খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬
ইরানের বিভিন্ন শহরে চলমান বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনী আরও কড়া অবস্থান নিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বিক্ষোভকারীদের ওপর সরাসরি গুলি চালানো হচ্ছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী প্রায় দুই হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে, তবে ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রোববার, ১১ জানুয়ারি, লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে যে দেশজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে বিক্ষোভের আকার, স্থান ও তীব্রতা নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকার তথ্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর হওয়ায় স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের জন্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দক্ষিণ তেহরানের কাহরিজাক এলাকার একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল শেডের কাছে ভিডিও ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীর তথ্য অনুযায়ী কয়েক ডজন মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। কিছু মরদেহ ‘বডি ব্যাগ’-এ রাখা হয়েছে। একই রকম চিত্র ফারদিস, কারাজ এবং পূর্ব তেহরানের আলঘাদির হাসপাতাল থেকেও পাওয়া গেছে। এটি নির্দেশ করছে যে, শক্তিপ্রয়োগ কেবল নির্দিষ্ট একটি শহরে সীমাবদ্ধ নয়; বিক্ষোভ wherever হচ্ছে, সেখানে লাঠি, গুলি ও অন্যান্য প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে।
উত্তরাঞ্চলের রাশত শহরের একজন চিকিৎসক জানিয়েছেন, মাত্র একটি হাসপাতালেই অন্তত ৭০টির বেশি মরদেহ পৌঁছেছে। তেহরান ও কারাজের ফারদিস এলাকায় সহিংসতা সবচেয়ে তীব্র, তবে অন্যান্য শহর থেকেও বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর খবর পাওয়া গেছে।
নিম্নের টেবিলে বিক্ষোভ দমন ও প্রাণহানির পরিস্থিতি সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| এলাকা / হাসপাতাল | রিপোর্টকৃত মৃতের সংখ্যা | পরিস্থিতি মন্তব্য |
|---|---|---|
| কাহরিজাক, তেহরান | কয়েক ডজন | মরদেহ বডি ব্যাগে; সরাসরি গুলি ব্যবহার |
| ফারদিস, কারাজ | ৭০+ | একাধিক হাসপাতালে মরদেহ পৌঁছেছে |
| পূর্ব তেহরান, আলঘাদির হাসপাতাল | অসংখ্য | কেন্দ্রীয় অস্ত্র ও গুলি প্রয়োগ |
| অন্যান্য শহর | অনির্দিষ্ট | স্থানীয় সূত্রে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের খবর |
সাধারণ ইন্টারনেট বন্ধ থাকার কারণে, কিছু বিক্ষোভকারী ইলন মাস্কের স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহার করে হত্যাকাণ্ডের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করছেন।
বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, প্রাণঘাতী অস্ত্র এবং তথ্য নিয়ন্ত্রণের সংমিশ্রণ প্রকৃত পরিস্থিতি বোঝাকে অত্যন্ত কঠিন করে তুলেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ দমন অভিযান তীব্র ও ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক থাকার জন্য এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন রোধে বিশ্ব সম্প্রদায়কে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।