ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: ১০ দিনে দেড় শতাধিক মার্কিন সেনা হতাহত

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ইরানের সাথে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হওয়ার মাত্র ১০ দিনের মাথায় মার্কিন সামরিক বাহিনীতে হতাহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার জানানো হয়েছে যে, এই স্বল্প সময়ের ব্যবধানে প্রায় ১৫০ জন মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। এর আগে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র আড়াল করার চেষ্টা করলেও বর্তমানে তারা এই বিশাল সংখ্যক সেনা আহতের বিষয়টি স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে।

হতাহতের পরিসংখ্যান ও পেন্টাগনের স্বীকারোক্তি

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র শুরুর দিকে পেন্টাগন কেবল আটজন সেনা গুরুতর আহত হওয়ার খবর প্রকাশ করেছিল। তবে রয়টার্সের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর পেন্টাগন এক বিবৃতিতে জানায়, আহত সেনার সংখ্যা আসলে ১৪০ জনের কাছাকাছি। এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে আটজন মার্কিন সেনাসদস্যের প্রাণহানি ঘটেছে। পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে অধিকাংশের আঘাত সামান্য হলেও আটজন সেনার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

নিচে গত ১০ দিনের যুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো:

ক্যাটাগরি সংখ্যা (জন) বর্তমান অবস্থা
মোট নিহত মৃতদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে
মোট আহত প্রায় ১৫০ চিকিৎসাধীন ও পর্যবেক্ষণে রয়েছেন
পেশাগত দায়িত্বে ফেরত ১০৮ প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কাজে যোগ দিয়েছেন
গুরুতর আহত নিবিড় পর্যবেক্ষণে ও উন্নত চিকিৎসা নিচ্ছেন
সম্ভাব্য আঘাতের ধরণ অনির্ধারিত ট্রমাটিক ব্রেইন ইনজুরি (TBI) হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল

ইরানের প্রতিরোধ ও পাল্টা হামলা

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার জবাবে ইরান অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। গত ১০ দিনে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল। কেবল সামরিক ঘাঁটিই নয়, ইরান আরব উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশন, গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক হোটেল, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং জ্বালানি অবকাঠামোতেও আঘাত হেনেছে। সমর বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের এই বহুমুখী আক্রমণ মার্কিন বাহিনীর অগ্রযাত্রাকে কিছুটা হলেও মন্থর করে দিয়েছে।

পেন্টাগন দাবি করছে যে, যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ের তুলনায় বর্তমানে ইরানি হামলার তীব্রতা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। মার্কিন বিমান বাহিনী নিরবিচ্ছিন্নভাবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং অস্ত্রের মজুত লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের দাবি, ইরানের সামরিক সক্ষমতা ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে পড়ছে।

মার্কিন জেনারেলের ভাষ্য ও যুদ্ধের ভবিষ্যৎ

ইরান প্রত্যাশার চেয়ে বেশি শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন কিছুটা রক্ষণাত্মক উত্তর দিয়েছেন। মঙ্গলবার পেন্টাগনের এক ব্রিফিংয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “ইরান লড়াই করছে এবং আমরা তাদের এই প্রতিরোধকে সম্মান করি। তবে তারা আমাদের ধারণার চেয়ে বেশি শক্তিশালী, এটি সঠিক নয়। যুদ্ধ আমাদের পরিকল্পনামাফিকই এগোচ্ছে।”

তবে স্বাধীন সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন ভিন্ন কথা। আহতের এই বিশাল সংখ্যা এবং বিশেষ করে বিস্ফোরণজনিত মানসিক আঘাত বা ‘ট্রমাটিক ব্রেইন ইনজুরি’ (TBI)-র আশঙ্কা মার্কিন সৈন্যদের মনোবল কমিয়ে দিতে পারে। অতীতে দেখা গেছে, এ ধরনের ইনজুরি তাত্ক্ষণিকভাবে ধরা না পড়লেও দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক ও মানসিক সমস্যার সৃষ্টি করে। মধ্যপ্রাচ্যের এই প্রক্সি যুদ্ধ এখন সরাসরি দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধের রূপ নেওয়ায় বৈশ্বিক শান্তি ও অর্থনীতি চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।