বুধবার, ২৯ই এপ্রিল ২০২৬, ১৬শে বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ২৯ই এপ্রিল ২০২৬, ১৬শে বৈশাখ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ :
টানা বৃষ্টিতে দেশের চার নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়াল, পাঁচ জেলায় বন্যা সতর্কতা সুবর্ণচরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু: বজ্রপাত নয়, আত্মহত্যা বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতিসংঘে ১৭৩ আইনজীবীর আবেদন যাত্রী সেজে কাস্টমস কর্মকর্তাকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৫ ইরান চাইলে আলোচনা করতে পারে: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে ট্রাম্পের নতুন বার্তা শাহবাগে সাংবাদিক আহত ঘটনায় তদন্তে ছাত্রদল কমিটি বগুড়ায় বিএনপি নেত্রীর প্রক্সি পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে কলেজছাত্রী আটক হরমুজে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করাতে ওমান উপকূলে জাহাজে ইরানি বাহিনীর হামলা ভোলায় নদীপথে চার হাজার দুইশ লিটার পেট্রোল জব্দ কুষ্টিয়া-৩ আসনের এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা টানা বৃষ্টিতে দেশের চার নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়াল, পাঁচ জেলায় বন্যা সতর্কতা সুবর্ণচরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু: বজ্রপাত নয়, আত্মহত্যা বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতিসংঘে ১৭৩ আইনজীবীর আবেদন যাত্রী সেজে কাস্টমস কর্মকর্তাকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৫ ইরান চাইলে আলোচনা করতে পারে: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে ট্রাম্পের নতুন বার্তা শাহবাগে সাংবাদিক আহত ঘটনায় তদন্তে ছাত্রদল কমিটি বগুড়ায় বিএনপি নেত্রীর প্রক্সি পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে কলেজছাত্রী আটক হরমুজে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করাতে ওমান উপকূলে জাহাজে ইরানি বাহিনীর হামলা ভোলায় নদীপথে চার হাজার দুইশ লিটার পেট্রোল জব্দ কুষ্টিয়া-৩ আসনের এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা টানা বৃষ্টিতে দেশের চার নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়াল, পাঁচ জেলায় বন্যা সতর্কতা সুবর্ণচরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু: বজ্রপাত নয়, আত্মহত্যা বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতিসংঘে ১৭৩ আইনজীবীর আবেদন যাত্রী সেজে কাস্টমস কর্মকর্তাকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৫ ইরান চাইলে আলোচনা করতে পারে: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে ট্রাম্পের নতুন বার্তা শাহবাগে সাংবাদিক আহত ঘটনায় তদন্তে ছাত্রদল কমিটি বগুড়ায় বিএনপি নেত্রীর প্রক্সি পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে কলেজছাত্রী আটক হরমুজে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করাতে ওমান উপকূলে জাহাজে ইরানি বাহিনীর হামলা ভোলায় নদীপথে চার হাজার দুইশ লিটার পেট্রোল জব্দ কুষ্টিয়া-৩ আসনের এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা টানা বৃষ্টিতে দেশের চার নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়াল, পাঁচ জেলায় বন্যা সতর্কতা সুবর্ণচরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু: বজ্রপাত নয়, আত্মহত্যা বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতিসংঘে ১৭৩ আইনজীবীর আবেদন যাত্রী সেজে কাস্টমস কর্মকর্তাকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৫ ইরান চাইলে আলোচনা করতে পারে: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে ট্রাম্পের নতুন বার্তা শাহবাগে সাংবাদিক আহত ঘটনায় তদন্তে ছাত্রদল কমিটি বগুড়ায় বিএনপি নেত্রীর প্রক্সি পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে কলেজছাত্রী আটক হরমুজে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করাতে ওমান উপকূলে জাহাজে ইরানি বাহিনীর হামলা ভোলায় নদীপথে চার হাজার দুইশ লিটার পেট্রোল জব্দ কুষ্টিয়া-৩ আসনের এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা টানা বৃষ্টিতে দেশের চার নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়াল, পাঁচ জেলায় বন্যা সতর্কতা সুবর্ণচরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু: বজ্রপাত নয়, আত্মহত্যা বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতিসংঘে ১৭৩ আইনজীবীর আবেদন যাত্রী সেজে কাস্টমস কর্মকর্তাকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৫ ইরান চাইলে আলোচনা করতে পারে: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে ট্রাম্পের নতুন বার্তা শাহবাগে সাংবাদিক আহত ঘটনায় তদন্তে ছাত্রদল কমিটি বগুড়ায় বিএনপি নেত্রীর প্রক্সি পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে কলেজছাত্রী আটক হরমুজে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করাতে ওমান উপকূলে জাহাজে ইরানি বাহিনীর হামলা ভোলায় নদীপথে চার হাজার দুইশ লিটার