খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৪ আগস্ট ২০২৫
পদ্মার চারপাশে শুধুই পানি। এ পানির মধ্যে জেগে ওঠা রাখালগাছি চরে বসবাস করছেন হাজার হাজার মানুষ। তবে তারা দৈনন্দিন জরুরি সেবা ও নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বর্ষাকালে সবচেয়ে ভোগান্তি হয়; কেউ মারা গেলে লাশ ভাসিয়ে দিতে হয়, কারণ কবরস্থান পানিতে তলিয়ে যায়।
রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের রাখালগাছি এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার মধ্যেও বসবাস করছেন। উপজেলা থেকে এখানে পৌঁছাতে প্রায় ২–৩ ঘণ্টা লাগে, যার বড় অংশ নদী পার হওয়ার সময়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর এ এলাকায় নেই। তাই রাখালগাছির মানুষ বর্তমান সরকারের কাছে পূর্ণ নাগরিক সুবিধা দাবি করেছেন।
এ এলাকার মানুষ নৌকা বা ইঞ্জিনচালিত ট্রলার ছাড়া চলাচল করতে পারে না। চলাচলের রাস্তা বেহাল, শিক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। অন্তঃসত্ত্বা, শিশু ও বয়স্কদের সমস্যাই সবচেয়ে বেশি। হাসপাতালে যেতে ২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে নদী পার হতে হয়। স্বাস্থ্যসেবা নেই, ঝুলন্ত টয়লেট ব্যবহার করতে হয়। বাল্যবিবাহও প্রতিনিয়ত হয়ে থাকে।
সাইমদ্দিন প্রামানিক জানান, বর্ষার সময় লাশ ভাসিয়ে দিতে হয়। কবরস্থান নিচু হওয়ায় পানিতে তলিয়ে যায়। ঝর্ণা বেগম বলেন, নৌকা ছাড়া চলাচল অসম্ভব। মাসে অন্তত একজন ডাক্তার আসলে কিছু উপকার হয়। বাবু মাতুব্বর জানান, রাস্তাগুলো ভেঙে যাওয়ায় চলাচল ও কৃষিকাজ কঠিন।
তবে দায়সারা মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. কবির হোসেন বলেন, স্কুল স্থাপনের নীতিমালার সীমাবদ্ধতার কারণে শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রমে সমস্যা হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, যোগাযোগের অসুবিধার কারণে স্বাস্থ্যসেবা সীমিত। কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে সুবিধা বাড়ানো সম্ভব।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ডা. নাহিদুর রহমান বলেন, দুর্গম ও নদীভাঙনপ্রবণ এলাকায় সেবা দেওয়ায় বিঘ্ন ঘটে। রাখালগাছি এলাকার কবরস্থানের বিষয়টিও নজরে আছে।
খবরওয়ালা/টিএসএন