আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ইসরায়েল লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় বেন্ত জবেইল শহরে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় একই পরিবারের তিন শিশুসহ পাঁচজন নিহত এবং অন্তত দুজন আহত হয়েছেন। নিহত ওই তিন শিশু ও তাদের বাবা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ছিলেন।
হামলায় শিশুদের মা আহত হয়েছেন। গত বছরের নভেম্বরে মার্কিন মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরেও ইসরায়েল তার প্রতিবেশী দেশ লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, রবিবারের ওই হামলায় একটি মোটরসাইকেল ও একটি গাড়িকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়, এতে আরও দুজন আহত হন। লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরি জানিয়েছেন, নিহত তিন শিশু—সেলিন, হাদি ও আসিল—এবং তাদের বাবা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ছিলেন। তাদের মা এই হামলায় আহত হয়েছেন।
ইসরায়েল দাবি করেছে, ওই হামলায় হিজবুল্লাহর একজন সদস্য নিহত হয়েছে, তবে তারা বেসামরিক লোকজনের প্রাণহানির ঘটনাও স্বীকার করেছে।
ইসরায়েল প্রায়ই দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে। তেলআবিবের দাবি, ইরান-সমর্থিত এই সংগঠন যাতে পুনরায় সামরিক শক্তি গড়ে তুলতে না পারে, সেজন্যই এসব হামলা চালানো হচ্ছে। গত যুদ্ধেই হিজবুল্লাহর বেশিরভাগ শীর্ষ নেতা নিহত হয়, যার মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রধান হাসান নাসরাল্লাহও ছিলেন।
এদিকে, সর্বশেষ এই হামলা ও হত্যাকাণ্ডের পর স্পিকার নাবিহ বেরি প্রশ্ন তোলেন, “লেবাননের শিশুরা কি ইসরায়েলের জন্য অস্তিত্বের সংকট তৈরি করছে? নাকি বিনা জবাবদিহিতায় বেসামরিক মানুষ হত্যা করাই আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য আসল হুমকি?”
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম এই হামলাকে “নতুন হত্যাকাণ্ড” হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “এটি একটি পাশবিক অপরাধ, যা দক্ষিণে নিজ গ্রামে ফিরে আসা মানুষদের মধ্যে ভয় জাগানোর উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।”
তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর নিন্দা জানানোর আহ্বান জানান।
লেবাননের শ্রমমন্ত্রী মোহাম্মদ হায়দার অভিযোগ করেন, ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে দক্ষিণাঞ্চলে ফিরে আসা সাধারণ মানুষকে নিশানা করছে। তিনি বলেন, “এই পরিকল্পনা সফল হবে না, কারণ দক্ষিণের মানুষের ইচ্ছাশক্তি অপরাধীর শক্তির চেয়ে অনেক শক্তিশালী।”
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র এবং সৌদি আরবসহ লেবাননের অভ্যন্তরে থাকা হিজবুল্লাহবিরোধী দলগুলো সংগঠনটিকে নিরস্ত্র করার জন্য চাপ দিচ্ছে। চলতি মাসের শুরুতে লেবানন সেনাবাহিনী সরকারকে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার একটি পরিকল্পনা উপস্থাপন করে।
তবে হিজবুল্লাহ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে,ইসরায়েল হামলা চালানো ও দক্ষিণ লেবাননের অংশ দখল করে রাখা অব্যাহত রাখায় তারা অস্ত্র পরিত্যাগ করবে না।