পেট্রোল জব্দ কুষ্টিয়া-৩ আসনের এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা টানা বৃষ্টিতে দেশের চার নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়াল, পাঁচ জেলায় বন্যা সতর্কতা সুবর্ণচরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু: বজ্রপাত নয়, আত্মহত্যা বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতিসংঘে ১৭৩ আইনজীবীর আবেদন যাত্রী সেজে কাস্টমস কর্মকর্তাকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৫ ইরান চাইলে আলোচনা করতে পারে: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে ট্রাম্পের নতুন বার্তা শাহবাগে সাংবাদিক আহত ঘটনায় তদন্তে ছাত্রদল কমিটি বগুড়ায় বিএনপি নেত্রীর প্রক্সি পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে কলেজছাত্রী আটক হরমুজে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করাতে ওমান উপকূলে জাহাজে ইরানি বাহিনীর হামলা ভোলায় নদীপথে চার হাজার দুইশ লিটার পেট্রোল জব্দ কুষ্টিয়া-৩ আসনের এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা টানা বৃষ্টিতে দেশের চার নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়াল, পাঁচ জেলায় বন্যা সতর্কতা সুবর্ণচরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু: বজ্রপাত নয়, আত্মহত্যা বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতিসংঘে ১৭৩ আইনজীবীর আবেদন যাত্রী সেজে কাস্টমস কর্মকর্তাকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৫ ইরান চাইলে আলোচনা করতে পারে: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে ট্রাম্পের নতুন বার্তা শাহবাগে সাংবাদিক আহত ঘটনায় তদন্তে ছাত্রদল কমিটি বগুড়ায় বিএনপি নেত্রীর প্রক্সি পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে কলেজছাত্রী আটক হরমুজে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করাতে ওমান উপকূলে জাহাজে ইরানি বাহিনীর হামলা ভোলায় নদীপথে চার হাজার দুইশ লিটার পেট্রোল জব্দ কুষ্টিয়া-৩ আসনের এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা টানা বৃষ্টিতে দেশের চার নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়াল, পাঁচ জেলায় বন্যা সতর্কতা সুবর্ণচরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু: বজ্রপাত নয়, আত্মহত্যা বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতিসংঘে ১৭৩ আইনজীবীর আবেদন যাত্রী সেজে কাস্টমস কর্মকর্তাকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৫ ইরান চাইলে আলোচনা করতে পারে: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে ট্রাম্পের নতুন বার্তা শাহবাগে সাংবাদিক আহত ঘটনায় তদন্তে ছাত্রদল কমিটি বগুড়ায় বিএনপি নেত্রীর প্রক্সি পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে কলেজছাত্রী আটক হরমুজে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করাতে ওমান উপকূলে জাহাজে ইরানি বাহিনীর হামলা ভোলায় নদীপথে চার হাজার দুইশ লিটার পেট্রোল জব্দ কুষ্টিয়া-৩ আসনের এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা টানা বৃষ্টিতে দেশের চার নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়াল, পাঁচ জেলায় বন্যা সতর্কতা সুবর্ণচরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু: বজ্রপাত নয়, আত্মহত্যা বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতিসংঘে ১৭৩ আইনজীবীর আবেদন যাত্রী সেজে কাস্টমস কর্মকর্তাকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৫ ইরান চাইলে আলোচনা করতে পারে: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে ট্রাম্পের নতুন বার্তা শাহবাগে সাংবাদিক আহত ঘটনায় তদন্তে ছাত্রদল কমিটি বগুড়ায় বিএনপি নেত্রীর প্রক্সি পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে কলেজছাত্রী আটক হরমুজে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করাতে ওমান উপকূলে জাহাজে ইরানি বাহিনীর হামলা ভোলায় নদীপথে চার হাজার দুইশ লিটার পেট্রোল জব্দ কুষ্টিয়া-৩ আসনের এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা টানা বৃষ্টিতে দেশের চার নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়াল, পাঁচ জেলায় বন্যা সতর্কতা সুবর্ণচরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু: বজ্রপাত নয়, আত্মহত্যা বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতিসংঘে ১৭৩ আইনজীবীর আবেদন যাত্রী সেজে কাস্টমস কর্মকর্তাকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৫ ইরান চাইলে আলোচনা করতে পারে: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে ট্রাম্পের নতুন বার্তা শাহবাগে সাংবাদিক আহত ঘটনায় তদন্তে ছাত্রদল কমিটি বগুড়ায় বিএনপি নেত্রীর প্রক্সি পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে কলেজছাত্রী আটক হরমুজে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করাতে ওমান উপকূলে জাহাজে ইরানি বাহিনীর হামলা ভোলায় নদীপথে চার হাজার দুইশ লিটার পেট্রোল জব্দ কুষ্টিয়া-৩ আসনের এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

