খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 7শে ফাল্গুন ১৪৩১ | ১৯ই ফেব্রুয়ারি ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক: এস আলম শিল্পগোষ্ঠীর ব্যাংক হিসাবে ২ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি)। সংস্থাটির সাত কর্মকর্তা গত এক মাসে ১০টি কম্পিউটার ব্যবহার করে এস আলমের ওই লেনদেনের তথ্য এন্ট্রি সম্পন্ন করতে পারেননি।
দেশের ব্যাংকগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মানি লন্ডারিং ও কর ফাঁকি রোধ বিষয়ক এক কর্মশালায় এনবিআরের শীর্ষস্থানীয় এক কর্মকর্তা এসব তথ্য প্রকাশ করেন। আগারগাঁওয়ে এনবিআর ভবনে আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট আয়োজিত ‘মানি লন্ডারিং ও কর ফাঁকি রোধে পারস্পরিক সহযোগিতা’ শীর্ষক কর্মশালায় এই তথ্য জানানো হয়।
কর্মশালায় সিআইসির মহাপরিচালক আহসান হাবিব বলেন, ‘আমাদের কাছে একটি শিল্পগোষ্ঠীর ব্যাংক হিসাবে ২ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য আছে। সাতজন কর কর্মকর্তা এক মাসেও ১০টি কম্পিউটারে ওই লেনদেনের তথ্য এন্ট্রির কাজ শেষ করতে পারেননি। গত বছরের ৩০ জুন ওই শিল্পগোষ্ঠীর ব্যাংক হিসাবে স্থিতি ছিল ৩৬ হাজার কোটি টাকা, যার বিপরীতে সুদ পেয়েছেন ৬ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা। তবে এসব অর্থের বড় অংশই ওই শিল্পগোষ্ঠীর আয়কর নথিতে দেখানো হয়নি। এখন আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি।’
কর্মশালার পর এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে আহসান হাবিব প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেন, যে শিল্পগোষ্ঠীর ব্যাংক লেনদেনের তথ্য নিয়ে তিনি কথা বলেছেন, সেটি এস আলম গ্রুপের লেনদেনের তথ্য।
কর্মশালায় সন্দেহভাজন কর ফাঁকিবাজদের সঠিক ও দ্রুত তথ্য দেওয়ার জন্য ব্যাংক কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান আহসান হাবিব। তিনি ব্যাংক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘অলিগার্করা আর ফিরে আসবে না। আপনারা ভুলে যান, কীভাবে চাকরি পেয়েছেন। আপনারা সন্দেহভাজন কর ফাঁকিবাজদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুন।’ কর্মশালায় এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কর ফাঁকির তথ্য দিতে কিছু ব্যাংক কর্মকর্তার গড়িমসির অভিযোগ করেন।
এনবিআরের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান অনুষ্ঠানে বলেন, ‘এনবিআরের চাহিদা অনুসারে তথ্য দেওয়া ব্যাংকের আইনি দায়িত্ব। তথ্য না দিলে আইনে কঠোর হওয়ার কথা বলা আছে। যদি তা হয়, তবে ব্যাংকগুলো প্রতিষ্ঠান হিসেবে খেলাপি হয়ে যাবে। তখন ওই সব ব্যাংকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকবে।’
বৃহৎ করদাতা ইউনিটের (এলটিইউ) কমিশনার খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘অনেকের ব্যাংক হিসাব বিবরণী নিয়ে দেখেছি, প্রতিদিন বিপুল অর্থ উত্তোলন হচ্ছে, কিন্তু কোথায় যাচ্ছে, জানি না। জিজ্ঞাসা করলে উত্তর দিতে পারেন না ব্যাংক কর্মকর্তারা।’
গণ-অভ্যুত্থানের পর, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, এনবিআরের কেন্দ্রীয় কর গোয়েন্দা সেল দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী গ্রুপগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী ও ব্যবসায়ীদের কর ফাঁকি খতিয়ে দেখতে শুরু করেছেন কর গোয়েন্দারা। এদের মধ্যে রয়েছে এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, সামিট গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, ওরিয়ন গ্রুপ, নাসা গ্রুপ।
খবরওয়ালা/জেআর