খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 25শে মাঘ ১৪৩২ | ৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
সিঙ্গাপুরের আবাসন বাজারে ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী দাম এবং ক্রমবর্ধমান উন্নয়নের প্রেক্ষাপটে দেশটির সম্পত্তি বিমা (Property Insurance) খাতে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তনের পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। গ্লোবালডেটা পিএলসি-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে সিঙ্গাপুরের এই বাজার ৬.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ক্রমবর্ধমান আবাসন মূল্য কেবল ক্রেতাদের পকেটেই টান দিচ্ছে না, বরং বিমা খাতের পরিধি এবং ধরণকেও আমূল বদলে দিচ্ছে।
২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে সিঙ্গাপুরের সাধারণ বিমা খাতের মোট প্রিমিয়াম বার্ষিক ৬.৪ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়ে ১.২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। বর্তমানে সাধারণ বিমা বাজারের প্রায় ১৯ শতাংশ দখল করে আছে সম্পত্তি বিমা, যা একে দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম বিমা ব্যবসায় পরিণত করেছে। ব্যক্তিগত আবাসন এবং সরকারি হাউজিং বোর্ড (HDB) ফ্ল্যাটের উচ্চ চাহিদা এই প্রবৃদ্ধির প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে।
নিচে সিঙ্গাপুরের আবাসন ও বিমা বাজারের একটি সংক্ষিপ্ত তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | ২০২৬ সালের সম্ভাব্য পরিবর্তন / তথ্য |
| ব্যক্তিগত আবাসন মূল্যবৃদ্ধি | ২% থেকে ৪% |
| ব্যক্তিগত বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি | ২% পর্যন্ত |
| সম্পত্তি বিমা খাতের প্রবৃদ্ধি | ৬.৩% (বার্ষিক) |
| মোট প্রিমিয়ামের লক্ষ্যমাত্রা (২০৩০) | ১.২ বিলিয়ন ডলার |
| উচ্চমূল্যের সম্পত্তি লেনদেন বৃদ্ধি | ২০% এর বেশি (৫ মিলিয়ন ডলারের উপরে) |
| আবাসিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বৃদ্ধি | ৮.৬% (১০৫১টি মামলা) |
সিঙ্গাপুরে হাউজিং ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (HDB) ফ্ল্যাটের পুনঃবিক্রয় এবং ব্যক্তিগত আবাসন আপগ্রেড করার প্রবণতা বিমার প্রয়োজনীয়তাকে বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে বিলাসবহুল আবাসন বাজারে ব্যাপক জোয়ার দেখা গেছে। ৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের সম্পত্তির লেনদেন আগের বছরের তুলনায় ২০ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে প্রতি ইউনিটের গড় মূল্য প্রায় ১০ মিলিয়ন ডলার। এই উচ্চবিত্ত ক্রেতারা এখন কেবল সাধারণ বিমা নয়, বরং তাদের মূল্যবান আসবাবপত্র এবং সাজসজ্জার জন্য ‘হায়ার-লিমিট’ বা কাস্টমাইজড বিমা পলিসি খুঁজছেন।
অন্যদিকে, গত বছর আবাসিক এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ৮.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারের বাধ্যতামূলক অগ্নিকাণ্ড বিমা কেবল ভবনের কাঠামোগত ক্ষতি পূরণ করে, কিন্তু ঘরের ভেতরের আসবাব বা মূল্যবান জিনিসের সুরক্ষা দেয় না। এই সচেতনতা সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে ব্যক্তিগত হোম ইন্স্যুরেন্স গ্রহণের হার বাড়িয়ে দিয়েছে।
২০২৫ সালের জুলাই মাসে সিঙ্গাপুর সরকার সম্পত্তি ধরে রাখার ন্যূনতম সময়সীমা ৩ বছর থেকে বাড়িয়ে ৪ বছর করেছে এবং স্ট্যাম্প ডিউটি বৃদ্ধি করেছে। দীর্ঘ সময় সম্পত্তি নিজেদের অধীনে রাখার বাধ্যবাধকতা থাকায় মালিকরা এখন স্বল্পমেয়াদী বিমার পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদী এবং বিস্তৃত বিমা পলিসির দিকে ঝুঁকছেন।
প্রযুক্তির ছোঁয়াও লেগেছে এই খাতে। ২০২৬ সালের মধ্যে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিমা ক্রয়ের হার কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। অনেক ভাড়া প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম এখন ঘর ভাড়ার সাথে আসবাবপত্র ও সংস্কারকাজের বিমাও প্যাকেজ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করছে। ফলে ভাড়াটিয়ারাও এখন বীমার নিরাপত্তার আওতায় আসছেন।
সবশেষে বলা যায়, সিঙ্গাপুরের বিমা খাতের ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে দ্রুত দাবি নিষ্পত্তি এবং ডিজিটাল সেবার ওপর। যে প্রতিষ্ঠানগুলো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিজেদের সহজলভ্য করবে, তারাই আগামী দশকে বাজারের সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ করবে।