ঈদ সংখ্যা ২০২৫

গল্প

কুয়াশা কর্পূর, কাল, অন্ধকারের জীবাশ্ম

জোবায়ের মিলন

প্রকাশ: সোমবার, ৩১ মার্চ ২০২৫

কুয়াশা কর্পূর, কাল, অন্ধকারের জীবাশ্ম
ছবি: খবরওয়ালা গ্রাফিক্স

পুকুরটিতে এ যাবৎ কতজনের লাশ ভেসে উঠেছে–এর সঠিক হিসাব নেই কারো কাছে।

কেউ এ গ্রামের, কেউ পাশের গ্রামের, কেউ তারও পাশের গ্রামের। কেউ আবার বহুদূরের গ্রাম থেকে এসেও এখানে ঝাঁপ দিয়েছে রাতের নির্জনে।

কতবার যে পালাক্রমে পাহারা বসানো হয়েছে, কতবার যে সারা রাত প্রহরী দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে, কতবার যে দেখার চেষ্টা করা হয়েছে আড়াল থেকে–তার গণনা নেই। তারপরও আচমকা আচমকা এই আবদ্ধ জলে ভেসে ওঠে নরের দেহ, নারীর দেহ, শিশুর দেহ। কখনো চেনা, কখনো অচেনা-অজানা। মেম্বার আসে, চেয়ারম্যান আসে, হাবিলদার আসে, পুলিশের কর্তা আসে কিন্তু কোনো কূলকিনার মেলে না। প্রতিবার থানা থেকে রিপোর্ট দেয়–‘ইহা একটি আত্মহত্যা।’

শিশুরাও কি আত্মহত্যা করে! অজিতপুর গ্রামের মানুষের চোখেমুখে বিস্ময়ের শেষ নেই। তবে, যেহেতু পুকুরটি এই গ্রামের শরীর-ঘেঁষা এবং বাপ-দাদার আমলের কয়েক আমল আগের সেহেতু এটি তাদের আপন গর্বেরও। আবার শঙ্কারও। কারণ, কখন কার লাশ ভেসে ওঠে কেউ জানে না।     

 

পুকুরটি ভরাট করার পরিকল্পনা যে গ্রহণ করা হয়নি, এমন না। প্রচল আছে, দাদাপুরুষের সময় অজিতপুর থেকে দুই গ্রাম পরের দড়িরামপুর গ্রামের নবাব মিয়া চাঁন নামক এক ডিস্ট্রিক জজ সাহেবের উদ্যোগে প্রশাসনিকভাবে পুকুরটি ভরাট করার কাজ শুরু হয়েছিল। পুকুরটি ভরাট হয়নি। কাজ শুরুর কয়েক দিনের মধ্যেই ওই জজ সাহেবের প্রাপ্তবয়স্ক দুই পুত্র পরপর অকালপ্রয়াত হয় সামান্য জ্বরে। স্ত্রী পক্ষাঘাতে শয্যাগত। ছোট পুত্রটি মারা যাওয়ার আগে নাকি বলেছিল–‘এই পুকুরটা ভরাট না করলেই কি নয়?’ 

