সাইফ হাসানের অল্প সময়ের আউটকে বড় কোনো ব্যর্থতা হিসেবে গণ্য করা যায় না। ১১৪ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা শুধু রানই অর্জন করেননি, ম্যাচকেই দর্শকপ্রিয় টি-টোয়েন্টি আঙ্গিকের রূপ দিয়েছেন। ওপেনার তানজিদ হাসান এবং তিন নম্বরে নেমে ব্যাটিং করা নাজমুল হোসেন মিলে মাত্র ১৫.১ ওভারেই পাকিস্তানের স্কোর ছাড়িয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিয়েছেন বাংলাদেশকে।
ইফতারের আগে খেলা শেষ হয়ে যাওয়ায় জয় আরও দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠেছে। পাকিস্তানের দেওয়া ১১৪ রানের টার্গেট বাংলাদেশ ৩০.৪ ওভারে অর্জন করেছিল, যেখানে তানজিদ–নাজমুল জুটির অবদান ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তানজিদ–নাজমুল জুটির রেকর্ড
| ব্যাটসম্যান | রান | বল | ৪ | ৬ | আউট হয়েছে কি না |
|---|---|---|---|---|---|
| তানজিদ হাসান | ৬৭ | ৪২ | ৫ | ৫ | অপরাজিত |
| নাজমুল হোসেন | ২৭ | ৩৩ | ৭ | ৫ | আউট |
| লিটন দাস | ২০ | ১৪ | ২ | ১ | অপরাজিত |
তানজিদ–নাজমুল জুটি ১০ ওভারের মধ্যে দ্বিতীয় উইকেটে ৮২ রান জুটিতে সংগ্রহ করেছে। নাজমুল আউট হলেও তানজিদ অবিচল থেকে দলকে জয় নিশ্চিত করেছেন লিটন দাসের সঙ্গে হাত মিলিয়ে। জয়ের শেষ রানের দেখা আসে মোহাম্মদ ওয়াসিমের দেওয়া ওয়াইড থেকে।
পাকিস্তানের ইনিংসের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
পাকিস্তানের ইনিংস শুরু হয় শান্তভাবে। প্রথম ৯ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৩৫ রান করেন শাহীন আফ্রিদির দল। নতুন বলের সামর্থ্য কাজে লাগাতে পারেননি বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান। তবে দশম ওভারে নাহিদ রানা বোলিংয়ে আসতেই ম্যাচের রূপরেখা বদলে যায়।
| বোলার | ওভার | রান | উইকেট |
|---|---|---|---|
| নাহিদ রানা | ৫ | ৫ | ৫ |
| মেহেদী হাসান মিরাজ | ১০ | ২৯ | ৩ |
| তাসকিন আহমেদ | ৫ | ৪০ | ১ |
| মোস্তাফিজুর রহমান | ৫ | ৪৫ | ১ |
নাহিদ রানা নিজের প্রথম পাঁচ ওভারে প্রতিটিতে এক উইকেট তুলে নেন। তাঁর বোলিংয়ে প্রথম উইকেট আসে পাওয়ার প্লের শেষ বলে সাহিবজাদা ফারহানের আউটের মাধ্যমে। এরপর শামিল হোসেন, মাজ সাদাকাত, মোহাম্মদ রিজওয়ান এবং সালমান আগার উইকেটও নাহিদের হাতে পড়ে।
শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ৮ উইকেটে জয় নিশ্চিত করে, যা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এত বেশি ওভার হাতে রেখে অর্জিত প্রথম জয়। অধিনায়ক মিরাজও ৩ উইকেট নেন, যেখানে বাকি দুটি উইকেট বিতরণ করা হয়েছে তাসকিন ও মোস্তাফিজুরের মধ্যে। এই জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্যাটিং ও বোলিং উভয় বিভাগই শক্তিশালী ইঙ্গিত দিয়েছে।
এই জয় প্রমাণ করে যে, ৫০ ওভারের ম্যাচেও দৃঢ় মনোভাব এবং দ্রুত রানের আক্রমণ খেলাকে টি-টোয়েন্টি স্টাইলে রূপ দিতে পারে।