মঙ্গলবার, ২ই জুন ২০২৬, ১৯শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২ই জুন ২০২৬, ১৯শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ :
ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু

ঈদ সংখ্যা ২০২৫

মিসরের পথে-প্রান্তরে

দিলরুবা নাসরীন

প্রকাশ: সোমবার, ৩১ মার্চ ২০২৫

মিসরের পথে-প্রান্তরে
গর্বের সাথে দাঁড়িয়ে আছে গিজা মালভূমি, গিজার স্ফিংস এক বিশ্বের সবচেয়ে প্রতীকী এবং রহস্যময় স্মৃতিস্তম্ভ। ছবি: খবরওয়ালা কোলাজ

মিসরের পথে-প্রান্তরে, প্রথম পর্ব

হঠাৎ করেই মিসরের রক্তিম মাটিতে পা রাখলাম ২০২৫-এর জানুয়ারির ২৭ তারিখে। দূরের এক রহস্যময় দেশ, দক্ষিণ আফ্রিকার সীমানায়। কায়রোর বিমানবন্দরে পৌঁছলাম বিকেলের গোধূলিতে, সেখান থেকে বের হতে হতে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এল। সেখানে ছিল অন অ্যারাইভাল ভিসা, তাও কিছুটা সময়সাপেক্ষ ছিল। ফর্মালিটি শেষ করতে করতেই অনেকটা সময় চলে গেল। তবে আমাদের ট্রাভেল এজেন্টের প্রতিনিধি গাড়ি নিয়ে হাজির ছিল। আমরা রওনা হলাম হোটেলের উদ্দেশে।

খুফুর পিরামিড। ছবি: ব্রিটেনিকা

হোটেলটা ছিল মুগ্ধকর, তবে শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে বেশ কিছুটা দূরে। মনে হয়, এজেন্টরা চাইছিল আমাদের পিরামিডের কাছাকাছি থাকতে। এর সুবিধা-অসুবিধা দুই-ই ছিল, তবে শেষমেশ রাতটা সুরম্য ঘরে বিশ্রাম নিয়ে কাটালাম। পরদিন সকালে আমরা পিরামিড দর্শনের জন্য বেরিয়ে পড়লাম। এজেন্টের গাইড ছিল সঙ্গে। টিকিট আগেই কাটা ছিল, তাই কোনো বিপদ ঘটেনি।

যতটা দূর থেকে তাকালাম, ততটা অবিশ্বাস্য মনে হলো। বিশ্বের এক অমোঘ রহস্য, তিনটি পিরামিড একে একে চোখে পড়ল—খুফুর পিরামিড, খাফরির পিরামিড এবং মেনকাওরির পিরামিড। সবচেয়ে বড়টা, খুফুর পিরামিডের কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে দেখলাম, কী অবিশ্বাস্য! প্রায় সাড়ে চার হাজার বছর আগের এই পাথরের নির্মাণ, যেগুলোর ইতিহাসে লুকিয়ে আছে হাজারো মানুষের ঘাম-রক্ত ও নির্যাতনের গল্প। পাথরের ব্লকগুলো কত বড়, কত ভারী, সে সম্পর্কে চিন্তা করলেই অবাক হতে হয়।

ঈজিপসিয়ান মিউজিয়ামে মমির কফিন। ছবি: দিলরুবা নাসরীন

গাইড বলল, এই বিশাল ব্লকগুলো নাকি নদীপথেই আনা হয়েছিল। তিনটি পিরামিড একটু দূরে, দুর্দান্তভাবে সাজানো—বাবা, ছেলে আর নাতির পিরামিড। হাজারো পর্যটক এখানে এসে প্রতিমুহূর্তে কল্পনার মাঝে হারিয়ে যায়, পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্য! এর পাশে দাঁড়িয়ে সত্যিই যেন মনে হয় সময় এখানে থমকে আছে। এরপর গেলাম স্ফিংকসের কাছে। তার অদ্ভুত গঠন—মানুষের মুখ আর সিংহের শরীর—এক অভূতপূর্ব সৃষ্টি!

