খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
কুমিল্লা জেলায় হামের (মিজেলস) উপসর্গ ও সংক্রমণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৫০ জন নতুন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে একজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যিনি হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
রবিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. রেজা সারোয়ার আকবর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে হামের মতো উপসর্গ নিয়ে রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তবে অনেক রোগী চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, একদিনে নতুন করে ৫০ জনকে সন্দেহজনক হাম রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং ২২ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে নতুন ও পুরাতন মিলিয়ে বেশ কিছু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
২০২৬ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত কুমিল্লা জেলায় মোট ৭৫৭ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় ২৮ জনের হাম সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। একই সময়ে উপসর্গ নিয়ে ৫ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে স্বাস্থ্য বিভাগ নিশ্চিত করেছে। এছাড়া ৪২১ জন রোগীকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যাদের মধ্যে ৩১০ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং ১১১ জন এখনও চিকিৎসাধীন আছেন।
সর্বশেষ মৃত্যুর ঘটনায় নিহত শিশুটি মো. হোসাইন (১০ মাস), যিনি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাসিন্দা। পরিবারের সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী, শিশুটি জ্বর, শরীরে র্যাশ এবং শারীরিক দুর্বলতার কারণে গত ১৪ এপ্রিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয় এবং ১৭ এপ্রিল রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা সাধারণত শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদান কর্মসূচি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না হলে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে এ ধরনের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আক্রান্ত এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হচ্ছে। পাশাপাশি অভিভাবকদের শিশুদের নিয়মিত টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নিম্নে কুমিল্লায় হামের বর্তমান পরিস্থিতির একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নতুন সন্দেহজনক রোগী | ৫০ জন (২৪ ঘণ্টায়) |
| হাসপাতালে ভর্তি | ১৫ জন |
| সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে | ২২ জন |
| মোট সন্দেহজনক রোগী (২০২৬) | ৭৫৭ জন |
| ল্যাবে নিশ্চিত রোগী | ২৮ জন |
| মোট মৃত্যু | ৫ জন |
| বর্তমান চিকিৎসাধীন | ১১১ জন |
| সর্বশেষ নিহত শিশু | মো. হোসাইন (১০ মাস) |
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে গ্রামীণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত নজরদারি না বাড়ালে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।