খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫
ইরানের ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইসরায়েলে ১২ দিনের যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৮ জন। ই ১২ দিনের সংঘাতের সবচেয়ে প্রবীণ নিহত ব্যক্তি ছিলেন ৯৫ বছর বয়সী যিনি হোলোকাস্ট বা ইহুদি গণহত্যা থেকে জীবিত ফিরেছিলেন। আর সবচেয়ে কনিষ্ঠ ছিলেন মাত্র ৭ বছর বয়সী ক্যানসার আক্রান্ত ইউক্রেনীয় শিশু।
যুদ্ধ চলাকালে ইরান থেকে প্রায় ৫৫০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ১,০০০ ড্রোন ছোড়া হয় ইসরায়েলের দিকে। এর মধ্যে ৩৬টি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিপূর্ণ এলাকায় আঘাত হানে। আহত হন ৩,২৩৮ জন, ক্ষতিগ্রস্ত হয় শতাধিক ভবন, গৃহহীন হন অন্তত ১৩,০০০ মানুষ।
১৩ জুন, রামাত গানে প্রথম হামলায় নিহত হন ৭৪ বছর বয়সী এতি কোহেন অ্যাঞ্জেল। তিনি ছিলেন পেশায় মেডিকেল পেডিকিউরিস্ট। হামলার সময় তিনি তাঁর অ্যাপার্টমেন্টেই ছিলেন। তাঁর প্রেমিক গুরুতর আহত হয়ে বেঁচে যান।
১৪ জুন রিশন লে-সিয়নে এক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হন ৭৩ বছর বয়সী ইসরায়েল আলোনি ও ৭৪ বছর বয়সী ইউক্রেনীয় অভিবাসী সার্জন ইয়েভগেনিয়া ব্লিন্ডার। আলোনি পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় ধরে নরসুন্দর হিসেবে কাজ করেছেন। ব্লিন্ডার ইসরায়েলে আসার পর বার্ধক্যজনিত সেবায় নিয়োজিত ছিলেন।
ঐ দিন রাতেই, উত্তর ইসরায়েলের তামরা শহরে এক পরিবারের চার নারী নিহত হন—স্কুলশিক্ষিকা মানার খাতিব, তাঁর কন্যা শাদা ও হালা এবং তাঁর ননদ মানার দিয়াব খাতিব। তাঁদের পরিবার জানায়, নিহত সবাই ছিলেন শিক্ষাজীবনে নিবেদিত ও সামাজিকভাবে সক্রিয়।
১৫ জুন, বাত ইয়ামে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলায় নিহত হন নয়জন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনই ইউক্রেন থেকে আগত একটি পরিবারের সদস্য। ৭ বছর বয়সী অনাস্থাসিয়া বুরিক তাঁর ক্যানসার চিকিৎসার জন্য মা মারিয়া, দাদী ও দুই চাচাত ভাইয়ের সঙ্গে ইসরায়েল এসেছিলেন। সবাই একই ক্ষেপণাস্ত্রে প্রাণ হারান। সেই হামলায় আরও নিহত হন এফ্রাত সারাঙ্গা (৪৪), মিকি নাহুম (৬১), মেইর ভাকনিন (৫৬) এবং ৯৪ বছর বয়সী হলোকাস্ট-উদ্ধার বেলিনা আশকেনাজি। তাঁর ১০০ বছর বয়সী স্বামী হাইম আশকেনাজি হামলা থেকে বেঁচে যান।
১৬ জুন, পেতাহ তিকভা ও বনে ব্রাক শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারান ডেইজি ইটজাকি (৮৫), হাদাসা ও ইয়াকভ বেলো দম্পতি (দুজনের বয়সই ৭৭) এবং ৯৫ বছর বয়সী হলোকাস্ট-উদ্ধার ইভেট শ্মিলোভিৎস। বনে ব্রাকে একই দিনে নিহত হন ৭৫ বছর বয়সী আভরাহাম কোহেন।
হাইফার বাজান তেল শোধনাগারে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে দগ্ধ হয়ে মারা যান তিন কর্মচারী—ইগর ফ্রাডকিন (৫০), উরি লেভি (৫৮) এবং ড্যানিয়েল আভরাহাম (৫৯)। তাঁরা নিরাপদ কক্ষে ছিলেন, তবে আগুন ও ধোঁয়ার কারণে বের হতে পারেননি।
২৪ জুন, যুদ্ধবিরতির ঠিক আগমুহূর্তে বিয়ারশেভায় এক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হন চারজন—৭৩ বছর বয়সী নাওমি শানান, ৫০ বছর বয়সী মিখাল জ্যাকস, তাঁর ১৮ বছর বয়সী ছেলে এবং আইডিএফ সদস্য করপোরাল এইতান জ্যাকস ও তাঁর বান্ধবী নোয়া বোগুসলাভস্কি। এইতানের বাবা ইগর আহত অবস্থায় বেঁচে যান। মা মিখাল ছিলেন শান্তিপন্থী এক মানবাধিকারকর্মী। এইতান সদ্য সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন, আর নোয়া স্কুলজীবন শেষ করছিলেন।
খবরওয়ালা/এন