খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 18শে মাঘ ১৪৩২ | ৩১ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশের মাইক্রোফাইন্যান্স খাতকে মূলধারার ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত করার লক্ষ্যে নতুন “মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক আইন, ২০২৬” কার্যকর করা হয়েছে। এ আইন প্রণয়ন করা হয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে, যা মাইক্রোক্রেডিট কার্যক্রমকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে আনার পাশাপাশি অনুমোদিত ব্যাংকগুলিকে আমানত গ্রহণের অধিকার দেবে এবং সামাজিক ব্যবসায়িক নীতিমালা মেনে চলার বাধ্যবাধকতা আরোপ করবে।
এর আগে বাংলাদেশে অধিকাংশ মাইক্রোফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠান (এমএফআই) মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ)-এর সীমিত তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হত এবং প্রধানত দাতব্য তহবিল ও হোলসেল ঋণের ওপর নির্ভরশীল ছিল। নতুন আইন অনুসারে, মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংকগুলি শুধু ঋণগ্রহীতার কাছ থেকেই নয়, ব্যক্তিগত ও প্রতিষ্ঠানগত বিনিয়োগকারীর কাছ থেকেও আমানত গ্রহণ করতে পারবে। এর উদ্দেশ্য হলো আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি, খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণ এবং নিম্ন আয়ের সম্প্রদায়ের জন্য টেকসই অর্থনৈতিক মডেল স্থাপন।
আইনটি উচ্চ মূলধন প্রয়োজনীয়তা, স্বচ্ছ প্রশাসন ও কার্যক্রমিক সততা নিশ্চিত করে। ছোট এমএফআইগুলির সংমিশ্রণ বা পুনর্গঠন, এবং বড় প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য স্পষ্ট নীতি নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক আইন, ২০২৬-এর প্রধান ধারা
| বৈশিষ্ট্য | নির্ধারিত শর্তাবলী |
|---|---|
| অনুমোদিত মূলধন | ৫,০০০ মিলিয়ন টাকা (৫০ মিলিয়ন শেয়ার × ১০০ টাকা) |
| ন্যূনতম পেইড-আপ মূলধন | ২,০০০ মিলিয়ন টাকা; ≥৬০% শেয়ার ঋণগ্রহীতার, বাকী অন্যান্য বিনিয়োগকারীর |
| মালিকানা কাঠামো | প্রতিষ্ঠার পর ঋণগ্রহীতারা ≥৬০% শেয়ার ধারণ করবে |
| সামাজিক ব্যবসায়িক মডেল | বিনিয়োগকারীরা শুধুমাত্র মূলধন ফেরত পাবেন; লাভ সামাজিক উন্নয়ন তহবিলে যাবে |
| পরিচালনা পর্ষদ | ১০ জন: ৪ ঋণগ্রহীতা প্রতিনিধি, ৩ বিনিয়োগকারী, ২ স্বাধীন পরিচালক (বাংলাদেশ ব্যাংক মনোনীত) + ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভোটযোগ্য নয়) |
| ঋণ পুনঃপ্রাপ্তি নীতি | ১৫ দিনের নোটিশ বাধ্যতামূলক; পুনঃসাজানো, পুনর্গঠন বা বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি উত্সাহিত; জোরপূর্বক ব্যবস্থা নিষিদ্ধ |
| ছোট উদ্যোক্তা সংজ্ঞা | ≤২৫ কর্মচারী, সম্পদ ≤ ১৫ মিলিয়ন টাকা |
আইনে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুসের নোবেল বিজয়ী সামাজিক ব্যবসায়িক মডেল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা দারিদ্র্য বিমোচন, আর্থিক স্বাবলম্বিতা এবং ক্ষুদ্র উদ্যোগ উন্নয়নকে উৎসাহিত করে। আইন অনুসারে, যে কোনো অতিরিক্ত আয় সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্পে পুনঃবিনিয়োগ করতে হবে, ফলে অর্থনৈতিক বৃদ্ধি সামাজিক কল্যাণের সঙ্গে যুক্ত হবে।
ঋণগ্রহীতাদের সুরক্ষার জন্য ১৫ দিনের নোটিশ, কাঠামোবদ্ধ ঋণ পুনঃসাজানো প্রক্রিয়া এবং জোরপূর্বক মুক্ত বিরোধ সমাধান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক আইন, ২০২৬ বাংলাদেশের নিম্ন-আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য স্বচ্ছ, দায়বদ্ধ এবং টেকসই আর্থিক ইকোসিস্টেম গঠনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।