খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 15শে মাঘ ১৪৩২ | ২৮ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস, শৃঙ্খলা পুনঃস্থাপন এবং শব্দ ও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে নতুন উদ্যোগ হিসেবে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের আগে চালকদের জন্য ৬০ ঘণ্টার বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ চালুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত বিআরটিসি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প (৩য় সংশোধিত)’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পেশাজীবী পরিবহন চালক ও শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং শব্দদূষণ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি, সড়ক পরিবহন ও সেতু, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, “প্রতিবছর দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু বাড়ছে। এটি প্রতিটি মানুষের জন্য গভীর দুঃখের বিষয়। তবে আমাদের কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি এখনো অর্জিত হয়নি। প্রধান অন্তরায় হচ্ছে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং দায়িত্বহীনতা।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রক্রিয়া বিশ্বের মধ্যে অন্যতম জটিল এবং উদ্ভট। তাই নতুন বিধিমালার আওতায় চালকদের জন্য ৬০ ঘণ্টার বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ চালু করা হয়েছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চালকদের গাড়ি চালানোর দক্ষতা যাচাই করা হবে এবং শারীরিক সক্ষমতা, দৃষ্টিশক্তি ও অন্যান্য স্বাস্থ্য পরীক্ষার ভিত্তিতে যোগ্য চালককেই লাইসেন্স দেওয়া হবে।”
এই প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন—সড়কে মৃত্যুর হার কমানো, শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, শব্দ ও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা এবং ঢাকাকে আরও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করা। তিনি সরকারি কর্মকর্তাদেরও আহ্বান জানান, জনগণের সেবায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “বাংলাদেশে এ ধরনের বাস্তবভিত্তিক ও অংশীদারিত্বমূলক উদ্যোগ প্রথমবার নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে হর্ন ব্যবহারে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে চালকদের। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রয়োজনে জরিমানা ও সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হয়।”
তিনি আরও বলেন, “বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে বিশেষভাবে মনোযোগ দিতে হবে। বিআরটিসির অনেক বাস থেকে কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে, যা অগ্রহণযোগ্য। বিআরটিএ ও বিআরটিসিকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।”
শেখ মইনউদ্দিন, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী, বলেন, “পরিবহন খাত দেশের অর্থনীতি ও সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে এই খাত বিশৃঙ্খল। ৬০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণে চালকদের হর্ন ব্যবহার, লেন পরিবর্তন, ট্রাফিক সংকেত ও সড়ক আইন সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা দেওয়া হবে। এই কর্মসূচি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
নিচের টেবিলে নতুন ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রশিক্ষণের মূল বিষয়গুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| প্রশিক্ষণ সময় | ৬০ ঘণ্টা |
| লক্ষ্য | সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস, শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, শব্দ ও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ |
| অংশগ্রহণকারী | পেশাজীবী চালক, শ্রমিক, ট্রাফিক সার্জেন্ট |
| বিষয়বস্তু | গাড়ি চালানোর দক্ষতা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, হর্ন ব্যবহার, লেন পরিবর্তন, ট্রাফিক সংকেত, সড়ক আইন |
| দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা | বিআরটিসি, বিআরটিএ, পুলিশ |
| দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য | ঢাকাকে বাসযোগ্য নগরী হিসেবে রূপান্তর, নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা |
সরকার আশা করছে, এই প্রশিক্ষণ চালু হলে চালকদের দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং রাজধানীসহ দেশের প্রধান শহরে দুর্ঘটনা ও শব্দ ও বায়ুদূষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।