খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 17শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বাহিনী ইরানি ভূখণ্ডে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনার পর পরিস্থিতি এক ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে মোড় নিয়েছে। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে দাবি করেছে যে, তারা ইরানের অভ্যন্তরে অন্তত শতাধিক সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত বিমান হামলা চালিয়েছে। এই আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় ইরানও দমে থাকেনি; বরং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) তৃতীয় দফার প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করেছে, যা সমগ্র অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, তাদের বিমান বাহিনী ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে ব্যাপক তান্ডব চালিয়েছে। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়া। ইসরাইল জানিয়েছে, তাদের রাডারে ধরা পড়া এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চিহ্নিত করা শতাধিক কৌশলগত স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল ইরানের উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, ড্রোন নিয়ন্ত্রণ কক্ষ এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি। দখলদার বাহিনী আরও জানিয়েছে, তারা কেবল হামলা নয়, বরং ইরান থেকে ধেয়ে আসা পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আকাশেই ধ্বংস করার জন্য সর্বাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রেখেছে।
ইসরাইলি আগ্রাসনের জবাবে তেহরান তার রণকৌশল আরও কঠোর করেছে। ইরান কেবল ইসরাইল নয়, বরং যেসব দেশ এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে গোয়েন্দা তথ্য বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দিয়ে সহায়তা করেছে, তাদের ওপরও আক্রমণ শুরু করেছে। ইরানের ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোনগুলো ইতোমধ্যে ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিবে আঘাত হেনেছে, যার ফলে শহরটি প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। এছাড়া উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও এখন নিয়মিত আক্রমণের শিকার হচ্ছে।
নিচে চলমান সংঘাতের প্রধান লক্ষ্যবস্তু এবং বর্তমান পরিস্থিতির একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো:
| হামলার ধরণ/লক্ষ্যবস্তু | অবস্থান ও দেশ | বর্তমান অবস্থা ও প্রভাব |
| শতাধিক সামরিক স্থাপনা | পশ্চিম ইরান | ইসরাইলি বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দাবি। |
| তেল আবিব ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র | ইসরাইল | ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিকট বিস্ফোরণ ও আতঙ্ক। |
| আল-ধাফরা ও অন্যান্য ঘাঁটি | সংযুক্ত আরব আমিরাত | একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। |
| মার্কিন সামরিক ঘাঁটিসমূহ | কাতার ও কুয়েত | ইরানি ড্রোন ও মিসাইল হামলার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। |
| ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ প্যাড | ইরান | পাল্টা জবাব দিতে তেহরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে দাবি। |
এই যুদ্ধ এখন আর কেবল দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর যে আঘাত হানা হয়েছে, তার চড়া মূল্য শত্রুদের দিতে হবে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং অন্যান্য আরব রাষ্ট্রগুলো যারা ওয়াশিংটনকে সমর্থন দিচ্ছে, তারা এখন ইরানের সরাসরি টার্গেটে পরিণত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত যদি দ্রুত প্রশমিত না হয়, তবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ইতোমধ্যে বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের এই যৌথ অভিযান মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দিতে পারে বলে অনেক সামরিক বিশেষজ্ঞ ধারণা করছেন। ইরান হুশিয়ারি দিয়েছে যে, তাদের “অপারেশন ট্রু প্রমিজ”-এর পরবর্তী ধাপগুলো আরও বেশি বিধ্বংসী হবে, যা জায়নবাদী শাসনের পতন ত্বরান্বিত করবে।