খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে আবারও মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ এবং ইংলিশ ফুটবল লীগ। মুসলিম খেলোয়াড়দের রোজা ভাঙার সুযোগ করে দিতে ম্যাচ চলাকালে স্বল্প সময়ের জন্য খেলা থামানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ধর্মীয় অনুশাসন পালনে খেলোয়াড়দের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পাশাপাশি বহুসাংস্কৃতিক সমাজব্যবস্থার প্রতিফলন ঘটছে ইংলিশ ফুটবলে।
রমজান মাসে মুসলমানরা সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকেন। যুক্তরাজ্যে মার্চ-এপ্রিল সময়ে সূর্যাস্ত সাধারণত বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে হয়ে থাকে, যা ভৌগোলিক অবস্থান ও তারিখভেদে কিছুটা পরিবর্তিত হয়। ফলে শনিবার বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট কিংবা রোববার সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়া ম্যাচগুলোতে সূর্যাস্তের সময় পড়লে রেফারির অনুমতিতে সাময়িক বিরতি দেওয়া হতে পারে।
লিগ কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, এই বিরতিকে কৌশলগত টাইম-আউট বা দলীয় আলোচনা পর্ব হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। বরং খেলার স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রেখে সুবিধাজনক মুহূর্তে—যেমন থ্রো-ইন, গোলকিক বা ফাউলের পর—খেলা কয়েক সেকেন্ডের জন্য থামানো হবে। দলীয় অধিনায়ক ও ম্যাচ কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের দ্রুত ইফতার করার সুযোগ করে দেবেন, সাধারণত পানি ও খেজুর গ্রহণের মাধ্যমে।
প্রিমিয়ার লিগে আনুষ্ঠানিকভাবে এ উদ্যোগ প্রথম চালু হয় ২০২১ সালে। ওই বছরের এপ্রিলে লেস্টার সিটি এফ.সি. ও ক্রিস্টাল প্যালেস এফ.সি.–এর ম্যাচে লেস্টারের ওয়েসলি ফোফানা এবং প্যালেসের চেইখৌ কৌয়াতে ইফতারের জন্য স্বল্প বিরতি পান। সেই সিদ্ধান্ত ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায় এবং পরবর্তী মৌসুমগুলোতেও তা অনুসৃত হচ্ছে।
বর্তমানে প্রিমিয়ার লিগে বেশ কয়েকজন শীর্ষ মুসলিম ফুটবলার নিয়মিত খেলছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মোহাম্মদ সালাহ, উইলিয়াম সালিবা, রায়ান আইত-নুরিএবং আমাদ দিয়ালো। তাঁদের অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দলের নির্ভরযোগ্য ভরসা, ফলে রমজানকালীন শারীরিক প্রস্তুতি ও পুষ্টি ব্যবস্থাপনা ক্লাবগুলোর জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
নিচে রমজান উপলক্ষে ম্যাচ পরিচালনার প্রধান নির্দেশনাগুলো তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | নির্দেশনা |
|---|---|
| বিরতির ধরন | স্বল্প সময়ের জন্য খেলা স্থগিত |
| উদ্দেশ্য | মুসলিম খেলোয়াড়দের ইফতারের সুযোগ দেওয়া |
| সময় নির্ধারণ | সূর্যাস্তের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে |
| ব্যবহার সীমাবদ্ধতা | কৌশলগত টাইম-আউট হিসেবে ব্যবহার নিষিদ্ধ |
| সমন্বয়কারী | ম্যাচ রেফারি ও দলীয় অধিনায়ক |
বিশ্ব ফুটবলে অন্তর্ভুক্তি ও বৈচিত্র্য এখন গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগগুলোর এই পদক্ষেপ শুধু মুসলিম খেলোয়াড়দের ধর্মীয় অধিকারকে সম্মান জানানোই নয়, বরং বৈশ্বিক দর্শকদের কাছেও ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয়—খেলাধুলা কেবল প্রতিযোগিতা নয়, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতারও মঞ্চ।