দক্ষিণ ইরানের আকাশে ভূপাতিত হওয়া একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধারের অভিযানে গিয়ে নতুন করে হামলার মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। সর্বশেষ পরিস্থিতিতে উদ্ধার তৎপরতা আরও জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূপাতিত হওয়া ‘এফ-১৫ই’ মডেলের যুদ্ধবিমানের দুই পাইলটের একজনকে ইতোমধ্যে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে অপর পাইলট এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁকে উদ্ধারের উদ্দেশ্যে গতকাল শুক্রবার বিশেষ অভিযান চালানো হয়। কিন্তু এই অভিযানের সময়ই যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি যুদ্ধবিমান এবং একটি হেলিকপ্টার শত্রুপক্ষের আক্রমণের শিকার হয়।
উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া ‘এ-১০’ মডেলের একটি যুদ্ধবিমান আক্রমণের মুখে পড়লে এর পাইলট জরুরি অবস্থায় সাগরে ঝাঁপ দিতে বাধ্য হন। পরে উদ্ধারকারী দল তাঁকে নিরাপদে তুলে আনতে সক্ষম হয়। একই সময়ে অভিযানে থাকা দুটি হেলিকপ্টারের একটিতে হালকা অস্ত্র দিয়ে গুলি চালানো হয়। এতে কয়েকজন ক্রু সদস্য আহত হন, যদিও হেলিকপ্টারটি শেষ পর্যন্ত নিরাপদে অবতরণ করতে পেরেছে।
এদিকে, ইরান দাবি করেছে যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘এ-১০’ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওই যুদ্ধবিমানটিকে আঘাত হানে, যার ফলে সেটি হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি এলাকায় বিধ্বস্ত হয়।
এই ঘটনার আগে একই দিনে দক্ষিণ ইরানের আকাশে একটি ‘এফ-১৫ই’ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। সেই দুর্ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্র সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, ইরানও নিজেদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি জোরদার করেছে এবং আকাশ প্রতিরক্ষায় বাড়তি সতর্কতা নিয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা হলো—ইরান যে দ্বিতীয় যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত করার দাবি করছে, সেটি উদ্ধার অভিযানে হামলার মুখে পড়া বিমানটির সঙ্গে একই কি না। এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
নিচে ঘটনাপ্রবাহের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো—
| সময় ও প্রেক্ষাপট |
প্রধান ঘটনা |
| শুক্রবার সকাল |
দক্ষিণ ইরানের আকাশে ‘এফ-১৫ই’ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত |
| পরবর্তী সময় |
একজন পাইলট উদ্ধার, অন্যজন নিখোঁজ |
| শুক্রবার দুপুর |
নিখোঁজ পাইলট উদ্ধারে অভিযান শুরু |
| অভিযান চলাকালে |
‘এ-১০’ যুদ্ধবিমান আক্রান্ত, পাইলট সাগরে ঝাঁপ |
| একই সময় |
হেলিকপ্টারে গুলি, কয়েকজন ক্রু আহত |
| ইরানের দাবি |
একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত |
এই ঘটনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক এই সংঘর্ষ প্রস্তাবিত কূটনৈতিক আলোচনায় কোনো প্রভাব ফেলবে না। তাঁর ভাষায়, এটি যুদ্ধ পরিস্থিতিরই অংশ এবং এ ধরনের ঘটনা অস্বাভাবিক নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারাবাহিক উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথের কাছে সংঘটিত এসব সামরিক ঘটনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত না হলে এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।