খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 30শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ১৪ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাবা, মা ও স্বজনদের আহাজারি যেন থামছেই না গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের কামারদহ ইউনিয়নের রসুলপুর বালুপাড়া গ্রামের প্রবাসী সাফিউল ইসলামের পরিবারে। গ্রাম মাতিয়ে বেড়ানো, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব, হাস্যোজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত এই যুবকের অকাল মৃত্যুতে গোটা গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
জানা যায়, দিনমজুর বাবার দরিদ্র সংসারে বেড়ে ওঠা সাফিউল ইসলাম পরিবারের সচ্ছলতার স্বপ্ন পূরণে গত বছরের ১ মে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ এবং স্থানীয়ভাবে সুদের ওপর আরও ১ লাখ টাকা সংগ্রহ করেন। এরপর স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি। কিন্তু সেখানে পৌঁছে বৈধ কাগজপত্র না থাকায় চাকরি জোটেনি। একের পর এক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে হতাশায় ডুবে যান সাফিউল।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, অর্থ ও চাকরি না থাকায় তিনি সৌদি আরবে বিভিন্ন মসজিদ থেকে খাবার সংগ্রহ করে কখনো রাস্তায়, কখনো ফ্লাইওভারের নিচে দীর্ঘ ১৫ মাস কাটান। এতে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। গত ২৮ জুলাই চিকিৎসা ও খাবারের অভাবে সৌদি আরবের একটি হাসপাতালের গেটের সামনে মারা যান সাফিউল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ছেলের মরদেহ একনজর দেখার আকুতি আর দালালের শাস্তি দাবিতে বারবার অচেতন হয়ে পড়ছেন মা মোছা. মহিলা বেগম ও বাবা মো. জলিল শেখ। তারা বলেন, ‘পরিবারের সচ্ছলতার জন্য ঋণ করে একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছিলাম। আজ ছেলেকে হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছি। আমাদের ছেলের মরদেহ দেশে আনবো কীভাবে!’
স্থানীয়রা জানান, একই গ্রামের প্রবাস ফেরত মিস্টারের মাধ্যমে গত বছরের মে মাসে সাফিউল ও রনি নামে দুই যুবক বিদেশে যান। কিন্তু বৈধ কাগজপত্র না থাকায় চাকরি না পেয়ে দুজনই মানবেতর জীবনযাপন শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত অনাহারে সাফিউলের মৃত্যু হয় এবং রনি এখনো একই অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। একাধিকবার মিস্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান মেলেনি, বরং তারা হুমকির মুখে পড়েছেন।
সাফিউলের প্রতিবেশী মনির মিয়া বলেন, ‘দালাল মিস্টারের প্রলোভনে পড়ে সাফিউলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সাফিউলের মতো আরও অনেক যুবক এভাবে নিঃস্ব হয়েছে। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার।’
ঘটনার পর থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন দালাল মিস্টার। তার বাড়িতে গিয়ে পাওয়া যায়নি তাকে।
গাইবান্ধা জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক মো. নেশারুল হক বলেন, ‘সাফিউলের মরদেহ দেশে আনতে তার পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকারি সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। দ্রুত মরদেহ আনার ব্যবস্থা চলছে। দালালের মাধ্যমে যাতে কেউ বিদেশ না যান, সেই বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’
মৃত সাফিউল ইসলাম ছিলেন দিনমজুর জলিল শেখের তিন ছেলের মধ্যে সবার ছোট। তার অকাল মৃত্যুতে গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের মাতম।
খবরওয়ালা/এসআই