রাজধানীর র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-২) সদস্যরা আদাবর এলাকায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে আবু সাইদ নামের একজন রয়েছেন, যিনি ‘কবজিকাটা আনোয়ার গ্রুপ’-এর কথিত সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে পরিচিত।
র্যাবের পক্ষ থেকে এক হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। সেখানে আরও জানানো হয়, বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানানো হবে। ব্রিফিংটি রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
পুলিশ ও র্যাব সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার আদাবরের শেখেরটেক এলাকায় একটি বিকাশ এজেন্টের কাছ থেকে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) অভিযান শুরু করে। অভিযান চলাকালে ছিনতাইকারীরা পুলিশের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এতে আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম এবং উপপরিদর্শক (এসআই) তরুণ আহত হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি চালায়। এতে দুইজন ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হয়। ঘটনাস্থল থেকে আহত ও আটকসহ মোট চারজনকে পুলিশ আটক করে। পরবর্তীতে র্যাব-২ আলাদা অভিযান চালিয়ে আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করে। ফলে মোট গ্রেপ্তার দাঁড়ায় ছয়জন।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ‘কবজিকাটা আনোয়ার গ্রুপ’-এর সদস্য। এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, ডাকাতি এবং সহিংস অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এই চক্রের প্রতিষ্ঠাতা আনোয়ার হোসেন। তাঁর বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, কুপিয়ে জখম এবং হত্যাসহ একাধিক ফৌজদারি মামলা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, চক্রের সদস্যরা প্রতিপক্ষকে ভয় দেখাতে ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করত। এ কারণে স্থানীয়ভাবে তারা ‘কবজিকাটা আনোয়ার গ্রুপ’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আনোয়ার হোসেন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গেলেও চক্রটির কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বরং এটি বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে এর একটি অংশ ‘অ্যাক্সেল বাবু’ নামে পরিচিত একটি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা।
ঢাকা মহানগর পুলিশের মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার জুয়েল রানা জানিয়েছেন, আহত দুই পুলিশ সদস্য প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন এবং তারা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকা দীর্ঘদিন ধরে অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানে অর্ধশতাধিক অপরাধী চক্র সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ১৭টি বড় চক্র নিয়মিতভাবে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মাদক ব্যবসা ও ভাড়াটে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এসব গ্রুপের সদস্য সংখ্যা সাধারণত ১৫ থেকে ২০ জনের মধ্যে। তাদের আয়ের প্রধান উৎস হলো মাদক ব্যবসা, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি। মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় সক্রিয় কয়েকটি বড় গ্রুপ হলো পাটালি গ্রুপ, লেভেল হাই গ্রুপ, ডাইল্লা গ্রুপ, অ্যালেক্স গ্রুপ, গাংচিল গ্রুপ, লেও ঠেলা গ্রুপ, ফরহাদ গ্রুপ, আর্মি আলমগীর গ্রুপ, নবী গ্রুপ এবং আকবর গ্রুপ।
র্যাব ও পুলিশ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে এসব এলাকায় ছিনতাই ও সহিংস অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। আদাবরে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।