খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৫ জানুয়ারি ২০২৬
বলিউড তারকাদের নাম ও পরিচিতিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে পরিকল্পিত প্রতারণার একটি গুরুতর চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। বলিউড অভিনেতা সুনীল শেঠির কন্যা ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী আথিয়া শেঠির স্বাক্ষর নকল করে কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগে ইতিমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে উঠে এসেছে যশ নাগরকোটি নামের একটি সংস্থার কর্ণধার ঋষভ সুরেকার নাম।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে ঋষভ সুরেকা আথিয়া শেঠির সহকারী দলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। উদ্দেশ্য ছিল একটি স্বর্ণের দোকানের বিজ্ঞাপনে আথিয়াকে মুখ হিসেবে নেওয়া। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৪০ লাখ রুপির একটি চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও তা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, আলোচনা অসম্পূর্ণ থাকা সত্ত্বেও ঋষভ সংশ্লিষ্ট স্বর্ণের দোকানকে আশ্বাস দেন যে আথিয়া শেঠিই বিজ্ঞাপনের মুখ হবেন।
তদন্তে উঠে এসেছে, আথিয়ার কোনো ধরনের সম্মতি ছাড়াই তার স্বাক্ষর নকল করে একটি ভুয়া চুক্তিপত্র তৈরি করা হয়। সেই নথি ব্যবহার করেই দোকানটির কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ আদায় করা হয় বলে অভিযোগ। এখানেই থেমে থাকেননি অভিযুক্ত। আথিয়া শেঠি ও তার স্বামী, ভারতীয় ক্রিকেট দলের তারকা খেলোয়াড় কেএল রাহুলের নাম ব্যবহার করে একাধিক ভুয়া খাওয়া-দাওয়ার বিল তৈরি করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, এসব জাল বিল দেখিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, ঋষভ সুরেকা অভিনেতা আরশাদ ওয়ারসীর নামেও একটি ভুয়া ই-মেইল আইডি তৈরি করেছিলেন। সেই ই-মেইল ব্যবহার করে বিজ্ঞাপনী সংস্থা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ চালানো হতো, যাতে প্রতারণার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ে।
ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালে একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থায় যোগ দেন ঋষভ সুরেকা। চাকরিতে যোগ দেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি মায়ের চিকিৎসার অজুহাতে সংস্থার কাছ থেকে প্রায় ১৫ লাখ রুপি ঋণ নেন। পরে আর্থিক অনিয়মের চেষ্টা ধরা পড়লে সংস্থার অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়। ২০২৪ সালে তিনি দাবি করেন, একটি বিজ্ঞাপনের জন্য অভিনেত্রী দিয়া মির্জাকে আনতে পারবেন এবং সে জন্য প্রয়োজন ৬২ লাখ রুপি। পরবর্তীতে সেই দাবির কোনো বাস্তব ভিত্তি পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ঋষভ সুরেকাসহ তার সংস্থার আরও দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, প্রতারণার পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে এবং পুরো আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| মূল অভিযুক্ত | ঋষভ সুরেকা |
| ভুক্তভোগী | আথিয়া শেঠি, কেএল রাহুলসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান |
| প্রতারণার ধরন | স্বাক্ষর জাল, ভুয়া চুক্তি ও বিল |
| আলোচিত অর্থের পরিমাণ | ৪০ লাখ থেকে ৬২ লাখ রুপি (বিভিন্ন ঘটনায়) |
| গ্রেপ্তার | মোট ৩ জন |
| তদন্তের অবস্থা | চলমান |
পুলিশের মতে, তারকাদের নাম ব্যবহার করে এ ধরনের প্রতারণা নতুন নয়, তবে এই ঘটনায় জাল নথি ও ভুয়া পরিচয়ের জাল বিস্তার বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। তদন্ত শেষ হলে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।