খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 29শে চৈত্র ১৪৩২ | ১২ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম একটি অগ্রাধিকারমূলক লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সমাজে ছড়িয়ে পড়া অপতথ্য এবং বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার রোধ করে সাধারণ জনগণকে সুরক্ষা প্রদান করা এখন সময়ের দাবি এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ।
আজ রবিবার সকালে সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘তথ্য অধিকার ফোরাম’-এর কোর গ্রুপের সদস্যদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য প্রদান করেন। সভায় তথ্যের স্বচ্ছতা, তথ্য অধিকার আইনের সংস্কার এবং অপতথ্য প্রতিরোধের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
জাতীয় সংসদে তথ্য অধিকার আইন সংশোধন অধ্যাদেশ স্থগিত রাখার বিষয়ে মন্ত্রী তার বক্তব্যে সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান যে, আইনটি অধিকতর কার্যকর এবং সময়োপযোগী করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকার চাচ্ছে তথ্য অধিকার আইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ, বিশেষজ্ঞ এবং অংশীজনদের গঠনমূলক মতামত ও সুপারিশ গ্রহণ করতে। সবার সম্মিলিত মতামতের ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর আইন প্রণয়ন করা হবে যা প্রকৃত অর্থেই জনগণের তথ্যের অধিকারকে সমুন্নত রাখবে।
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বর্তমান প্রেক্ষাপটে তথ্যের দায়িত্বশীল ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “মোর ইনফরমেশন, মোর ট্রুথ—এই মূলনীতিতে বিশ্বাসী হয়ে তথ্যের প্রবাহ নিশ্চিত করা আমাদের জন্য জরুরি। তবে তথ্যের সহজলভ্যতার সুযোগ নিয়ে অপতথ্যের প্রচারও উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।” এই সমস্যা মোকাবিলায় তিনি তথ্যের ‘ফ্যাক্ট চেকিং’ (তথ্য যাচাই) এবং ‘স্ক্রিনিং’ (ছাঁকনি) প্রক্রিয়ার ওপর জোর দেন। তিনি মনে করেন, তথ্যের অবাধ প্রবাহের সুফল পেতে হলে এর অপব্যবহার রোধে প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করা আবশ্যক।
উক্ত সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি দেশের প্রথিতযশা নাগরিক সমাজ ও এনজিও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা তথ্য কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক স্বকীয়তা রক্ষা এবং তথ্যের অধিকার নিশ্চিত করতে বিভিন্ন প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।
সভায় অংশগ্রহণকারী প্রধান ব্যক্তিবর্গ ও তাদের ভূমিকার একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
| নাম | পদবি/সংস্থা | আলোচনার মূল ফোকাস |
| জহির উদ্দিন স্বপন | তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী | অপতথ্য রোধ ও আইনের সংশোধন |
| ইয়াসের খান চৌধুরী | তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী | তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিতকরণ |
| ড. ইফতেখারুজ্জামান | নির্বাহী পরিচালক, টিআইবি | স্বচ্ছতা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ |
| ড. বদিউল আলম মজুমদার | সম্পাদক, সুজন | সুশাসন ও জনগণের অংশগ্রহণ |
| মাহবুবা ফারজানা | তথ্য সচিব | প্রশাসনিক সমন্বয় ও বাস্তবায়ন |
| হাসিবুর রহমান | নির্বাহী পরিচালক, এমআরডিআই | গণমাধ্যম ও তথ্যের গুণগত মান |
মন্ত্রী তার বক্তব্যে তথ্য কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক চরিত্র এবং এর নিরপেক্ষতা রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, জনগণের কাছে তথ্য পৌঁছানোর এই প্রতিষ্ঠানটিকে এমনভাবে গঠন করতে হবে যেন তা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। সভায় উপস্থিত অংশীজনদের কাছ থেকে তথ্য অধিকার আইন সংশোধনের লক্ষ্যে গঠনমূলক সুপারিশ প্রত্যাশা করেন তিনি।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির যুগে তথ্য লুকিয়ে রাখা সম্ভব নয়, তাই সঠিক তথ্য দ্রুততম সময়ে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়াই সরকারের মূল লক্ষ্য। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এবং সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার তথ্যের প্রবেশাধিকার সহজ করার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর জোর দেন।
পরিশেষে, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতায় বাংলাদেশ একটি তথ্যনির্ভর এবং স্বচ্ছ সমাজ হিসেবে গড়ে উঠবে, যেখানে অপতথ্যের কোনো স্থান থাকবে না। তথ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি এর সঠিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সকল প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।