খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
রমজান মাসে সারাদিন সিয়াম সাধনার পর ইফতারে পুষ্টিকর ও শক্তিদায়ক খাবার গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় উপবাস থাকার ফলে শরীরে শক্তির ঘাটতি দেখা দেয় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যেতে পারে। তাই ইফতারের শুরুতেই এমন খাবার প্রয়োজন, যা দ্রুত শক্তি জোগাবে এবং শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি পূরণ করবে। এ ক্ষেত্রে খেজুর অন্যতম উত্তম খাদ্য।
খেজুর দেখতে ছোট হলেও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ একটি ফল। এতে রয়েছে প্রাকৃতিক শর্করা, যা দ্রুত শক্তি সরবরাহ করে। পাশাপাশি খেজুরে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, খাদ্যআঁশ, লৌহ, ম্যাগনেশিয়াম এবং বিভিন্ন ভিটামিন বিদ্যমান। পটাশিয়াম হৃদ্যন্ত্রের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। খাদ্যআঁশ হজমশক্তি বৃদ্ধি করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সহায়তা করে। লৌহ রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে কার্যকর।
নিচের সারণিতে খেজুরের প্রধান পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা তুলে ধরা হলো—
| পুষ্টি উপাদান | উপকারিতা |
|---|---|
| প্রাকৃতিক শর্করা | দ্রুত শক্তি জোগায় |
| পটাশিয়াম | হৃদ্যন্ত্র সুস্থ রাখে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক |
| খাদ্যআঁশ | হজমে সহায়তা করে |
| লৌহ | রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে সহায়ক |
| ম্যাগনেশিয়াম | পেশি ও স্নায়ুর কার্যক্রমে সহায়ক |
ইফতারে সাধারণ খেজুরের পাশাপাশি ভিন্ন স্বাদের জন্য খেজুরের হালুয়া প্রস্তুত করা যেতে পারে। এটি সুস্বাদু হওয়ার পাশাপাশি পুষ্টিকরও বটে।
খেজুর – ১ কাপ (বীজ অপসারণ করা)
দুধ – আধা কাপ
ঘি – এক-চতুর্থাংশ কাপ
শুকনা ফলের কুচি – এক-চতুর্থাংশ কাপ
এলাচ গুঁড়া – এক-চতুর্থাংশ চা চামচ
প্রথমে একটি পাত্রে খেজুর ও দুধ নিয়ে মাঝারি আঁচে সিদ্ধ করুন। খেজুর নরম হয়ে এলে চুলা থেকে নামিয়ে মসৃণভাবে বেটে নিন। এরপর অন্য একটি পাত্রে ঘি গরম করে তাতে খেজুরের পেস্ট ঢেলে দিন। মাঝারি আঁচে নাড়তে থাকুন যাতে পাত্রের তলায় লেগে না যায়।
কিছুক্ষণ পর খেজুরের রং হালকা সোনালি আভা ধারণ করবে এবং মিশ্রণটি ঘন হতে শুরু করবে। তখন এতে শুকনা ফলের কুচি ও এলাচ গুঁড়া যোগ করে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। কম আঁচে আরও পাঁচ থেকে সাত মিনিট রান্না করুন, যতক্ষণ না হালুয়া পাত্র ছাড়তে শুরু করে।
পরিবেশনের আগে ওপর থেকে সামান্য শুকনা ফল ছড়িয়ে সাজিয়ে নিতে পারেন। এটি গরম কিংবা ঠান্ডা—উভয়ভাবেই পরিবেশনযোগ্য। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই খেজুরের হালুয়া ইফতারের টেবিলে যোগ করবে স্বাদ ও স্বাস্থ্য—দুই-ই।