খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৭ আগস্ট ২০২৫
সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী স্নেহা চক্রবর্তীর মর্মান্তিক মৃত্যুর প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সকাল ১১টায় সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে তারা শান্তিগঞ্জে অবস্থিত অস্থায়ী ক্যাম্পাসের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় স্থানীয় এলাকাবাসীরাও তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে কর্মসূচিতে অংশ নেন।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা ঘাতক বাসচালকের গ্রেপ্তার, দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ককে নিরাপদ করার দাবি জানান। পাশাপাশি তারা অদক্ষ চালক ও ফিটনেসবিহীন, লাইসেন্সবিহীন যান চলাচলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বক্তারা আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেপ্তার না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন। একই দিনে দুইটি পৃথক সংগঠনও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।
জানা যায়, গতকাল বুধবার (৬ আগস্ট) দুপুরে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বাহাদুরপুর এলাকায় বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে নবভর্তি শিক্ষার্থী স্নেহা চক্রবর্তীসহ তিনজন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। ঘটনার পর থেকেই সর্বস্তরের মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এবং সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ককে ‘মৃত্যুফাঁদ’ আখ্যা দিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তাকবিল হোসেন বলেন, “স্নেহা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল, কিন্তু ক্লাস শুরুর আগেই তাকে আমরা হারালাম। এটি দুর্ঘটনা নয়, বরং সড়কে তার হত্যাকাণ্ড। আমরা শান্তিপূর্ণ উপায়ে দাবি জানিয়েছি—দোষীদের শাস্তি, ক্ষতিপূরণ এবং নিরাপদ সড়কের নিশ্চয়তা না মিললে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাব।”
কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী আশরাফ হোসেন বলেন, “এই সড়কটি এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। স্নেহার মতো আর কেউ যেন সড়কে না ঝরে পড়ে, সে জন্য আমরা রাস্তায় নেমেছি। দাবি পূরণ না হলে আমরা ছাত্র-জনতাকে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনে যাব।”
এদিকে শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুকান্ত সাহা জানান, “শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।”
খবরওয়ালা/এমএজেড