আরও একবার সাহস করেছিল ওই আসনের চার-চারবারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি মতিবাহার সমজ্দার। সেও নাকি মৃগীরোগে মৃত্যুবরণ করে, এই পুকুরে প্রথম সেচ-কল যুক্ত করার তৃতীয় দিনের শেষ-সন্ধ্যায়। তারপর বহুকাল, আর না। গ্রামবাসীর এ ও মাঝেমধ্যে উদ্যোগ নেয়, কিছুদূর পার হতেই উত্তরের বায়ুর মতো ঠান্ডা হয়ে আসে চেষ্টা-তৎপরতা। দরখাস্ত সড়ক পার না হতেই খরব আসে বড় সাহেবের বদলির। নতুন সাহেব যোগ দিয়ে কাজ-কর্ম শুরু করতে করতে এরমধ্যে আরও দু-একজনের দেহ ভেসে ওঠার খবর ছড়ায়। 

 

এমন পুকুর দশ গ্রামে বিরল। হ্রদের মতো বিশাল, ঊঁচু পাড়, ঘন গাছ, বেতঝাড়, ঝাউঝোপ, পাড়া থেকে খানিকটা আলাদা। কোন কালের কোন এজমালি সম্পত্তির কার ভাগ এটি, তার হদিস নেই। পানিতে ভরপুর থাকে বারো মাস। 

চৈত্রে যখন পানির অভাবে মাঠ চৌচির, জ্যৈষ্ঠে যখন পানির জন্য ত্রাহি ত্রাহি, মেঘহীন আসমানে ধলা মেঘের উড়ন আর পৌষে বাতাসেই পানির টান টান তখনও এই পুকুরে পানি থাকে কয়েক পুরুষ। শানবাঁধানো ঘাট। 

সে ঘাটের নির্মাতা কে, দলিল-দস্তাবেজে সেও পাওয়া যায় না। রথীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সময়কালের এক উদার জমিদারের নাম আসে কারো কারো মুখে, তাও অনিশ্চিত। তবে ঘাটে যেতে থরথর করে কাঁপে অনেকে। এ গ্রামের মইজু পাগলা ছাড়া তেমন কাউকেই দেখা যায় না খুব একটা। এমনকি দস্যু-দুরন্ত কাউকেও দেখা যায়-না কাঠফাটা গরমে এর কাছে ভিড়তে। কারো মুখে শোনা যায় শেকলের গল্প, কারো মুখে জিনের গল্প, কারো মুখে কালা ভূতের গল্প, কারো মুখ গড়িয়ে শোনা যায়–এক ধার্মিক দরবেশ গৃহযন্ত্রণায় এই পুকুরে ডুব দিয়ে উধাও হওয়ার পর তার আত্মা যে রাতে জেগে ওঠে, সেই রাতেই কারো না কারো মরদেহ ভেসে ওঠে আলগোছে। কোনোটা এক দিনের কোনোটা দুই, তিন, চার দিনের। 

 

মায়মুনার একা এক প্রাণ; কারো সাতে নেই, পাঁচে নেই। মা নেই, বাপ নেই, ভাই নেই, বোন নেই। জ্ঞাতিগোষ্ঠীর তেমন নেই কেউ। বিয়ের আঠারো দিনের মাথায় জগলুল তাকে ছেড়ে সেই-যে পুবের অঞ্চলে বদলা দিতে গেল আর ঘরমুখো হয়নি, সতেরো বছর হয়। বহু হাট, বহু ঘাট ভেঙে গেলেও মায়মুনার শরীর ভাঙেনি একফোঁটা। দিনকে দিন আরও ভরাট হয়েছে তার বাজু-বিছা, মাটিতে হস্তিনী পা চলে ধপধপ করে। নিতম্ব দোল খায় অবিকল কিংকং বলের মতো। উরুতে-স্তনে যেন ভরা কলসির জল থইথই। সদ্য কিশোরেরও চোখ গেঁথে যায় কামের লোভে, লালসায়; লালা বের হয়ে আসতে চায়, আসেও। বখাটে তরুণেরা সুযোগ পেলেই টিপ্পুনি কাটে, ইঙ্গিত করে, ঠেস মেরে কথা বলে একলা পেলে। তারা যে নিজের নিম্নরোষের ঝাল মেটায় আধকাঁচা হাতের মসৃণ মৈথুনে, তা তাদের কচি মুখে ফুটে থাকা গোটাগুলোই বলে দেয়। মায়মুনা ওইসবে দৃষ্টিপাত করে না। উত্তরাধিকার-বলে কয়েক খণ্ড জমি আছে, নিজেই চষে, নিজেই নিড়ায়, এটা ওটা ফলায়। যা পায় তা দিয়েই চলে যায়, হাত পাততে হয় না। মুখ পাততে হয় দশ মুখের ছোবল থেকে বাঁচার তাগিদে। সে মুখেও বাঁচে না। কোথায় বাঁচবে? কে বাঁচাবে? যে আলয়ে উদ্ধার চায় সেই আলয়ের খুঁটিতেই ঘুণে কাটার কুটকুট আওয়াজ মায়মুনার খাঁজকাটা শরীরে এসে বেশুমার বিঁধে। নিজেই তাড়িয়ে, খেদিয়ে নিজেকে আগলে রাখে নিজের আলে। এ এক যুদ্ধ। 