একটা মজার ব্যাপার ছিল, আমাদের সবাইকে সেখানকার লোকেরা ইন্ডিয়ান ভেবেছিল। আমার সালোয়ার-কামিজ তাদের খুবই পছন্দ হয়েছিল, অনেকেই এসে ছবি তুলতে চাইছিল। গাইড বলল, শাহরুখ খান আর কারিনা কাপুর ওখানে অসম্ভব জনপ্রিয়।

পিরামিডের তিনটি চূড়ান্ত দৃশ্য দেখে আমরা মিউজিয়ামের দিকে পা বাড়ালাম। মিউজিয়ামটায় ছিল এক অদ্ভুত ঐতিহ্য ও মহিমার স্পর্শ। প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনগুলো দেখে মন উল্লসিত হলো। সেখানে সোনালি গয়না, নানা ধরনের ব্যবহার্য বস্তু—আর সবচেয়ে চমকপ্রদ ছিল মমি। ১৭-১৮টি মমি দেখে আমি বিস্মিত হলাম। সেখানে ছিল মমির পরিচিতি, নাম, ইতিহাস—সবকিছুই লেখা ছিল। মমির ছবি তোলা নিষিদ্ধ ছিল, তাই আমরা কিছুই তুললাম না, যদিও অনেকেই গোপনে ছবি তুলছিল। মিউজিয়ামের সিকিউরিটি ছিল অত্যন্ত কঠোর।

সাতশো বছরের পুরানো খান ই খলিলী বাজার ৷ ছবি: দিলরুবা নাসরীন

এসব দেখে শেষ করে আমরা আবার ফিরলাম হোটেলের দিকে, মনে মনে একটা অবিস্মরণীয় দিনকে সঙ্গী করে।

 

মিসরের পথে-প্রান্তরে, দ্বিতীয় পর্ব

 

২৯ জানুয়ারি। আজ আমরা রওনা হব আলেকজান্দ্রিয়ার দিকে, সেই নগরী, যেখানে ইতিহাস আর সৌন্দর্য এক হয়ে গেঁথে আছে। হোটেলের স্বাগত বর্ণনা শেষে ব্রেকফাস্টের পর আমরা অপেক্ষা করছিলাম গাইড আর গাড়ির জন্য, যেন নতুন এক যাত্রার সূচনা। অল্প সময়ের মধ্যে গাইড এবং গাড়ি এসে পৌঁছাল। কায়রো থেকে আলেকজান্দ্রিয়ার দূরত্ব ছিল অনেকটা, সাড়ে তিন ঘণ্টার পথ। গাড়ির জানালা দিয়ে বাইরের দৃশ্য দেখতে দেখতে যেন একটা অদ্ভুত স্থানে পৌঁছে যাচ্ছিলাম—মিসরের মরু প্রান্তরে।

এটা তো ঠিক, মিসর এক বিস্মৃত মরুভূমি। সবুজের ছোঁয়া দুর্লভ, আকাশের সোনালি রঙে মিশে গেছে বালি আর রুক্ষতার গল্প। তবে মাঝে মাঝে কিছু অজানা গাছপালা চোখে পড়ছিল, কিছু খেজুরগাছ আর বড় ক্যাকটাসগাছ, যেন মিসরের চিরন্তন জীবনদৃষ্টি। তার মধ্যেই আমরা আমাদের গন্তব্যে পৌঁছলাম, আলেকজান্দ্রিয়ায়।

আলেকজান্ড্রিয়ায় পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে ভূ মধ্য সাগরের সুনীল জলরাশি ৷ ছবি: দিলরুবা নাসরীন

প্রথমে আমাদের নিয়ে যাওয়া হলো ‘কাটাকম্ব’ নামক এক প্রাচীন সমাধিক্ষেত্রে। এখানে যেন এক অদ্ভুত গা-ছমছমে পরিবেশ। ছোট-বড় কক্ষবিশিষ্ট এক সমাধিস্থল, যার দেয়ালে আঁকা ছিল দেবদেবীদের ছবি—একেকটি ছবি যেন কোনো এক হারানো যুগের সাক্ষী। এই জায়গা ছোট, তবে তার অন্ধকার কোণে ছড়িয়ে ছিল হাজার বছরের রহস্য। কী যেন ছিল এখানে, যা আমাদের মনের মধ্যে এক গভীর শান্তির অনুভূতি ছড়িয়ে গেছে।

