খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
ভারতের শীর্ষ পর্যটন রাজ্য গোয়া শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের পথে এগোচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোর অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে রাজ্য সরকার ১৬ বছরের নিচে শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার সীমিত করার সম্ভাব্য পরিকল্পনা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেশের প্রায় ১০০ কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীয়ের মধ্যে শিশু ও কিশোর-কিশোরীর সংখ্যা বিপুল হওয়ায় মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
গোয়ার তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রী রোহন খাউন্তে জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়ার আইন ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শিশুদের সুরক্ষায় একটি কার্যকর ব্যবস্থা প্রণয়ন করা হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, “যদি সম্ভব হয়, ১৬ বছরের নিচে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করা হবে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।”
গোয়া, যার জনসংখ্যা আনুমানিক ১৫ লাখ, ভারতের তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে ছোট রাজ্য হলেও পর্যটন ও প্রযুক্তি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দক্ষিণী রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশ, যার জনসংখ্যা পাঁচ কোটির বেশি,ও একই ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের পথে রয়েছে। সেখানে সম্প্রতি জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীদের নিয়ে একটি প্যানেল গঠন করা হয়েছে, যা এক মাসের মধ্যে শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের নিয়ন্ত্রণে সুপারিশ দেবে।
বিশ্বব্যাপী শিশুদের অনলাইন সুরক্ষায় অস্ট্রেলিয়া প্রথম দেশ হিসেবে ২০২৫ সালে ১৬ বছরের নিচে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। প্রথম মাসেই প্রায় ৪৭ লাখ কিশোর-কিশোরীর অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করা হয়। এ উদ্যোগের প্রভাব ও ফলাফল পর্যবেক্ষণ করে ফ্রান্স, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং অন্যান্য দেশও অনুরূপ পদক্ষেপ বিবেচনা করছে।
নিচের টেবিলে কিছু মূল তথ্য সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| রাজ্য | গোয়া |
| জনসংখ্যা | ~15 লাখ |
| লক্ষ্য বয়স | 16 বছরের নিচে |
| উদাহরণ দেশ | অস্ট্রেলিয়া |
| প্রথম মাসে নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্ট | 47 লাখ |
| সম্ভাব্য অনুসরণকারী দেশ | ফ্রান্স, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, অন্ধ্রপ্রদেশ |
| মূল উদ্বেগ | শিশু ও কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য, অনলাইন নিরাপত্তা |
বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিশুদের সৃজনশীলতা ও শিক্ষার জন্য সহায়ক হতে পারে, তবে সীমাহীন ব্যবহার মানসিক চাপ, নিদ্রাহীনতা ও একাকীত্ব বৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই গোয়া ও অন্ধ্রপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলোর পদক্ষেপ শিশুদের সুরক্ষায় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভারতীয় রাজ্য পর্যায়ে শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা শক্তিশালী হবে এবং আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটেও একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন হবে।