 

মফিউল চেয়ারম্যান কানে তোলে না কোনো কথা। লাগাতার নালিশ আসে শীতলকুণ্ডের হাজার অপকর্মের; দিনের আলোতে বোতল বেচাকিনি, ট্যাবলেটের হাট-বাজার, পাচার, পাড়া ব্যবসা, গরু, চিনি, কাপড়, তেল, স্বর্ণ চোরাকারবার।

পৌর-অঞ্চল থেকে লোক আসে, মফিউল চেয়াম্যানের বাড়িতে বড় হাড়িজুড়ে রান্না চড়ে, ভরপেট খাওয়া-দাওয়া, হৈচৈ। 

অঞ্চলের লোকেরা চলে যায় নতমুখে। তারাশংকরের মতো বৃদ্ধরা, আজাদের মতো যুবকেরা, রোকেয়ার মতো নারীরা সামনে দাঁড়ায়, কথা বলতে চায়, কথা শোনাতে চায়, দেখাতে চায় রাত ও দিনের নক্ষত্রগুলোর ফারাক। লোকেরা চোখের সামনে তুলে ধরে সদরকোর্ট, দেখায় গারদ, নির্বসনঘর। মিইয়ে যায় তাগড়া চোখ-মুখগুলো। মফিউল চেয়ারম্যান গঞ্জের দিকে রওনা দিলে নিগূঢ় রাত নামে। তার পেছন পেছন ছোটে দশ-পনেরোজনের লাঠ্যাল দল।

মৃত রাউফুনের মা মরিমরি করে মরে না। বুড়ি এ-ঘর ও-ঘর মাগে। লাঠিতে ভর দিয়ে চলে। চোখে দেখে ফকফকা। টনটনা কথা বলে। হাড়ে মাংসে একাকার, দেখতে শীর্ণ দেহ, প্রাণরসে পূর্ণ। চার কালের স্মৃতি তার মাথায়। কাপড়ে ভাঁজ দেয় তরুণীর শাড়ির ভাঁজের চেয়ে পুষ্ট করে। দেখতে অভিজাত নারীর সুরত হলেও দরিদ্রতার কষাঘাতে ন্যুব্জপ্রায়। ঠোঁট কাঁপে কথা বলার সময়। দাঁত গেছে আগেই। কেউ তার ঘরে চৌকির কোনে আরাম করে বসলে সে চালায় বিগত কালের কল। যারা কথা কুড়াতে জানে তারা কুড়িয়ে নেয় অনেক কিছু, যারা পছন্দ করে না তারা বুড়ির ‘বাড়তি কথা’বলে গা ছিটকায়। হামেজ যেন পাতা কুড়ানেওয়ালা। একটা একটা কথা তুলে নেয় সে; কত কাল আগে এই পুকুর খনন, কার হাতের কোদালে প্রথম কোপ; তখন কত ছিল এক সের চালের দর, গমের দাম, গাভীর দুধ, মটকা, জাবার; মহকুমা, মৌজা, সাং ইত্যাদি। পাকাপোক্ত না হলেও রাউফনের মা জানে তার কালে পুকুরটিতে ভেসে ওঠা কোন দেহের গ্রাম কোনটি, কোন দেহের গায়ের রং কেমন, কোথায় ছিল কী ক্ষত। এও জানে, একবার রাউফুনের দাদা বর্ষাকালের ঘোর বৃষ্টি আর ঘুটঘুটে অন্ধকারে পশ্চিমের ঘেটু-বিলে মাছ ধরা শেষে ঘরে ফেরার পথে জলের ওপর ঝপাৎ করে কী পড়ার আওয়াজ শুনেছিল, সাদা একটা ঝাপসা মতো কী ঝোপের ভেতর চলে গিয়েছিল মুহূর্তের পলকে…এসব শুনলে ‘ওই বুড়ির মাথা গেছে’বলে মফিউল খিস্তি দেয় প্রায়ই। চোখ রাঙানি দেয় হাসতে হাসতে। রাউফুনের মা মাটিতে দাগ দিয়ে দিয়ে হিসাবটা রাখতে চায়, যদিও সে হিসাব কেউ কানে নেয় না। মইজু পাগলা ফিসফিস করে রাউফুনের মার কানে কানে কদাচিৎ কয়, ‘বুজি, আমিও দেখছি একদিন।’

 

হরিতক মাওলা লিখিত দরখাস্ত করেছিল চার মাইল হেঁটে গিয়ে ভূমি অফিসে। আইন তাকে জুজুর ভয় দেখিয়ে বিদায় করেছে। হরিতক মাওলা তার মামাত ভাই তাজুলের সান্নিধ্যে অশ্রু-বিসর্জন দিতে দিতে সেই কথা বলেছে। তখন তার চোখে ছেঁড়া-ছেঁড়া ঝরা পাতার স্তূপ দেখা গিয়েছিল; সে পাতায় মায়মুনা চেয়েছে মন দিতে, সে পাতা জোড়া লাগাতে। মায়মুনা তারে সন্ধ্যার নিভুপ্রায় আলোতে কামনা করেছে বহু ইশারায়। তাজুল বাঁশিতে ফুঁ দিতে দিতে গাঙের পাড়ে গিয়ে বেহুঁশকরা সুর তুলেছে আনমনে। 

মায়মুনার জ¦লে ওঠা কুপি তখন তেল-কম বাতির মতো তড়পায়। একাত-ওকাত হয় । বাঁশির সুর বাতাসে হেলান দিয়ে ছড়ায় এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রাম, আরেক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে। কখনো বড় গাছের চূড়ায় বাড়ি খায় তো কখনো পল্লিবিদ্যুতের খুঁটিতে আঘাত পেয়ে দুমড়ে পড়ে, কখনো মাঠের ওপর দিয়ে, খেতের মাঝ দিয়ে উড়ে-খুঁড়ে যায়। মায়মুনার দুই হাত অস্থির, সাঁতার কাটে উজান নদীর এক ঢেউ ছেড়ে আরেক ঢেউয়ে। ম্যাচের কাঠি ফতফত করে যেমন জ্বলে তেমনি ফতফত করে জ্বলতে চায় তার ঢেউয়ের বাড়ি। তাজুল উদাস বায়। মায়মুনা ঝরনা-ঝরা কষজলে ভেজে আর ভেজে। আঙুলে আঙুলে জড়ায়। খুব চাপা স্বর ওঠে আবার তলিয়ে যায় নিজের কানের কাছে এসে। শব্দটা ব্যথার, ব্যথারও না; সুখের, সুখেরও না। সে অথই কাঁদে। তার বাপকে তার মনে পড়ে, তার ভাইকে মনে পড়ে। তারাও তাজুলের মতো এমনই বাঁশি বাজাত। বাঁশি সুর বাতাসে গা ভাসিয়ে ভাসত। কত মানুষ তা শরীরে মাখিয়ে হালকা হতো, হাসত, কাঁদত। তখন মায়মুনাদের জোত-জোত জমি। ঘরে-বাইরে মানুষ, অতিথি। একদিন এই রাক্ষস পুকুরে একসাথে দুইজনের দেহ! তখন মায়মুনা সবেমাত্র আট। রব উঠল, খুন। কয়েক দিন পর শোকে, তাপে চলে গেল মা। পঞ্চায়েত বলল–‘কালা ভূতের কী নির্দয় কাণ্ড।’

মজলিস বসেছিল। বিশ গ্রামে মাতব্বরে মাতব্বরে জায়গা হয় না। সুধাগঞ্জ পাইলট স্কুলের বিজ্ঞান শিক্ষক আবিদ উল্ল্যাহ বিতর্ক করল। ব্যাখ্যা করল। যুক্তি দেখাল। তালাত মেম্বার লাফ দিয়ে উঠে আবিদ মাস্টারকে প্রশ্ন করেছিল–‘ওই মিয়া তোমার সাং যেন কোনটা! তোমারে তো দেহিনাই আগে! কও-তো, বিজ্ঞান কি সত্য? কাফেররা বিজ্ঞান মানে, মুসলমানের আছে কোরআন, কিতাব, হাদিস। কোরআনে পড়ো নাই–জিন সত্য, জিনেরা মানুষের মতো চলাফেরা করে? বদজিনের ছায়াই তো কালা ভূত! কী কন উপস্থিত আফনেরা?’

