আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 8শে ভাদ্র ১৪৩২ | ২৩ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বিয়ে করতে গিয়ে এক মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন মালয়েশিয়া প্রবাসী পাকিস্তানি যুবক নুর মুহাম্মদ। গত ১৫ আগস্ট তিনি বিয়ের জন্য পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বুনের জেলায় নিজের বাড়িতে যান। সেখানে বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল, কিন্তু তার চোখের সামনে বন্যায় পরিবারের ২৪ সদস্য প্রাণ হারান।
জিও নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানে ভয়াবহ বন্যার সময় ওই বাড়িতে থাকা তার পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের ২৮ সদস্যের মধ্যে ২৪ জনই মারা গেছেন। দেশে ফেরার দুই দিন আগে তিনি সর্বশেষ মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন। নুর মুহাম্মদ বলেন, “আমি বলতে পারব না তিনি কতটা খুশি ছিলেন।”
কাদির নগর গ্রামে খালের তীরের ধ্বংসস্তূপের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি সাংবাদিকদের জানান, তাদের ৩৬ কক্ষের বিশাল বাড়িটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। ২৫ বছর বয়সী মুহাম্মদ কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। বাড়ি ফিরে এসে আমি শুধু ধ্বংসস্তূপ ও ভারী পাথর দেখেছি। পাহাড় থেকে ভেসে আসা কাদা ও বন্যার পানি সব কিছু ধ্বংস করেছে।” নিহতদের মধ্যে তার মা, এক ভাই ও এক বোনও আছেন।
তিনি বলেন, “এক বিশাল বন্যা এসে সব কিছু ভাসিয়ে নিয়ে গেল- বাড়ি, মা, ভাই, বোন, চাচা, দাদা এবং ছোট ছোট শিশুদেরও। এটি আল্লাহর ইচ্ছা।” তবে ইসলামাবাদ বিমানবন্দরে যাওয়ার সময় তার বাবা ও এক ভাই বেঁচে যান। নিহতদের মধ্যে তার চাচাদের পরিবার এবং বিয়েতে যোগ দিতে আসা অন্যান্য আত্মীয়স্বজনও ছিলেন।
সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ি বুনের জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৫ আগস্ট থেকে এই এলাকায় বন্যায় ৪০০-এরও বেশি মানুষ মারা গেছেন। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জুনের শেষের দিক থেকে শুরু হওয়া বর্ষাকালে সারা দেশে ৭৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আটকে পড়া ২৫ হাজারের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সেনাবাহিনী ও বিমান বাহিনী কাজ করছে।
খবরওয়ালা/টিএসএন