খবরওয়ালা মফস্বল ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫
চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার একটি বেসরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অংশগ্রহণ করেন সাবিকুননাহার জুমা। তবে প্রকাশিত ফলাফলে তার রোল নম্বরে পাওয়া যায় একই বিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের দশম শ্রেণির ছাত্র ফারদীন হোসেনের ফল। এই ঘটনায় সাবিকুননাহারের পরিবার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দায়বদ্ধতা ও অবহেলার অভিযোগ তুলেছে।
সাবিকুননাহার জুমা উপজেলার উত্তর নাগদা গ্রামের ইসমাইল খানের মেয়ে। তিনি আলহাজ্ব তোফাজ্জল হোসেন ঢালী উচ্চবিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী হিসেবে এসএসসি পরীক্ষা দেন।
তার বাবা ইসমাইল খান জানান, সাবিকুননাহারের রেজিস্ট্রেশন ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে নবম শ্রেণির জন্য সম্পন্ন করা হয়। নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে, ওই বছর এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করা হয়েছিল। তবে পরীক্ষার শুরুতে সকল পরীক্ষার্থীকে প্রবেশপত্র দেওয়া হলেও সাবিকুননাহারকে প্রবেশপত্র দেওয়া হয়নি। পরে মৌখিক অনুমতির মাধ্যমে, তার প্রথম চারটি পরীক্ষা নেয় কর্তৃপক্ষ। এরপর তাকে প্রবেশপত্র দেওয়া হয় এবং তার পরীক্ষাগুলি মোটামুটি ভালো হয়েছে।
কিন্তু যখন ফলাফল প্রকাশিত হয়, তখন তার রোল নম্বরের পরিবর্তে ফারদীন হোসেনের ফল পাওয়া যায়, যিনি এই বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেননি। সাবিকুননাহারের ফলাফলে দেখা যায়, তিনটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে, যেগুলি বাংলা, গণিত এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের একটি বিষয়।
এ বিষয়ে সাবিকুননাহারের বাবা বলেন, ‘পরীক্ষা দিলাম, কিন্তু ফল এসেছে অন্য ছাত্রের নামে। আমি খুব হতাশ। আমার মেয়েটি কঠোর পরিশ্রম করেছে, অথচ তার ফলাফলই নেই।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অবহেলা এবং দায়িত্বজ্ঞানহীনতার ফলস্বরূপ ঘটেছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, মাজহারুল হক জানান, ‘এটি একটি ভুল ছিল এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। ওই ছাত্রীর প্রবেশপত্র দেওয়ার ব্যাপারে অফিস সহকারীর ভুলের কারণে এমনটি ঘটেছে। তবে ঘটনার বিষয়ে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ ভিত্তিহীন।’
এই ঘটনার পরে কুমিল্লা বোর্ডের সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে বিষয়টি সমাধান হবে বলে জানান উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গাউছুল আজম পাটোয়ারী। তিনি আরও বলেন, ‘তদন্ত চলছে এবং কেউ যদি দোষী প্রমাণিত হয়, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে, সাবিকুননাহার এবং তার পরিবার আশাবাদী যে, তাদের মেয়ের সঠিক ফলাফল অবশেষে সংশোধন করা হবে।
খবরওয়ালা/আরডি