খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 2শে ভাদ্র ১৪৩২ | ১৭ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
নির্বাচন হলে যাদের ভরাডুবি হবে তারাই নির্বাচন চায় না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু।
রবিবার (১৭ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে জনতার অধিকার পার্টির উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
দুদু বলেন, ‘কিছু খুচরা পার্টি আছে আমরা জানি তারা নির্বাচনে আসলে তাদের কোনো সম্ভাবনা নেই। নির্বাচনে তাদের ভরাডুবি হবে বলেই তারা নির্বাচন চায় না। তারা কিছু মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সেগুলোকে নিজের সম্পত্তি মনে করে।’
তিনি আরও বলেন, দেশে এখন জবাবদিহিমূলক একটি সরকার প্রয়োজন। আর সে সরকারের জন্য একটি ভালো নির্বাচন জরুরি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুর খুব কাছাকাছি থেকে ফিরে এসেছেন। তাকে চিকিৎসা পর্যন্ত হাসিনা করতে দেননি। মিথ্যা মামলায় ছয় বছর জেলে রাখা হয় খালেদা জিয়াকে।’
বিএনপি নেতা অভিযোগ করে বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন স্বৈরাচারের হাত থেকে মুক্ত হয়েছে। সেই মুক্তির স্থায়ী ভিত্তি দিতে হলে ভালো সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে হবে এবং জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। গত ১৬ বছর ছিল না এখনও নেই। তবে সরকার বলেছে তারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন হবে। আমরা অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়েছি।’
ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি আরও বলেন, ‘আমরা বলেছি এই সরকারকে সমর্থন করছি। অন্যান্য দল করছে। তবে কিছু খুচরা পার্টি আছে যারা অবৈধভাবে কিছু কিছু মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণ করছে এবং সেটাকে নিজের সম্পত্তি মনে করছে। আমরা জানি নির্বাচন হলে তাদের সম্ভাবনা তো নেই, ভরাডুবি হবে। সেই জন্য তারা নির্বাচন চাচ্ছে না। নির্বাচনকে চাইলো আর কে চাইলো না সেদিকে না দেখে এদেশের শিক্ষার্থী জনতা যে জন্য জীবন বাজি রেখে জীবন দিয়ে স্বৈরাচারকে পতন করেছে সেটা বাদ দেওয়া যাবে না।’
আগস্ট মাসের গুরুত্ব উল্লেখ করে দুদু বলেন, ‘এ আগস্ট মাসে আমাদেরকে শপথ নিতে হবে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা না করা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। এ আন্দোলনের সমাপ্তি হবে না। কারণ জবাবদিহিমূলক সরকার মানুষের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকে। মানুষের কথা শুনতে বাধ্য। দেশ-বিদেশে গ্রহণযোগ্যতা পায়। আইন মতো চলে। বিশ্বের সমর্থন পায়। আগামীতে গণমুখী রাজনৈতিক ব্যবস্থা যদি প্রতিষ্ঠা করতে হয় তাহলে নির্বাচিত সরকার অবশ্যই প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’
একই অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি করলে পরবর্তীতে যারা নির্বাচিত হবেন তারা আর নতুন করে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে পারবেন না। সব রাজনৈতিক দল অন্য দলকে সংশোধন হতে বলেন কিন্তু নিজেদের সংশোধন করেন না। সবার আগে নিজেদের সংশোধন করলেই রাজনৈতিক সহাবস্থান তৈরি হবে।’
তিনি আরও আহ্বান জানান, ‘দেশে যেন আর কেউ স্বৈরাচার না হয়ে উঠতে পারে সেজন্য সব রাজনৈতিক দলকে এক হয়ে কাজ করতে হবে।’
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ফারুক রহমান, মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল খায়ের, কারী আবু তাহের, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।
খবরওয়ালা/এসআই