খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
রাজধানীর উত্তরা দিয়াবাড়ির ১৫ নম্বর সেক্টরের ৩ নম্বর রোডের ১৩ নম্বর প্লটে রয়েছে অদ্ভুত এক দৃশ্য—চারপাশে টিন-দেওয়াল ঘেরা জায়গার ভেতর পড়ে আছে একটি পুরোনো উড়োজাহাজ। হঠাৎ চোখে পড়লে যে কারও মনে প্রশ্ন জাগে, এত বড় বিমান এখানে এলো কীভাবে!
প্রায় ৯ বছর ধরে উড়োজাহাজটি ওই প্লটে পড়ে আছে বলে স্থানীয়রা জানান। কেউ কেউ আবার সময়কালকে ছয় বছর বলছেন। প্লটটির সামনে কোনো নামফলক বা তথ্যফলক নেই। ফলে এলাকাবাসী ও পথচারীদের মনে দীর্ঘদিন ধরেই একধরনের রহস্য তৈরি হয়েছে।
পাশের বাসিন্দা ফরহাদ আহমেদ বলেন, ‘প্রতিদিন হাঁটতে গিয়ে আমার স্কুলপড়ুয়া ছেলে বিমানটি দেখে জানতে চায়, এত বড় উড়োজাহাজ এখানে এলো কীভাবে। কিন্তু আমি কোনো উত্তর দিতে পারি না।’
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, বড় লরি ও ক্রেনের সাহায্যে এটি এখানে আনা হয়। মাঝে মধ্যে কিছু শিক্ষক-শিক্ষার্থী ভেতরে প্রবেশ করে উড়োজাহাজটি ঘুরে দেখেন।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সাবেক এক কর্মী জানান, এটি আসলে এফ-২৭ ফকার মডেলের স্বল্প-পাল্লার টার্বোপ্রপ যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ, যা একসময় বিমানসহ বিভিন্ন এয়ারলাইন্স ব্যবহার করত। সাধারণত ৪৮–৫৬ জন যাত্রী বহন করতে পারত এই মডেলের বিমান।
বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) এ বি এম রওশন কবির বলেন, ‘বিমানের পুরোনো বা অচল উড়োজাহাজ নিলামে বিক্রি করা হয়। এগুলো কেউ গবেষণায় ব্যবহার করে, কেউ ভাঙারি হিসেবে বিক্রি করে। দিয়াবাড়ির উড়োজাহাজও হয়তো সে ধরনের একটি।’
দিয়াবাড়ির স্থানীয় চায়ের দোকানি আবুল কালাম জানান, উড়োজাহাজটি আসলে অ্যারোনটিক্যাল ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের মালিকানাধীন। আগে অন্য একটি প্লটে রাখা ছিল, পরে বর্তমান জায়গায় আনা হয়। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ব্যবহারিক ক্লাসে এটি ব্যবহার করেন।
তবে কেন উড়োজাহাজটির সামনে কোনো তথ্য বোর্ড নেই, সে প্রশ্নের জবাব দিতে রাজি হননি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
প্রায় ছয় কাঠা আয়তনের প্লটে আড়াআড়িভাবে রাখা উড়োজাহাজটির ডানা ভেঙে রাখা হয়েছে জায়গা সংকুলানের জন্য। ইঞ্জিনের অংশ লতাপাতায় ঢাকা, জানালায় ধুলার স্তর জমেছে, টায়ার মাটিতে বসে গেছে। বাইর থেকে এর সাদা গায়ে লাল-সবুজ রঙের ছাপ দেখা যায়, তবে কোনো এয়ারলাইন্সের নাম বা লোগো নেই।
স্থানীয়দের জন্য বিমানটি কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠলেও এর প্রধান ব্যবহার শিক্ষার্থীদের হাতে সীমাবদ্ধ থেকে গেছে।
খবরওয়ালা/এমএজেড