খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
পরমাণু কর্মসূচি ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি নিয়ে চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। দুই পক্ষের মধ্যে চলমান এই কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেই ইরানকে তেল উৎপাদন, সরবরাহ ও বিশ্ববাজারে বিক্রির সাময়িক অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে হওয়া একটি প্রাথমিক চুক্তির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সোমবার (২২ জুন) মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় (ট্রেজারি বিভাগ) এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক অনুমোদন জারি করেছে।
নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত একটি নির্দিষ্ট মেয়াদে আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের উৎপাদিত অপরিশোধিত আকরিক তেল, পেট্রোকেমিক্যাল এবং অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি করার আইনি সুযোগ পাবে ইরান। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল এই পদক্ষেপকে দীর্ঘদিনের বৈরি দুই দেশের বরফ গলার আভাস হিসেবে দেখছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট ও ভেতরের শর্তগুলো পরিষ্কার করেছেন। তিনি জানান, সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে বেশ ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে। সেই আলোচনার ধারাবাহিকতায় ইরান একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। তেহরান প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে তারা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক ও অন্যান্য নৌযান চলাচল সম্পূর্ণ সচল ও নিরাপদ রাখবে। একই সঙ্গে তাদের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের নিয়মিত প্রবেশ এবং পরিদর্শনের অনুমতি দিতেও রাজি হয়েছে ইরান।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, এই পারস্পরিক সমঝোতার রূপরেখা বজায় রাখতেই ট্রেজারি বিভাগ আপাতত ৬০ দিনের জন্য একটি অস্থায়ী সাধারণ লাইসেন্স ইস্যু করেছে। এই বিশেষ লাইসেন্সের আওতায় ইরান তাদের তেল বাণিজ্য সচল করতে পারবে।
চুক্তির গভীরতা বিশ্লেষণে দেখা যায়, কেবল তেল বিক্রির অনুমতি দিয়েই যুক্তরাষ্ট্র ক্ষান্ত হয়নি। এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় ইরান যাতে নির্বিঘ্নে বাণিজ্য করতে পারে, সেজন্য বেশ কিছু জটিল আর্থিক ও কাঠামোগত নিষেধাজ্ঞাও শিথিল করা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন ইরানের অপরিশোধিত তেল, পেট্রোলিয়াম পণ্য এবং এর বিভিন্ন উপজাত রপ্তানির পাশাপাশি এই ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ব্যাংকিং চ্যানেল, আন্তর্জাতিক বীমা সুবিধা এবং পণ্য পরিবহনের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে সম্মত হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে তেল বিক্রির অর্থ লেনদেনে ইরানের আর কোনো বাধা থাকছে না।
তবে মার্কিন প্রশাসন এই অনুমতির ক্ষেত্রে নিজেদের কঠোর অবস্থানও বজায় রেখেছে। লাইসেন্সের নীতিমালায় পরিষ্কার বলা হয়েছে, এই শিথিলতা কেবল ইরানের জন্যই প্রযোজ্য। এই লাইসেন্স ব্যবহার করে উত্তর কোরিয়া কিংবা কিউবার মতো অন্য কোনো দেশের সঙ্গে কোনো ধরনের বাণিজ্যিক বা আর্থিক লেনদেন করা যাবে না। ওই দেশগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যে দীর্ঘমেয়াদি ও কঠোর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে, তা আগের মতোই বহাল থাকবে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে এই ৬০ দিনের সাময়িক চুক্তি কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।