ইসরায়েলপন্থি নির্বাহী আদেশ বাতিল করে মামদানির নতুন অধ্যায়

‘প্রিয় নিউইয়র্কবাসী, আজ থেকে আমাদের জন্য শুরু হচ্ছে এক নতুন অধ্যায়।’—নিউইয়র্কের মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণের পর জোহরান মামদানির এই উদ্বোধনী বক্তব্য কেবল একটি ঘোষণা ছিল না, বরং তা ছিল খোলনলচে বদলে যাওয়া এক রাজনীতির ইশতেহার। ২০২৬ সালের প্রথম দিনেই এক কনকনে শীতের সকালে নিউইয়র্কের ৮ কোটি ৫০ লাখ মানুষের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব বুঝে নেন ৩৪ বছর বয়সী এই রাজনীতিক। প্রথম দিনেই তিনি সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামসের জারি করা বিতর্কিত নির্বাহী আদেশগুলো বাতিল করে নিজের সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, যার মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য ছিল ইসরায়েল বর্জন ও বিনিয়োগ প্রত্যাহারের ওপর নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশটি।

শপথ ও ঐতিহাসিক অভিষেক

নিউইয়র্কের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে জোহরান মামদানি পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে শপথ গ্রহণ করেন। শপথ অনুষ্ঠানটি ছিল উৎসবমুখর। হিমাঙ্কের ১০ ডিগ্রি নিচে তাপমাত্রার তোয়াক্কা না করে লোয়ার ম্যানহাটানের সিটি হলের সামনে জড়ো হয়েছিলেন প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতা আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ এবং বর্ষীয়ান নেতা বার্নি স্যান্ডার্সের উপস্থিতিতে এই অভিষেক অনুষ্ঠানটি নিউইয়র্কের ইতিহাসে অন্যতম বর্ণাঢ্য আয়োজনে পরিণত হয়। মামদানি স্পষ্ট করে বলেন, তিনি একজন ‘গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী’ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন এবং সেই আদর্শেই শহর শাসন করতে চান।

প্রথম দিনের সাহসী পদক্ষেপ

দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মামদানি প্রমাণ করেছেন তিনি কেন ব্যতিক্রম। তিনি ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বরের পর থেকে সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামসের জারি করা সকল নির্বাহী আদেশ বাতিল ঘোষণা করেন। এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য ছিল মেয়র কার্যালয়কে দুর্নীতি ও বিশেষ স্বার্থগোষ্ঠীর প্রভাবমুক্ত করা। বিশেষ করে ইসরায়েল ইস্যুতে আগের প্রশাসনের একপাক্ষিক অবস্থান থেকে সরে এসে তিনি বাক-স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

একনজরে জোহরান মামদানির পরিচিতি ও লক্ষ্য:

বিষয় বিস্তারিত তথ্য
পুরো নাম জোহরান কোয়ামে মামদানি
বয়স ও ধর্ম ৩৪ বছর, ইসলাম ধর্মাবলম্বী
রাজনৈতিক আদর্শ গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র
প্রধান প্রতিশ্রুতি বিনামূল্যে বাস সেবা, শিশু পরিচর্যা ও ভাড়া নিয়ন্ত্রণ
শপথ বাক্য পাঠ করান সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ও লেটিসিয়া জেমস
চ্যালেঞ্জ ১০০০ কোটি ডলারের তহবিল সংগ্রহ ও ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ

চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

মেয়র মামদানির সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো তার উচ্চাভিলাষী নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা। বিনামূল্যে বাস সেবা এবং ১০ লাখ বাসাবাড়িতে সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তার প্রয়োজন প্রায় এক হাজার কোটি ডলার। এই বিশাল অংকের তহবিল সংগ্রহের জন্য তিনি নিউইয়র্কের উচ্চবিত্তদের ওপর কর বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন। তবে এজন্য তাকে নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলের সরাসরি সমর্থন পেতে হবে।

অন্যদিকে, ফেডারেল পর্যায়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মামদানির সম্পর্ক এক অম্ল-মধুর সমীকরণে দাঁড়িয়ে আছে। ট্রাম্প তাকে প্রকাশ্যে ‘কমিউনিস্ট’ বললেও সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে তাদের সাক্ষাতে সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া গেছে। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের প্রত্যাশা, মামদানির এই মানবিক ও সাহসী শাসন ব্যবস্থা সংখ্যালঘু ও শ্রমজীবী মানুষের জীবনে প্রকৃত ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।