কয়েকজন ‘হু-হু’করে। 

‘বসো মিয়া, বাপ-দাদার নাম নাই, আপনে মোড়ল।’

আবিদ মাস্টার দ্বিতীয় কারো সায় পায় না। আর কেউ তার সঙ্গে যুক্তিসঙ্গত গলা তোলে না। সে শেষ যুক্তিটি দেখিয়ে বসে পড়ে। সে তার মতামত জানিয়ে চলে যায় যে, এটা জিনের কাজ না, কালা ভূতের কাজ না। 

সেকেন্ড দারোগা ও তার হাবিলদারগণ তালাত মেম্বারের বাড়িতে সময় কাটিয়ে প্রস্থান নেয় রোদের তেজ কমলে, বিকালে। কয়েক দিন যেতে না যেতে লোকেরা ভুলে যায় গত দিনের কথা। দৈনন্দিন গৃহকাজ, জীবনে-যাপনে সামনে আগায় তারা। মানুষের স্মৃতিপট হয়তো এমনই, যেমন সমুদ্রসৈকত; জল আসে, স্রোত আসে, ফেনা আসে–পায়ের ছাপ মুছে যায়, ফের ছাপ পড়ে, ফের মুছে যায়। যেতে হয় হয়তো। 

অজিতপুরের ও আশপাশের মানুষ এর ভিন্ন নয়। শুধু ক্ষতটা তার গায়ে লটকে থাকে যার যায়। তারা ঝড়ে, বৃষ্টিতে, খরায়, শীতে খুঁজতে থাকে জিন, খুঁজতে থাকে কালা ভূত, খুঁজতে থাকে বিরাগের হারমোনিয়ামটা, যে হারমোনিয়ামের সুরে মাতাল হয়ে জলে ঝাঁপ দেয় কী সুন্দর মানুষেরা। 

কী দুঃখ তাদের? কী বেদনা পুষে তারা ছুট দেয় ওই দিকে? কী কষ্ট তাদের বুকের জমিনে লাঙল চালায় ফলা ফুলিয়ে? 

উত্তর মেলে না। কেউ উত্তর দেয় না। মিশ্র কথা মিশে থাকে বাতাসের থরে থরে। 

 

মাঝরাতে পূর্ণিমায় আকাশ উতাল। মায়মুনা জানালার পাট খুলে আকাশের দিকে তাকায়। আকাশ যেন তার হাতের কাছে। দরজা খুললেই যেন সে অপরূপ আকাশ হতে পারবে। উড়াল দিতে পারবে দিগন্তের ডানায়। সেখানে কেউ তাকে দেখবে না, শুনবে না, বুঝবে না। সে শুধু তার সঙ্গেই কথা বলতে পারবে মনের দুয়ার খুলে, একান্ত কথা; যা তাজুলকে বলা যায় না, সখি জামিরুনকে বলা যায় না, রাউফুনের মাকে বলা যায় না। শুধু তাকে বলা যায়, যে তার বাপের দেহ ছেদের আগের মুহূর্তটি ধরতে পেরেছিল, ছুঁতে পেরেছিল। যে সন্ধান দিতে পারে, বের করতে পারে জিনটা, কালা ভূতটা কখন আসে, কখন যায়, কতটুকু যায়, কাকে কাকে চেনে জিনের পরম দেবতা। মায়মুনার চোখ লেগে আসে। চাঁদটাও মেঘের আড়ালে যায়। একহারা অন্ধকার। মায়মুনার ঘরের দরজায় মৃদু টোকা পড়ে, ফ্যাসফ্যাস কণ্ঠস্বর–‘খুল মায়মুনা, দরজাডা খুল, আমি সারদুল সরদার।’ 

লাগাতার টোকায় চোখ খুলে যায় মায়মুনার। দরজা খোলে না সে। এই টোকাগুলো মায়মুনার চেনা, এই স্বরগুলো মায়মুনার পরিচিত। এই শব্দগুলো মায়মুনা পড়তে পারে, এই আকুতি-মিনতি, অনুরোধের অর্থ কী, মায়মুনা জানে; যাদেরকে সকাল হলেই আর দেখা যায় না, খোলস পাল্টে তারা অন্য মানুষ। আরেক মানুষ। সারা রাত মায়মুনা সে পায়ের আওয়াজ পায়। কতরকমের আওয়াজ। অজিতপুরের শেষ সীমার দিকে বর্ডার-লাগানো আধা-সড়কের পাশে ঘরটায় শুয়ে মায়মুনা টের পায় আরও আরও অনেক। সেই অনেক অনেকেই জানে। যারা জানলে কালা ভূত পালায়, তারা অন্ধ; তাদের কান নেই জন্ম থেকেই, অথবা বিক্রি করে দিয়েছে, অথবা সে চোখে ছানি পড়া, কানের পর্দা ফাটা, পুঁজ পড়ে সারা দিন। মাস, বছর। 

