খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম ভাবেরমুড়া। গ্রামের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে পরিচিত একটি নলকূপ, যা প্রায় দুই দশক আগে পানির সংকট মেটানোর জন্য স্থাপন করা হয়েছিল। তবে আশ্চর্যজনকভাবে, এই নলকূপ থেকে চাপ ছাড়াই দিন-রাত অবিরাম পানি ঝরছে। স্থানীয়রা এটিকে কখনও কখনও অলৌকিক ঘটনা হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।
এলাকাবাসী জানান, ভারতীয় সীমান্তবর্তী এই নলকূপ শুধু ভাবেরমুড়া গ্রামের মানুষের নয়, আশপাশের পাঁচ-ছয়টি গ্রামের মানুষেরও প্রধান পানির উৎস। এমনকি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের ত্রিপুরা থেকেও অনেকে এখানে পানি সংগ্রহ করতে আসেন। কেউ পান করছেন খাবার পানি হিসেবে, কেউ ওজুতে ব্যবহার করছেন, আবার কেউ বিশ্বাসের টানে আসছেন।
স্থানীয় কামাল মিয়া বলেন, ‘এখানে দরবার শরীফ থাকায় প্রতি মাসে এবং বছরে মিলাদ মাহফিলে আয়োজন করা হয়। কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ভক্তরা মাজারে আসতেন। এই সময় তাদের ওজু করার বা পানি পান করার ভালো উৎস ছিল না। পরে এই নলকূপের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করলে তারা নলকূপটি স্থাপন করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আশ্চর্যের বিষয়, হাতল ছাড়াই এই নলকূপ দিয়ে অনবরত দিনরাত পানি ঝরতে থাকে। এই নলকূপ থেকে আশপাশে পাঁচ-ছয়টি গ্রামের মানুষ বিশুদ্ধ খাবার পানি নিয়ে যায়। এছাড়া গোসল, ওজু ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে এই নলকূপের পানি ব্যবহার করা হয়।’
স্থানীয় হারুন মিয়া আরও বলেন, ‘মাজারের পাশে এই নলকূপ হওয়ার কারণে এবং হাতল ছাড়া অনবরত পানি ঝরায় মাজারে আসা ভক্তরা এটিকে অলৌকিক ভাবছেন। অনেকে বিশ্বাস করেন, এর পানি পান করলে আরোগ্য লাভ করা যায়। নিয়মিত পানি পান করলে মনের আশা পূরণ হয় বলেও দাবি করেন অনেকে। এই নলকূপের পানি অনেকের কাছে বিশ্বাস ও আস্থার প্রতীক।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘এখানকার কৃষি জমিও এই পানির খালে সেচ পাচ্ছে। খরা মৌসুমে যখন অন্যান্য এলাকায় মানুষ পানির জন্য হাহাকার করেন, তখন ভাবেরমুড়ার কৃষকরা এর পানির ওপর নির্ভর করে। ভক্তদের বিশ্বাস, এই পানিতে রয়েছে আরোগ্যদানের ক্ষমতা। তাই প্রতিদিনই এখানে অসংখ্য মানুষ ভিড় করছেন। স্থানীয়রা একে আল্লাহর বিশেষ আশীর্বাদ মনে করেন।’
হারুন মিয়া বলেন, ‘ভাবেরমুড়া ভারতের সীমান্তবর্তী হওয়ায় ত্রিপুরার নজরপুরা এলাকা থেকে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহের জন্য আসেন। কেউ গোসলের জন্যও এখানে আসেন। ত্রিপুরার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এই নলকূপের পানি নিয়ে যান।’
ভারতের ত্রিপুরা নজরপুর এলাকার শরীফ নামে এক যুবক বলেন, ‘এটি সত্যিই অলৌকিক ঘটনা, হাতল ছাড়া নলকূপ দিয়ে অনবরত পানি ঝরছে। আমরা প্রতিনিয়ত এখান থেকে পানি নিয়ে যাই। সাধারণত শীতকালে খাল-বিল বা পুকুরের পানি অনেক ঠান্ডা থাকে, কিন্তু এই নলকূপের পানি গরম থাকে। মানুষজন পুকুরে গোসল না করে এই নলকূপের গরম পানি দিয়ে গোসল করেন।’
স্থানীয় মাহফুজ বলেন, ‘এই নলকূপ থেকে দিনরাত পানি ঝরে, যা খাল-বিলের মাধ্যমে আশপাশের কৃষি জমিতে পৌঁছে যায়। স্থানীয় কৃষকরা কয়েক শত জমিতে এই নলকূপের পানি দিয়ে সেচ দিচ্ছেন। বিশেষ করে খরা মৌসুমেও এখানে পানির সংকট থাকে না, ফলে কৃষকরা সেচের কাজ চালিয়ে যেতে পারেন।
শুধু একটি লোহার নলকূপ হলেও এর ধারায় লুকিয়ে আছে অজানা রহস্য ও অসংখ্য মানুষের আস্থা। ভাবেরমুড়ার গ্রামবাসীর কাছে এটি শুধুমাত্র পানির উৎস নয়, বরং জীবনের এক অলৌকিক প্রতীকও।
খবরওয়ালা/শরিফ