খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকার কেরানীগঞ্জে আকরাম গ্যাসলাইটার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যা কয়েকটি পরিবারকে শোকের গভীরে টেনে দিয়েছে। গোলামবাজার এলাকার কুলসুম বেগম রীতিমতো আহাজারি করতে করতে বলছিলেন, “আমরা এখানে থাকি। তিন মাস আগে আমার ছেলে নাঈম এই কারখানায় কাজে ঢুকেছে। আজ সকাল আটটার দিকে সে কাজে বের হয়। সেই সময়ের পর থেকে তার কোনো খোঁজ নেই। আমি আমার ছেলেকে ফেরত চাই।”
শুক্রবার বেলা ১টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আগানগর ইউনিয়নের কদমতলী ডিপজল গলি সড়ক এলাকার কারখানায় হঠাৎ আগুন লেগে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, কারখানার ভেতর থেকে প্রথমে পাঁচ শ্রমিকের দগ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নিখোঁজ শ্রমিকদের সঠিক সংখ্যা এখনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
কাওসার সরদার নামের আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা তাঁর ১২ বছর বয়সী মেয়ে মনিরার খোঁজে কারখানার সামনে অপেক্ষা করছিলেন। তিনি জানান, “প্রায় এক বছর ধরে আমার মেয়ে এখানে কাজ করছিল। আজও সে সকালে কাজে যায়। লোকমুখে শুনে এখানে এসে তার খোঁজ করছি, কিন্তু কোনো খোঁজ পাইনি।”
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| কারখানার নাম | আকরাম গ্যাসলাইটার কারখানা |
| অবস্থান | কদমতলী, ডিপজল গলি, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, ঢাকা |
| শ্রমিক সংখ্যা | প্রায় ৩৫–৪০ জন |
| মৃত শ্রমিক | ৫ জন |
| নিখোঁজ শ্রমিক | আনুমানিক ১০–১৫ জন (সুনিশ্চিত নয়) |
| আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় | বেলা ২:৩০ পর্যন্ত (সাড়ে ১ ঘণ্টার চেষ্টায়) |
| ফায়ার সার্ভিস ইউনিট | ৭টি ইউনিট |
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম (দোলন) জানান, “অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে সাতটি ইউনিট প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে কারখানার ভেতর থেকে পাঁচটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।” উদ্ধারকৃত মৃতদেহগুলো পরে পুলিশের পিকআপে রাখা হয় এবং ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে মৃতদের নাম পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কারখানাটি দুই বছর আগে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। প্রশাসন তখন এটি বন্ধ করে দেয়। মাসখানেক পর কারখানা আবার কার্যক্রম শুরু করে। আজ সকালের অগ্নিকাণ্ডের সময় কারখানার ভেতরে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেলে মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
ডিপজল গলির বাসিন্দা রমিজ মিয়া বলেন, “কারখানার উপর টিনশেড ছাদের ব্যবস্থা আছে এবং চারপাশে দেয়াল। ভেতরে আটটি গুদাম, যেখানে গ্যাসলাইটারের কাঁচামাল রাখা হয়। আমরা প্রাথমিকভাবে আগুন নেভানোর চেষ্টা করি, পরে ফায়ার সার্ভিস এসে নিয়ন্ত্রণে আনে।”
অপর একজন স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল ইসলাম জানান, “গ্যাসলাইটার কারখানাটি সম্পূর্ণ অবৈধ। আগুন লাগার ঘটনায় এখানে কয়েকটি পরিবারের জীবন এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে।”
এই দুর্ঘটনা আবারও তুলে ধরেছে রাজধানীর অবৈধ কারখানার নিরাপত্তাহীনতা এবং শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি, যেখানে শিশু ও কিশোরদের কাজের জন্য দেওয়া হচ্ছে। নিখোঁজ ও আহত শ্রমিকদের পরিবারের জন্য দিনটি এক অন্ধকার ছায়ার মতো হয়ে রইল।