খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা লড়াই এখন এক রোমাঞ্চকর মোড়ে দাঁড়িয়ে। লিভারপুলের মাঠ অ্যানফিল্ডে নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের পর ম্যানচেস্টার সিটি ম্যানেজার পেপ গার্দিওলা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকা আর্সেনালকে টপকাতে হলে তার দলকে আরও ধারালো হতে হবে। রোববার রাতে অ্যানফিল্ডে হারের মুখ থেকে ফিরে এসে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে সিটিজেনরা, যা শিরোপার দৌড়ে তাদের টিকে থাকার অক্সিজেন জুগিয়েছে।
ম্যাচের ৭৪ মিনিট পর্যন্ত ডমিনিক সোবোসলাইয়ের দুর্দান্ত ফ্রি-কিকে লিড নিয়ে লিভারপুলই জয়ের পথে ছিল। যদি সিটি এই ম্যাচটি হারত, তবে শীর্ষে থাকা আর্সেনালের সঙ্গে তাদের পয়েন্টের ব্যবধান দাঁড়াত ৯। সিটির তারকা মিডফিল্ডার বার্নার্দো সিলভার মতে, “এই ম্যাচটি হারলে আমাদের জন্য শিরোপার দৌড় কার্যত শেষ হয়ে যেত।” তবে শেষ মুহূর্তের নাটকে বার্নার্দো সিলভা এবং আর্লিং হালান্ডের গোল সিটিকে এনে দেয় ৩-১ ব্যবধানের জয়। ২০০৩ সালের পর এই প্রথম অ্যানফিল্ডের পূর্ণ গ্যালারির সামনে জয়ের দেখা পেল ম্যানচেস্টার সিটি। এই জয়ের ফলে আর্সেনালের সাথে ব্যবধান কমে দাঁড়িয়েছে ৬ পয়েন্টে।
লিগ টেবিলের বর্তমান সমীকরণ ও পরিসংখ্যান:
| অবস্থান | দল | ম্যাচ খেলেছে | পয়েন্ট | আর্সেনাল থেকে ব্যবধান |
| ১ | আর্সেনাল | ২৫ | ৬০ | – |
| ২ | ম্যানচেস্টার সিটি | ২৫ | ৫৪ | ০৬ পয়েন্ট |
| ৩ | লিভারপুল | ২৫ | ৪৮ | ১২ পয়েন্ট |
ম্যাচ শেষে পেপ গার্দিওলা কিছুটা সতর্ক কিন্তু আশাবাদী সুরেই কথা বলেছেন। তিনি বলেন, “আমরা এখন আর্সেনালের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছি। তবে আর্সেনাল যে ফর্মে আছে, তাতে তারা লিগের বাকি ১৩ ম্যাচে তিনটির বেশি হারবে বলে মনে হয় না। তাই কেবল একটু উন্নতি করলে তাদের ধরা সম্ভব হবে না, আমাদের সেরা ছন্দে ফিরতে হবে।”
গার্দিওলা তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে জানান, প্রিমিয়ার লিগের শেষ দিকের ম্যাচগুলো সব সময় কঠিন হয়। কারণ রেলিগেশন এড়ানোর লড়াইয়ে থাকা দলগুলো তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে মরণপণ লড়াই করে। অন্যদিকে সিটির মতো বড় দলগুলোকে এফএ কাপ, কারাবাও কাপ এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মতো একাধিক টুর্নামেন্টে ব্যস্ত থাকতে হয়। এই শারীরিক ও মানসিক ধকলই শিরোপা জয়ের পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।
ম্যাচের শেষ দিকে বেশ কিছু বিতর্কিত মুহূর্ত তৈরি হয়েছিল। ১০০তম মিনিটে রায়ান চেরকি যখন হাফওয়ে লাইন থেকে গোল করেন, তখন লিভারপুল গোলরক্ষক অ্যালিসন বকার গোলপোস্টের বাইরে ছিলেন। কিন্তু রেফারি সোবোসলাই এবং হালান্ডের মধ্যে একে অপরের জার্সি টানাটানির কারণে গোলটি বাতিল করে সোবোসলাইকে লাল কার্ড দেখান। গার্দিওলা রসিকতা করে বলেন, “গোলটি দিলেই ভালো হতো, অন্তত সোবোসলাই পরবর্তী ম্যাচে সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে পারতেন।”
অন্যদিকে লিভারপুল কোচ আর্নে স্লট রেফারির দ্বিমুখী আচরণের সমালোচনা করেছেন। তিনি দাবি করেন, প্রথমার্ধে মোহামেদ সালাহ যখন একা গোলরক্ষককে সামনে পেয়েছিলেন, তখন মার্ক গুয়েহি তাকে টেনে ধরলেও তাকে লাল কার্ড দেওয়া হয়নি। স্লটের মতে, সেই সিদ্ধান্তটি ম্যাচের ফলাফল বদলে দিতে পারত।
শিরোপা নির্ধারণের ক্ষেত্রে ম্যানচেস্টার সিটির ইতিবাচক দিক হলো, নিজেদের মাঠে তাদের এখনো আর্সেনালের মুখোমুখি হওয়া বাকি আছে। গার্দিওলার মতে, সেই ম্যাচে জয় পাওয়া এবং লিগের বাকি ম্যাচগুলোতে আর্সেনালের ভুলের অপেক্ষা করা ছাড়া তাদের হাতে এখন আর কোনো পথ নেই।