশদ বিবরণ নিম্নের টেবিলে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| কারখানার নাম | বাশার স্পিনিং মিল, নিশিন্দা, ভালুকা |
| আগুনের সময় | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, রাত ১০:৪৫–১১টা |
| শ্রমিক সংখ্যা | ৬৩০ জন |
| ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ | প্রায় ৭ কোটি টাকা |
| ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদ | উৎপাদিত পণ্য, মেশিনারিজ, সরঞ্জামাদি |
| ফায়ার সার্ভিস ইউনিট | ৭টি ইউনিট, আড়াই ঘণ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণ |
| দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা | পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী (উপপরিচালক ভারপ্রাপ্ত) |
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আগুনের সময় ধোঁয়া ও আগুনের জ্বলন এত ভয়াবহ ছিল যে আশেপাশের এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। তারা কারখানার শ্রমিক ও আশেপাশের মানুষদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, আগামি দিনে এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কারখানায় সঠিক বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থার তত্ত্বাবধান জরুরি।
এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও প্রভাব পড়বে বলে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, কারণ মিলটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার শ্রমিকদের জন্য কর্মসংস্থানের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে।