খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত গানের আলোচিত শিল্পী ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল গানবাংলার চেয়ারম্যান কৌশিক হোসেন তাপস-এর দেশের বাইরে যাওয়া স্থগিত করেছেন। আদালত একই সঙ্গে তাপস, তাঁর স্ত্রী ফারজানা মুন্নী (ফারজানা আরমান) এবং তাদের সন্তানদের নামে থাকা আয়কর নথি সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছেন। এই আদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর আবেদনের প্রেক্ষিতে জারি করা হয়েছে।
সিআইডির উপপুলিশ পরিদর্শক মেহেদী হাসান আদালতে জানান, তাপসের বিরুদ্ধে উত্তরা পূর্ব থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা রয়েছে। এই মামলার প্রাথমিক তদন্তে তাঁকে মানি লন্ডারিং-এর সঙ্গে জড়িত থাকার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। সুতরাং, দেশের বাইরে গেলে তাপস পলাতক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই কারণেই আদালত তার বিদেশ যাত্রা নিষিদ্ধ করেছেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সিআইডি জানাচ্ছে, তদন্তের স্বার্থে তাপস ও তাঁর পরিবারের আয়কর নথি পর্যালোচনা অত্যন্ত জরুরি। অনুসন্ধান অনুযায়ী, তাপসের স্থাবর এবং অস্থাবর সম্পত্তির তথ্য সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন সরকারি দপ্তরকে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। অধিকাংশ চিঠির জবাব পাওয়া গেলেও তাপস এবং তার পরিবারের নামে থাকা আয়কর নথি এখনও পাওয়া যায়নি।
সিআইডি-এর আবেদনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নরূপ:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| অভিযুক্ত | কৌশিক হোসেন তাপস |
| পরিবার | স্ত্রী: ফারজানা মুন্নী, সন্তানরা |
| মামলা | হত্যাচেষ্টার মামলা, মানি লন্ডারিং অনুসন্ধান |
| অনুসন্ধানকারী | সিআইডি, উপপুলিশ পরিদর্শক মেহেদী হাসান |
| আদালতের আদেশ | বিদেশ যাত্রা নিষেধ, আয়কর নথি তলব |
| প্রাথমিক ঘটনা | ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর তাপস আটক, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে গ্রেপ্তার, জামিনে মুক্তি জুন ২০২৫ |
তাপসকে ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর প্রথমে আটক করা হয়েছিল। পরে জুলাই ২০২৪-এর গণ–অভ্যুত্থানের সময় হত্যার কয়েকটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সাত মাসের বেশি সময় কারাগারে থাকার পর ২০২৫ সালের জুনে জামিনে মুক্তি পান।
তদন্তকারীদের মতে, তাপসের বিদেশে যাওয়া থামানো এবং আয়কর নথি সংগ্রহ করা মানি লন্ডারিং ও সম্ভাব্য অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানকে আরও কার্যকর করবে। এটি দেশের অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।