খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ মে ২০২৫
আজ বিশ্বের নানা দেশে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক আলু দিবস—একটি অনাড়ম্বর কিন্তু গভীর তাৎপর্যময় দিন, যা আলুর বৈশ্বিক গুরুত্ব, পুষ্টিগুণ, কৃষি ও অর্থনীতিতে অবদান এবং পরিবেশগত ভূমিকা স্মরণ করিয়ে দেয়।
আলু, যা একসময় কেবল ইউরোপের আদি খাদ্য হিসেবে পরিচিত ছিল, এখন বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশে জনপ্রিয় এক খাদ্যপণ্য। অনেক দেশে এটি ভাত, গম কিংবা ভুট্টার চেয়েও বেশি ব্যবহৃত হয়। উৎপাদন সক্ষমতা, সহজলভ্যতা এবং বহুমুখী ব্যবহারযোগ্যতার কারণে আলু বিশ্ব খাদ্য ব্যবস্থায় এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে নিয়েছে।
আন্তর্জাতিক আলু দিবস পালনের পেছনে রয়েছে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত, যা গৃহীত হয় ২০২৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO)-র সমর্থনে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়।
এর মূল লক্ষ্য—পুষ্টি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও পরিবেশে আলুর গুরুত্ব তুলে ধরা, আলুর মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও আয়ের সুযোগ চিহ্নিত করা, বিশ্বজুড়ে আলুর ইতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা
নির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিবছর ৩০ মে তারিখে দিবসটি পালন করা হবে। সে হিসেবে এবার দ্বিতীয়বারের মতো পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক আলু দিবস।
আন্তর্জাতিক আলু দিবসকে স্বীকৃতি দিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরু এবং ইন্টারন্যাশনাল পটেটো সেন্টার (CIP)। উল্লেখযোগ্য যে, পেরুতে হাজারের বেশি জাতের আলুর চাষ হয়, এবং আলু পেরুর জাতীয় সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
আন্তর্জাতিক আলু দিবসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়েছিল আরও আগে। ২০০৮ সালকে জাতিসংঘ ঘোষণা করেছিল “আন্তর্জাতিক আলু বর্ষ” হিসেবে। সেই বর্ষটি সফলভাবে পালনের পর বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে আসে, যা শেষ পর্যন্ত ২০২৩ সালে একটি নির্দিষ্ট দিন হিসেবে আলুর প্রতি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেয়।
বিশ্বে যখন খাদ্য সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন এবং কৃষিজ আয়ের নানা চ্যালেঞ্জ দেখা দিচ্ছে, তখন আলুর মতো একটি সহনশীল, উৎপাদনক্ষম ও পুষ্টিকর খাদ্যশস্য ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় সমাধান হতে পারে—এমনটাই বলছে কৃষিবিদ ও খাদ্যবিশেষজ্ঞরা।
আন্তর্জাতিক আলু দিবস উপলক্ষে আজ বিশ্বজুড়ে চলছে সেমিনার, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, স্কুলে প্রদর্শনী এবং অনলাইন আলোচনার আয়োজন।
খবরওয়ালা/এমএজেড