খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সাড়ে ছয় বছরের পর আবার নতুন আঙ্গিকে সঙ্গীতপ্রেমীদের মন জয় করতে ফিরেছে স্বাধীন রক ব্যান্ড সোনার বাংলা সার্কাস। ২০২০ সালে প্রকাশিত “হায়েনা এক্সপ্রেস”-এর দীর্ঘ বিরতির পর, গত মাসে তারা দুইটি স্টুডিও অ্যালবাম নিয়ে হাজির হয়েছে, যার মধ্যে মোট ১৭টি গান অন্তর্ভুক্ত।
নতুন অ্যালবাম দুটির নাম “মহাশোষণ ১” এবং “মহাশোষণ ২”। এই অ্যালবামগুলো শুধু কানে মিষ্টি লাগার মতো সুর প্রদান করে না, বরং ব্যান্ডের পরিচিত ধরনকে ধরে রাখে—সঙ্গীত যা চিন্তাকে জাগায়, অস্থির করে এবং দর্শককে গভীরভাবে ভাবতে বাধ্য করে। ব্যান্ডের চার সদস্যের মধ্যে তিনজন—প্রবার রিপন, শাকিল হক এবং সাদ চৌধুরী—দ্যা ডেইলি স্টার-এর অফিসে উপস্থিত হয়ে অ্যালবাম নিয়ে আলাপ শুরু করেন। এই আলাপ দ্রুত অ্যালবামের সীমা অতিক্রম করে, এবং আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে সঙ্গীতের মূল থেকে সৃষ্টিশীলতা, কেন তারা প্রচলিত বাংলাদেশি রক ধারাকে ছাপিয়ে যায়, এবং “বাংলা ফাঙ্ক” তৈরির অর্থ কী।
বিদেশে থাকা ব্যান্ডমেট, ইলেকট্রিক গিটারিস্ট সেথ পাণ্ডুরাঙ্গা ব্লুমবার্গ (পান্ডু), ক্যালিফোর্নিয়া থেকে সংযোগ স্থাপন করে আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেন।
প্রবার রিপন নতুন অ্যালবামের সময়সীমা ও ধারণা ব্যাখ্যা করেন। “আমাদের নতুন অ্যালবাম তৈরি হতে প্রায় তিন বছর লেগেছে। কারণ এটি একটি দ্বিগুণ অ্যালবাম, ১৭টি গান নিয়ে, এবং সঙ্গীত বিন্যাস বিস্তৃত,” তিনি বলেন। “হায়েনা এক্সপ্রেস”-এর তুলনায় এখানে প্রচুর নতুন উপাদান রয়েছে—ঢোল, বেহাল, ভায়োলিনসহ বহু ইন্সট্রুমেন্টাল লেয়ার।
পান্ডু এ নিয়ে বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গীত নদীর মতো গভীর ও ফাঙ্কি। এর শব্দ, দর্শন, সঙ্গীতশিল্পী—সবই মানবতার অমূল্য ধন। আমি এই সঙ্গীতের গভীরতা এবং রিদমে মুগ্ধ।”
অ্যালবামের প্রস্তুতি ধীর হওয়ায় আরেকটি কারণ হলো ব্যান্ডের নিয়মিত কনসার্ট—প্রতি মাসে প্রায় ১২টি—and দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি।
সোনার বাংলা সার্কাসকে অন্যান্য ব্যান্ড থেকে আলাদা করে তাদের সচেতন প্রয়াস, প্রচলিত রক কাঠামোকে ভেঙে নতুন শৈলী তৈরি করা। প্রবার রিপন বলেন, “এটি প্রায় লিরিক্যাল মিউজিক থিয়েটার বা অপেরার মতো। আমাদের সাইকেডেলিক ধরণ শুরু থেকেই আলাদা।”
সাদ চৌধুরী যোগ করেন, “সঙ্গীতই আমাদের সংযোগের প্রধান মাধ্যম। ভাষা না বোঝার পরও আমি সঙ্গীতের মাধ্যমে সহমর্মিতা অনুভব করি।” শাকিল হক আরও যোগ করেন, “পান্ডু, রিপন, সাদ—এই বন্ধন ব্যান্ডের আগেও গড়ে উঠেছিল। সেই দীর্ঘ পরিচয় স্বাভাবিকভাবেই সঙ্গীতের রাসায়নিকতা তৈরি করেছে।”
নিচের টেবিলে নতুন অ্যালবামের সংক্ষিপ্ত তথ্য দেওয়া হলো:
| অ্যালবাম | ট্র্যাক সংখ্যা | প্রধান যন্ত্র | প্রকাশের বছর | সময়সীমা (প্রস্তুতি) |
|---|---|---|---|---|
| মহাশোষণ ১ | ৯ | গিটার, ঢোল, ভায়োলিন, কিবোর্ড | ২০২৬ | ৩ বছর |
| মহাশোষণ ২ | ৮ | গিটার, ঢোল, ভায়োলিন, কিবোর্ড | ২০২৬ | ৩ বছর |
শাকিল হক আরও দর্শনীয় মন্তব্য করেন, “জন্ম-মৃত্যু অনিবার্য, তবে আমরা সেগুলোকে উদযাপন বা শোকের অংশ হিসেবে দেখি। আমাদের অ্যালবাম এই অভিজ্ঞতার সার্বজনীনতাকে তুলে ধরে।”
এছাড়া ব্যান্ডের সদস্যরা এআই নিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেন। সাদ চৌধুরী বলেন, “এআই মানবিক অনুভূতিকে বদলাতে পারবে না।” পাণ্ডু যোগ করেন, “আমি এটিকে সহকারী হিসেবে ব্যবহার করি, সৃষ্টিশীলতা নয়।”
শেষে, প্রবার রিপন বলেন, “আমরা বাস্তবকে দৃষ্টিভঙ্গির মতো দেখাই—যা অস্বস্তিকর হলেও তা সত্য।” সোনার বাংলা সার্কাসের সঙ্গীত তাই কেবল আনন্দ নয়, বরং দর্শককে বাস্তবতার সঙ্গে সংযুক্ত করে, গভীর চিন্তায় নিমজ্জিত করে।
এভাবে “মহাশোষণ” ব্যান্ডের সৃষ্টিশীলতা, বৈচিত্র্য এবং সাংস্কৃতিক গভীরতার নতুন অধ্যায় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।