খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫
কুমিল্লার মুরাদনগরের বাঙ্গরা বাজারের কড়াইবাড়ীতে গত ৩ জুলাই ভয়াবহ এক হত্যাকাণ্ড ঘটে রিক্তা আক্তারের চোখের সামনে। ধারালো অস্ত্র ও পাথর দিয়ে কুপিয়ে ও থেতলে হত্যা করা হয় তার মা রুবি আক্তার, ভাই রাসেল ও বোন জোনাকিকে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন ছোট বোন রুমা আক্তার। হামলা থেকে রেহাই পায়নি ভাইয়ের ১১ মাসের শিশু রাইসাও।
সেদিন টয়লেটে লুকিয়ে প্রাণে বাঁচেন রিক্তা আক্তার ও তার ভাবি মিম আক্তার। ঘটনার পর আসামিরা পলাতক থাকার কথা থাকলেও উল্টো ঘরছাড়া হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন রিক্তারা। তার অভিযোগ, মামলার প্রধান আসামি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান শিমুল বিল্লাহসহ অনেকে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বাবার আশ্রয়ে রয়েছেন। এজন্য পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না।
রিক্তা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘চেয়ারম্যান শিমুল বিল্লাহসহ আসামিরা বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে, আর আমরা পালিয়ে বেড়াচ্ছি। তারা আমাদের খুঁজে পেলে টুকরো টুকরো করে ফেলবে বলে হুমকি দিচ্ছে।’
রিক্তা ও তার ভাবি মিম আক্তারের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতরা যুব উন্নয়ন ও স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের আশ্রয়ে রয়েছে।
এর আগে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর একই ইউনিয়নের আকুবপুর ইয়াকুব আলী ভূঁইয়া পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ে নির্মম নির্যাতনের শিকার হন ওই স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক শিখা রাণী। তিনি অভিযোগ করেন, সেদিন স্কুলের একটি কক্ষে আটকে তাকে পদত্যাগে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়। রাজি না হলে তাকে বিবস্ত্র করে ৬ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে নির্যাতন চালানো হয়। পরে তাকে স্কুল থেকে বের করে গ্রামে ঘোরানো হয়, যার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সেই ভিডিওতে অভিযুক্তদের দলে দেখা যায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বাবা ও স্কুলটির প্রধান শিক্ষক বিল্লাল হোসেনকেও।
শিখা রাণী বলেন, ‘২০১৪ সালে স্কুলের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিল্লাল হোসেন বহিষ্কৃত হলে আমি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হই। এটাই আমার অপরাধ। এখন তার ছেলে উপদেষ্টা হয়েছে দেখে ভেবেছিলাম হয়তো শান্তি পাব, কিন্তু উল্টো নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। শিমুল চেয়ারম্যান, সাত্তার মেম্বার, সালাউদ্দীন ও বাশারদের দিয়ে আমাকে হেনস্তা করেছে।’
তিনি অভিযোগ করেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ নেয়নি। আদালতে মামলা করলেও তা খারিজ করে দেওয়া হয়।
তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি স্থানীয় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলীর অভিজ্ঞতাও প্রায় একই। তিনি বলেন, বিল্লাল হোসেন প্রধান শিক্ষক থাকা অবস্থায় সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা তোলেন। এ কারণে তাকে পদচ্যুত করা হয়। এখন তার ছেলে উপদেষ্টা হওয়ায় প্রতিশোধ নিচ্ছেন।
মোহাম্মদ আলী আরও বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে পুলিশ দিয়ে ধরে এনে রিমান্ডের নামে আমাকে নির্যাতন করা হয়। পরে বিল্লালের সহযোগী মাসুদের মাধ্যমে ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ না নেওয়ার মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পাই।’
এছাড়াও, স্থানীয় মাছ চাষি দুলাল চন্দ্র অভিযোগ করেন, উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বাবার নির্দেশে শিমুল চেয়ারম্যান, সাত্তার মেম্বার, সালাউদ্দীন, মাসুদ ও বাশার তার পুকুর দখল ও গাছ কেটে নিয়েছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বাবা স্থানীয় স্কুল শিক্ষক বিল্লাল হোসাইন বলেন, শিমুল চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমার একটা ছবি ছড়িয়ে বলা হচ্ছে আমি নাকি ত্রিপল মার্ডারকারীদের আশ্রয় দিচ্ছি। শিমুল আমাদের ইউনিয়নের রানিং চেয়ারম্যান আর আমি স্কুলের হেড মাস্টার। স্বাভাবিকভাবেই তার সঙ্গে আমার উঠা-বসা হতে পারে। একে-অপরকে চা খাওয়াতে পারি। কিন্তু সেই সময়ে ছবি তুলে সেটা প্রচার করে আমাদের অযথা দোষী বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। অথচ এই ছবিটা আরও ৬ মাস আগের, আর মার্ডার হয়েছে ৩ জুলাই।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি নেতা কায়কোবাদ মনে করছেন আসিফ মাহমুদ এই আসন থেকে নির্বাচনে দাঁড়াবেন। এজন্য তাকে যেকোনো বিষয়ে টেনে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছেন তারা। কারা এসব ছড়াচ্ছে আমরা সব দেখতেছি। যে বা যারা এসব ছড়াচ্ছে তাদের আমরা ধরবো। কী কারণে বলছে প্রমান দিতে বলবো। প্রমান না দিতে পারলে মানহানির জন্য এদেরকে কোন জায়গায় যে নেব আমরা…।
বাবার বিরুদ্ধে ওঠা ক্ষমতার অপব্যাবহারের অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের মোবাইলে বার বার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
সূত্র: বাংলাভিশন
খবরওয়ালা/এন