খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়াজ আহমেদ খান মঙ্গলবার ঘোষণা করেছেন যে তিনি তার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে ইচ্ছুক। তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় বছরের দায়িত্ব পালন এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে নেওয়ার পর এখন তিনি পদত্যাগের প্রস্তাব দিতে চান।
আজ বিকেলে উপাচার্য কার্যালয় সংলগ্ন অধ্যাপক আবদুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য জানান। নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, “আমি এখন মনে করছি যে আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পর্বে ভালো অবস্থানে পৌঁছেছি এবং এই পর্যায়ে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোই উচিত।”
উপাচার্য প্রমাণ করেছেন যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এবং এর প্রতিটি বড় সিদ্ধান্ত জাতির সামনে স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন করা হয়। তিনি নিজে দায়িত্ব নেওয়ার পটভূমি তুলে ধরে জানান, ২০২৪ সালের আগস্টে ক্রান্তিকালীন পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় কার্যত অচল ছিল। একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ ছিল, হলগুলো ভাসমান অবস্থায় ছিল এবং প্রশাসনিক কাঠামো কার্যকরভাবে কাজ করছিল না।
নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, সেই সংকটময় পরিস্থিতি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়কে স্থিতিশীল পর্যায়ে নিয়ে আসাই প্রথম এবং প্রধান কাজ ছিল। আজ প্রায় দেড় বছর পর, বিশ্ববিদ্যালয় সার্বিকভাবে উর্ধ্বমুখী প্রবণতায় রয়েছে। তিনি যোগ করেন, “সার্বিকভাবে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি ভালো অবস্থানে নিয়ে এসেছি। যদিও সীমাবদ্ধতা আছে, আপৎকালীন পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমরা এখন অনেকদূর এগিয়ে এসেছি।”
উপাচার্য নিশ্চিত করেছেন যে পদত্যাগের প্রক্রিয়ায় যেন কোনো শূন্যতা বা ধারাবাহিকতা বিঘ্নিত না হয়, সে জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে “স্মুথ ট্রানজিশন” নিশ্চিত করতে তিনি সরকারের এবং অংশীজনদের মতামতের প্রতি মনোযোগ দেবেন।
নিচের টেবিলে উপাচার্যের দায়িত্বকাল এবং বিশ্ববিদ্যালয় পরিস্থিতির সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| দায়িত্ব গ্রহণ | আগস্ট ২০২৪ |
| দায়িত্বকাল | প্রায় ১.৫ বছর |
| প্রধান চ্যালেঞ্জ | একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ, হল ভাসমান, প্রশাসনিক কাঠামো অকেজো |
| অর্জন | একাডেমিক কার্যক্রম পুনরায় চালু, প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা |
| পদত্যাগের প্রস্তাব | বর্তমানে, বিশ্ববিদ্যালয়কে স্থিতিশীল পর্যায়ে নিয়ে আসার পর |
উপাচার্য বলেন, “যদি সরকার বা বিশ্ববিদ্যালয় অংশীজনরা মনে করেন যে ধারাবাহিকতার স্বার্থে আমাকে কিছু সময় ধরে দায়িত্ব পালন করতে হবে, আমি তা বিবেচনা করতে প্রস্তুত।” তিনি এই পদক্ষেপকে দায়িত্বের শেষ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও উন্নতির পথে এগিয়ে নেওয়া লক্ষ্য থাকবে।
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ঢাবিতে প্রশাসনিক পর্যায়ে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বচ্ছ ও স্থিতিশীল নেতৃত্বের ধারাবাহিকতাকে নিশ্চিত করবে।