খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 29শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ১৩ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেছেন, সকল রাজনৈতিক সংগঠনের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল সরকারের পরিচয় দিয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের কাজের মধ্যে কোনো দৃঢ়তা কখনো দেখা যায়নি।
বুধবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের আয়োজনে তিনি বলেন, ভোলাগঞ্জ সাদা পাথরের ঘটনার মাধ্যমে দেখা গেছে, অনুমতি ছাড়াই পাথর নেওয়ার কারণে এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ওইখানে আমাদের আর্মি, পুলিশ, র্যাব ও দেশের পরিবর্তনের নায়করাও প্রতিবাদ করেননি। কাজ শেষ হওয়ার পর তারা আওয়াজ তুলছেন।
নুর আরও বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের সময় ছাত্র নেতারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসে নি। এবার তরুণদের প্রতিনিধিত্বমূলক অন্তর্বর্তী সরকারে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, যাতে যুবকদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করা যায়। কিন্তু এক বছরের কার্যক্রমে দেশের মানুষ এখনও তাদের প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখেনি।
তিনি বলেন, অ্যানালগ নেতাদের দিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠন সম্ভব নয়। যারা ফেইসবুক লগইন করতে তিনবার পাসওয়ার্ড ভুল করে, তাদের দিয়ে ডিজিটাল দেশ পরিচালনা করা সম্ভব নয়।
‘জুলাই বিপ্লবে জবি অগ্নিকণ্যা সম্মাননা ও নবীন বরণ’ অনুষ্ঠানে ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অবদান স্মরণ করেন। তিনি বলেন, স্বায়ত্বশাসিত কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শহীদ হয়নি, কিন্তু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাজিদ শহীদ হয়েছেন।
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈমা আক্তার রিতা বলেন, ক্ষমতা শুধু হাত বদল হয়েছে, বাকস্বাধীনতা আগেও ছিল না, এখনো নেই। বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলতে হলে দু’বার ভাবতে হয়।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন রায়হান হাসান রাব্বি। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি এ কে এম রাকিব। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. রইছ উদদীন। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্র অধিকার পরিষদের সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক লুৎফুন্নাহার লুমা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অধিকার পরিষদের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি রাইসুল ইসলাম নয়ন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।