মায়মুনা, তাজুল, রাউফুনের মা, হরিতক মাওলা, আবিদ মাস্টার ছোট ছোট টিলা। তারা পর্বত না। পর্বত টিলার গায়ে পা রেখে পথ চলে। ককিয়ে উঠলেই পিষে দেয় খরমের অদৃশ্য খুড়ায়। আবার সরব হয় ঝিঁঝির ডাক, শেয়ালের হুক্কাহুয়া। বড় বড় বেজির দৌড়ে-চলার খচ্-খচ্ শব্দ। হাতির চলন মতো ভারী আধ্বান। 

‘মাগী যা চাস তা-ই পাবি, খুল। বর্ডারের অইপাড়ে নিয়া যামু তোরে। তাজমহল দেহামু। ঘর দিমু। সংসার দিমু, জমি-জিরাত…নইলে কিন্তু।’

গামারি কাঠের পুরনো দরজাটা যেন ভেঙে যায়, যেন ঝড়ে উড়িয়ে নেয়, আরও কয়েকটা স্বর যোগ হয়–‘খুল মায়মুনা, যদি ভালা চাস খুল।’ 

মায়মুনার মনে খেদ, জ্বালা, যন্ত্রণার হিসহিস; আর কত! অন্য দিনের মতো মায়মুনা আর চুপ থাকে না। 

‘না, খুলুম না, তোমরা যাও। এত দিন কিচ্ছু কই নাই। কাউরে বলি নাই। আর না। সদরে কাইলই যামু, হুনছি বড় দারগা আইছে, তারে সব কইয়া দিমু, যা যা জানি। যাও, যাও কইছি।’ 

বিষধর সাপের মতো ফোঁস ফোঁস করে কিছু স্বর, কিছুক্ষণ, ‘মনে রাখিস।’ 

তারপর নীরব হয় রাস্তার পাশের ছোট্ট উঠান। মায়মুনা ঘুমে তলায়।

 

পরের হাটবার। ঝিলিক দেয় প্রথম রোদ। বৃক্ষ-লতার ফাঁক-ফোকর দিয়ে আলো পড়ে মাঠে, মাটিতে। পাতায় নরম বাতাস। মাত্রভূমিষ্ঠ শিশুর মতো সূর্য মাথা তুলেছে। পুকুরটির চারপাশে উপচেপড়া ভিড়। কানাকানি, ফিসফাস। নারীরা আঁচলে মুখ-ঢাকা, উৎকণ্ঠিত। পুরুষেরা নামমাত্র জামা গায়ে, সচরাচর। ভিড়-বাড়া লোকেদের অবয়বে জিজ্ঞাসা–‘আবার!’

শিশুরা তাদের মতোই, খেলায় মশগুল, দু-চারজন ভয়সংকুল। কাছের গ্রাম হয়ে আগত কারো কারো দূরছায়া দেখা যায় খেতের আল ধরে আসা-যাওয়ায়। পুকুরটির রূপ যা, আজও তা। চেনা-অচেনা মানুষের বিমূর্ত দৃষ্টিতে কুয়াশাকর্পূর। যেন তারা শত শত জানতে চাওয়া নিয়ে উপস্থিত অথচ নিশ্চুপ। 

দক্ষিণের পাড় ছুঁয়ে ভেসে আছে একটি বিবস্ত্র শরীর। স্ফীত, চিৎ হওয়া। 

দুপুর ঘনালে একদল পুলিশ এসে লাশটি চাটাইয়ে মুড়িয়ে থানার ডোম আরোক, বশির, সুখেন, হাজনের কাঁধে চড়িয়ে রওয়ানা দেয় থানার দিকে। পেছনে উৎসুক মানুষের সারি। আবিদ মাস্টার পুকুরপাড়ে ভিড়ের মধ্যে গলা উঁচিয়ে কাকে যেন বলে–‘জিন বলে কিচ্ছু নাই, জিন সত্য না, থাকলেও জিনেরা মানুষের শত্রু না। মানুষ মারে না জিনে, মানুষের শত্রু কিছু মানুষ, অন্ধকারের মানুষ।’ 

পাশে একটা বিলাপের সুর বইছে অনেকক্ষণ ধরে। একজন জিজ্ঞাসা করল, কান্না করে কে? 

বালক মইদুল বলে উঠল–‘রাউফুন কাকার মায় কানতাছে।’