খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সম্প্রতি গুঞ্জনকে খণ্ডন করেছেন যে তিনি পদত্যাগ করেছেন। মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে এক বেসরকারি গণমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, “আমি পদত্যাগ করিনি, আমাকে রিমুভও করা হয়নি। গণমাধ্যমে দেখেছি, তাই আমি বাসায় চলে যাচ্ছি।”
এই ঘোষণার আগে সকালবেলায় ড. মনসুর নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ব্যাংকের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন। তবে হঠাৎ করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাঁর অপসারণ এবং নতুন গভর্নরের নিয়োগ সংক্রান্ত খবর ছড়িয়ে পড়ায় তিনি কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না দিয়ে অফিস ত্যাগ করেন। তার এই আকস্মিক প্রস্থান ব্যাংকের অভ্যন্তরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
জানাগেছে, খবরের ভিত্তিতে সহকর্মী এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। ব্যাংকের ভেতরে অনেকে নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন যে এই পদক্ষেপ কি আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়েছে, কিন্তু গভর্নরের বক্তব্য স্পষ্ট যে কোনো ধরনের পদত্যাগ বা সরানো হয়নি।
| সময়কাল | ঘটনা |
|---|---|
| সকাল | ড. আহসান এইচ মনসুর নিয়মিত কর্মসূচি অনুযায়ী ব্যাংকে উপস্থিত হন |
| সকাল ১১টা | গণমাধ্যমে গভর্নর অপসারণের খবর ছড়াতে শুরু করে |
| দুপুর ২:৩০ | কার্যালয়ে চাঞ্চল্য দেখা দেয়, কর্মকর্তারা বিভ্রান্ত হন |
| দুপুর ২:৪৫ | ড. মনসুর অফিস ত্যাগ করেন, কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ছাড়াই |
| দুপুর ২:৫০ | সাংবাদিকদের কাছে জানিয়েছেন, তিনি পদত্যাগ করেননি |
এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরে এক ধরনের অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছে যে, হঠাৎ ছড়িয়ে পড়া খবরের ফলে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগে সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে গভর্নরের নিজস্ব বক্তব্যে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কোনো ধরনের পদক্ষেপ বা পদত্যাগ কার্যকর হয়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে মিডিয়ার মাধ্যমে ছড়ানো তথ্য ব্যাংকের নীতি ও কর্মকাণ্ডে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে। এ ধরনের খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক কাঠামোয় অস্থিরতা দেখা দেয়।
এদিকে, ড. আহসান মনসুরের পদত্যাগ না করার ঘোষণার ফলে ব্যাংকের স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। তিনি বাসায় ফিরে গিয়ে অফিসে ফেরা পর্যন্ত নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করবেন বলে জানা গেছে।
সংবাদদাতা ও ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এখন এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য তৎপর হয়েছেন এবং গুজব রোধে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।