জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানুয়ারি-২০২৬ কর মেয়াদের ই-ভ্যাট রিটার্ন জমার সময়সীমা বৃদ্ধি করেছে। পবিত্র শবেবরাত ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দীর্ঘ সরকারি ছুটি এবং এ-চালান অনলাইন সিস্টেমে সার্ভার জটিলতার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন জানুয়ারি মাসের ভ্যাট রিটার্ন আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দাখিল করা যাবে।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) আগারগাঁওয়ের রাজস্ব ভবন থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এই সময়সীমা বৃদ্ধি ঘোষণা করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, “মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এর ধারা ৬৪(১ক) অনুযায়ী জনস্বার্থে এই সময়সীমা বৃদ্ধি করা হলো।”
এনবিআরের কর্মকর্তা জানাচ্ছেন, শবেবরাত ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে সরকারি কার্যক্রম কয়েকদিন সীমিত ছিল। এছাড়া ১৫ ফেব্রুয়ারি এ-চালান সিস্টেমে জুটিপি সার্ভার ডাউন থাকার কারণে অনেক করদাতা নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন দাখিল করতে পারেননি। এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে করদাতাদের সুবিধার্থে সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বর্তমানে দেশের সমস্ত ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানকে মাসিক রিটার্ন অনলাইনে দাখিল করতে হয়। ই-ভ্যাট ব্যবস্থা চালুর পর থেকে রিটার্ন গ্রহণ, কর পরিশোধ ও চালান ব্যবস্থাপনা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। তবে, সময়ের চাপ ও প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে মাঝে মাঝে করদাতারা সমস্যায় পড়েন।
এনবিআরের কর্মকর্তা আরও জানাচ্ছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা না হলে আইন অনুযায়ী বিলম্ব ফি ও আর্থিক জরিমানা প্রযোজ্য। সার্ভার সমস্যার কারণে যাতে করদাতা অযথা জরিমানা না পান, এজন্য এই সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এই সময়সীমা বৃদ্ধি শুধুমাত্র জানুয়ারি-২০২৬ কর মেয়াদের জন্য প্রযোজ্য। ২২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অনলাইনে রিটার্ন জমা দিলে তা সময়মতো জমা হিসাবে গণ্য হবে এবং কোনও বিলম্ব ফি আরোপ করা হবে না।
কর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে ই-ভ্যাট প্ল্যাটফর্মের সক্ষমতা বৃদ্ধি, সার্ভার আপগ্রেড ও বিকল্প ব্যাকআপ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এতে করদাতাদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং রাজস্ব আদায়ের প্রক্রিয়া আরও মসৃণ হবে।
নিচের টেবিলে জানুয়ারি-২০২৬ কর মেয়াদের মূল সময়সীমা ও নবনির্ধারিত সময়সীমা সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| কর মেয়াদ |
পুরানো শেষ সময় |
নতুন শেষ সময় |
প্রযোজ্য নোটস |
| জানুয়ারি-২০২৬ |
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ |
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ |
সার্ভার সমস্যার কারণে সময় বৃদ্ধি |
এনবিআর কর্মকর্তারা মনে করছেন, ভবিষ্যতে প্রযুক্তিগত ত্রুটি কমানোর জন্য সার্ভার স্থিতিশীলতা ও ডিজিটাল ব্যবস্থার সক্ষমতা আরও উন্নত করা অত্যন্ত জরুরি।