খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 28শে মাঘ ১৪৩২ | ১০ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
সামনের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন সরগরম। শিশু থেকে বৃদ্ধ, কৃষক থেকে কবি—সবার মুখে মুখে চলছে ভোট ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার আলোচনা। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের লোকসংগীত ও বাউল শিল্পের অন্যতম জনপ্রিয় শিল্পী আবদুল কুদ্দুস বয়াতিও নিজের বক্তব্য দিয়ে নির্বাচনী বিতর্কে সরব হয়েছেন।
সোমবার (৯ জানুয়ারি) রাতে কুদ্দুস বয়াতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টে লিখেছেন, “গানকে হারাম বলা দলটাও গানে গানে ভোট খুঁজছে।” তবে পোস্টে তিনি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে নাম উল্লেখ করে আক্রমণ করেননি। তার এই মন্তব্যের পর কমেন্ট সেকশনে শিল্পীকে সমর্থন জানানো মানুষের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বয়াতি সামাজিক মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আগেও সরব থেকেছেন। তার মন্তব্য প্রায়ই দেশের নাগরিক ও যুব সমাজের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। লোকসংগীত ও বাউল শিল্পের এই চিত্রনায়ক নিজেকে জনগণের সঙ্গে সংযুক্ত রাখতে ও সমাজের নানা বিষয় তুলে ধরতে সচেষ্ট থাকেন।
আবদুল কুদ্দুস বয়াতি তার শিল্পীজীবন শুরু করেন ১৯৯২ সালে। প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের নির্দেশনায় নির্মিত প্রাথমিক শিক্ষার প্রচারণার অংশ হিসেবে তিনি “এই দিন, দিন না আরো দিন আছে” শিরোনামের একটি গান গেয়ে পরিচিতি পান। পরে তিনি কোভিড-১৯ মহামারীর সময়ে ব্র্যাকের পক্ষ থেকে তৈরি “জাইনা চলেন, মাইনা চলেন” শিরোনামের সামাজিক সচেতনতা মূলক গানে অংশ নেন।
বর্তমানে পর্যন্ত কুদ্দুস বয়াতি দুটি একক অ্যালবাম প্রকাশ করেছেন। এছাড়া তিনি অসংখ্য জনপ্রিয় বিজ্ঞাপণচিত্র, নাটক ও প্রামাণ্যচিত্রে গান গেয়ে সাধারণ মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছেন।
তার বাড়ি বাংলাদেশের নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার রাজীবপুর গ্রামে।
নিচের টেবিলটি কুদ্দুস বয়াতির শিল্পীজীবন ও প্রধান অবদান সংক্ষেপে উপস্থাপন করছে:
| শিরোনাম/বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| জন্মস্থান | রাজীবপুর, কেন্দুয়া, নেত্রকোনা জেলা |
| পরিচিতি | ১৯৯২ সালে “এই দিন, দিন না আরো দিন আছে” গান |
| বিশেষ কাজ | ব্র্যাকের কোভিড-১৯ সচেতনতামূলক গান “জাইনা চলেন, মাইনা চলেন” |
| প্রকাশিত একক অ্যালবাম | ২টি |
| অন্যান্য অবদান | বিজ্ঞাপণচিত্র, নাটক, প্রামাণ্যচিত্রে গান |
| সামাজিক ভূমিকা | দেশের বিভিন্ন বিষয়ে সামাজিক মাধ্যমে সরব, ভোট ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় মন্তব্য |
কুদ্দুস বয়াতির সাম্প্রতিক মন্তব্য প্রমাণ করছে যে, দেশের সমাজ ও রাজনীতিতে তিনি কেবল একজন শিল্পী নন, বরং সামাজিক সচেতনতার একজন গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর। ভোট ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি এবং গানকে কেন্দ্র করে সামাজিক বার্তা প্রদান অনেকের জন্য প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করছে।