এরপর রওনা হলাম রোমান এম্পিথিয়েটারের দিকে। দূর থেকে মনে হচ্ছিল যেন এক সুদূর অতীতের আবেগে ভাসছে, আর যতই কাছে পৌঁছাচ্ছি, ততই তার বিশালতা চোখে পড়ছে। এক বিস্ময়কর চত্বর, দর্শকদের জন্য সুরুচিপূর্ণ ব্যবস্থা—এই থিয়েটার যেন এক বিশাল শিল্পকর্ম! রোমান শাসকদের সেই যুগের ছোঁয়া, যা আজও জীবিত, যেন ক্লিওপেট্রা ও নেফারতিতির যুগের ধারাবাহিকতা! সৌন্দর্য, ঐতিহ্য, ইতিহাস—সবকিছু যেন একসুরে বাঁধা।

তারপর সামনে এসে দাঁড়াল আলেকজান্দ্রিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ দুর্গ—‘সিটাডেল অব কাইটবেই’। ভূমধ্যসাগরের পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই দুর্গ, যেন প্রকৃতির গোপন কথা বলে। এখান থেকে সমুদ্রের নীল রঙের সঙ্গে আকাশের মিলনে এমন এক রূপের সৃষ্টি যে তা যেন চিরকাল থাকুক, শাশ্বত। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে, সুশীতল বাতাসে মন যেন এক অজানা ভালোবাসায় বিভোর হয়ে যায়।

লাঞ্চের সময় হলো এবং সমুদ্রের পাশে এক রেস্তোরাঁয় বসে সি ফুডের রোমাঞ্চে ডুবে গেলাম। তবে মিসরের খাবার আমাদের জন্য পুরোপুরি সুখকর ছিল না—এটা ছিল এক নিত্যনতুন অভিজ্ঞতা, যা হৃদয়ে তেমন দাগ রেখে গেল না। কিছুক্ষণের স্ট্রিট শপিংয়ের পর আমরা রওনা দিলাম কায়রোর উদ্দেশে।

পথে ফিরে আসতে আসতে মনে হলো, আলেকজান্দ্রিয়া—এ শহর, আলেকজান্ডারের স্বপ্নের শহর, এখানকার সৌন্দর্য আর ইতিহাস, একসঙ্গে মিশে মনের গহিনে গেঁথে যাবে। এই দিনটি, এই স্মৃতি—যত দিন বাঁচব, এই সৌন্দর্য আমাদের হৃদয়ে চিরকাল জ্বলজ্বল করে থাকবে, কখনোই মুছে যাবে না।

আলেকজান্ড্রিয়ায় দৃষ্টিনন্দন ক্যাসেল, সিটাডেল অফ কাইট বে ৷ ছবি: দিলরুবা নাসরীন

 

মিসরের পথে-প্রান্তরে, তৃতীয় পর্ব

 

মিসরে কাটানো পাঁচটি দিন যেন এক মহাকাব্যের অদৃশ্য পৃষ্ঠা। তার মধ্যে দুই দিন ছিল গাইডের তত্ত্বাবধানে। গাইডের সঙ্গের সুবিধা ও অসুবিধা—দুটিই ছিল। অচেনা দেশে গাইড থাকাটা অবশ্যই দরকার, কিন্তু মাঝে মাঝে মনে হতো, গাইড যেন কাবাব মে হাড্ডি, এক অপ্রত্যাশিত উপস্থিতি। তবে শেষ তিন দিন, আমরা একা, স্বাধীনভাবে ঘুরেছি, নতুন অভিজ্ঞতার গন্ধে গা ভাসিয়ে।

