খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে আকাশপথে এক অনন্য ও রাজকীয় সামরিক অভিবাদন জানিয়েছে পাকিস্তান বিমান বাহিনী (পিএএফ)। গত মঙ্গলবার ইরানি প্রেসিডেন্টকে বহনকারী বিশেষ বিমানটি পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করার পরপরই দেশটির বিমান বাহিনীর একটি চৌকস ফাইটার স্কোয়াড্রন সেটিকে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে এসকর্ট করে স্বাগত জানায়।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ইরানের রাষ্ট্রপ্রধানকে সর্বোচ্চ সম্মান জানাতে এই বিশেষ সংবর্ধনা অভিযানের আয়োজন করা হয়। এতে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর বহরে থাকা অত্যন্ত আধুনিক ও শক্তিশালী ছয়টি জেএফ-১৭ থান্ডার এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ ফরমেশন অংশ নেয়। সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সেই আলোচনা সমাপ্ত করে সরাসরি পাকিস্তান সফরে যান মাসুদ পেজেশকিয়ান।
আন্তর্জাতিক রাজনীতির সমীকরণে ইরানি প্রেসিডেন্টের এই পাকিস্তান সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর আকস্মিক সামরিক হামলা চালানোর পর এটিই মাসুদ পেজেশকিয়ানের প্রথম কোনো বিদেশ সফর। মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনা এবং ভূ-রাজনীতিতে নানা টানাপোড়েনের মধ্যে এই সফরের মধ্য দিয়ে প্রতিবেশী দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আকাশপথে রাজকীয় প্রটোকল শেষে ইরানি প্রেসিডেন্টবাহী বিমানটি পাকিস্তানের মাটিতে অবতরণ করলে সেখানে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফসহ সরকারের উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা। দুই দেশের শীর্ষ নেতার এই সাক্ষাৎ আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন বার্তা দিচ্ছে।
পাকিস্তান বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ধরনের ঐতিহ্যবাহী আকাশ প্রহরা বা বিশেষ এসকর্ট সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো সফররত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের প্রতি পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের আতিথেয়তা, গভীর কূটনীতি ও পরম শ্রদ্ধাকে ফুটিয়ে তোলা। এটি পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় প্রটোকলের একটি অন্যতম সম্মানিত অংশ।
একই সঙ্গে এই বিশেষ সংবর্ধনায় জেএফ-১৭ থান্ডার এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের মতো প্রথম সারির ফাইটার জেটের অংশগ্রহণ কেবল আনুষ্ঠানিকতাই নয়, বরং এর মাধ্যমে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর অত্যাধুনিক অভিযানিক সক্ষমতা, নিখুঁত কৌশল এবং সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বেরও একটি বড় প্রদর্শন ঘটেছে। আঞ্চলিক শান্তি রক্ষা ও দুই প্রতিবেশী দেশের পারস্পরিক বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে এই রাজকীয় সংবর্ধনা আন্তর্জাতিক মহলেরও নজর কেড়েছে।