প্রথমেই চলে গেলাম কায়রোর ৯০০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী খান-ই-খলিলি বাজারে। অদ্ভুত সুন্দর, রহস্যময় এই বাজার। মনে হয় আমাদের দেশের নিউমার্কেটের মতো হলেও, এখানে ছিল অলিগলি, পথের আনাচে-কানাচে আবেগের ছোঁয়া। মিসরের ঐতিহ্য ছড়িয়ে আছে প্রতিটি দোকান, প্রতিটি কাচ, প্রতিটি স্যুভেনিরে। প্যাপিরাসের দেয়ালচিত্র, ইজিপশিয়ান কটনের পোশাক, মেয়েদের মনোহর অলংকার—এসবই যেন এক স্বপ্নমালা। আর ছিল টার্কিশ বাজার, হাতে তৈরি ল্যাম্পশেড, চামড়ার সামগ্রী, মসলা—সবকিছুতেই যেন এক মায়াবী রকমের রং, গন্ধ, রূপ। কেনাকাটা নয়, বাজারটি শুধু দেখাই ছিল এক অমূল্য অভিজ্ঞতা। আর বিপরীতেই ছিল সেই বিশ্ববিখ্যাত আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, যেন এক প্রাচীন গৌরবের সাক্ষী।

১৯৮৮ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পাওয়া নাগিব মাহফুজের সেই বিখ্যাত ক্যাফে, যেখানে তিনি বসতেন, সেটি দেখে আবার মনটা উজ্জ্বল হয়ে উঠল।

খান-ই-খলিলি থেকে হোটেলে ফিরলাম উবারে, যেন এক প্রাচীন শহরের যাত্রা শেষ হলো। রাত আটটায় গেলাম নীল নদের ক্রুজ ডিনারে। অভিজ্ঞতা ছিল ভালো, তবে ব্যাংককের ট্রুফুজ ডিনারের মতো রোমাঞ্চিত করল না। তবে মিসরের ঐতিহ্যবাহী সুফি নৃত্য ও বেলি ড্যান্স দেখার অভিজ্ঞতা ছিল এক নতুন পৃথিবীর সন্ধান।

ছবি: দিলরুবা নাসরীন

তারপর দুই দিন, নিউ কায়রো ঘুরে বেড়ালাম। মিসরের বিপ্লবের ইতিহাসে আরব বসন্তের সূতিকাগার তাহেরি স্কয়ার, আর তার পাশেই ঝকঝকে শপিং মলগুলো—সবকিছু যেন এক উত্তাল সময়ের স্বাক্ষর। মিসরের রাস্তাঘাট বিস্তৃত, প্রশস্ত আর যোগাযোগব্যবস্থা অত্যন্ত উন্নত। দাম তুলনামূলক কম, কেনাকাটা করতে একধরনের আরাম আছে।

ডলার, ইজিপশিয়ান পাউন্ড—সবকিছুতেই এক আন্তর্জাতিকতা। তবে মাঝে মাঝে দারিদ্র্যের কিছু চিহ্নও চোখে পড়ছিল, যেন আমাদের দেশের মতো, রাস্তায় ফুটফুটে ছেলেমেয়েরা ফুল, টিসু, খাবার বিক্রি করছে। এসব দেখে মনে হলো, পৃথিবী এক মায়ার জাল, এক অসীম শূন্যতা আর অগণিত মুখাবয়ব নিয়ে ঘুরেফিরে আসে।

সব মিলিয়ে মিসর সফর ছিল এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। আসলে হাতে পর্যাপ্ত সময় না থাকলে একটি দেশের সত্যিকারের পরিচয় পাওয়া কঠিন। রাজধানী দেখে একটা দেশের পুরো ইতিহাস, সংস্কৃতি—সবকিছু যেন ধোঁয়াশা হয়ে থাকে। তবে অল্প সময়ের মধ্যে আমরা দেখেছি অনেক কিছু, বুঝেছি অনেক কিছু।

পাঁচ দিন মিসরে কাটিয়ে সৌদি এয়ারলাইনসে রিয়াদ হয়ে আমরা ফিরে এলাম ঢাকায়। সে এক বিশাল যাত্রা, এক রুদ্ধশ্বাস পথ। মিসরের স্মৃতিগুলো আমাদের মনের গহিনে অঙ্কিত থাকবে অনেক অনেক দিন, এক অমলিন ছায়ার মতো।